দিনভর ঢামেকে স্বজনদের আর্তনাদ
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪৩
দিনভর ঢামেকে স্বজনদের আর্তনাদ
খলিলুর রহমান ও বুলবুল চৌধুরী
প্রিন্ট অ-অ+

কেউ বসে কান্না করছেন। আবার কেউ দাঁড়িয়ে কান্না করছেন। আবার কেউ কেউ হাউ মাউ করে কান্নায় ভেঁঙে পড়েছেন। এক কথায় তাদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টম্বর) সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগ, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও ঢামেক মর্গের সামনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।


এর আগে শুক্রবার রাতে এশার নামাজের সময় নারায়ণগঞ্জ শহরে বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দগ্ধ ৩৭ জনকে শক্রবার রাতেই শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। আজ রাত সাড়ে আটটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।


সরেজমিন দেখা গেছে, হাহাকার আর গগন বিদারী আর্তনাদ। আজ সকালে ইব্রাহিম বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি মারা যান। কিন্তু সে খবর কোনোভাবেই মানতে পারছেন না তার স্ত্রী। তাই শোকে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। শুধু ইব্রাহিম নয়, একেকটি পোড়া দেহের মৃত্যু খবরে স্বজনদের আহাজারিতে এমনিভাবে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গন। যেন হৃদয় বিদারক এ ঘটনায় শান্তনা দেয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন সবাই।


ক্ষুব্ধ স্বজনরা বিবার্তাকে বলেন, বছরের পর বছর ধরে মসজিদ কমিটিকে গ্যাস লিকেজের কথা বললেও তারা কর্ণপাত না করাতেই হারাতে হলো এতোগুলো তাজা প্রাণ। একজন বলেন, 'সামান্য একটা বিষয় কোম্পানীকে বলার পরেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি।'


ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, দুপুরে দুজন মারা যায়। এরপর বিকালে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়। রাত ৮টার দিকে মো. বাহারউদ্দীন (৫৫) নামে আরো একজনের মৃত্যু হয়। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জন হয়।


তিনি আরো জানান, নিহতদের মধ্যে জোবায়ের (১৮) ও সাব্বির (২১) দুই ভাই। তাদের বাসা নারায়ণগঞ্জের তল্লায়। সাব্বির বিএ পাস করেছেন। জোবায়ের তোলারাম ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মারা যান ছেলে জুনায়েদ (১৬)। দুদিন আগে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থেকে বাবার কাছে এসেছিলেন জুনায়েদ।


মসজিদটির ইমাম কুমিল্লার মুরাদনগরের পুটিয়াজুড়ি গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে আব্দুল মালেকও মৃতদের মধ্যে রয়েছেন।


নিহত অন্যরা হলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার হাটবুকদিয়া গ্রামের কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), চাঁদপুর সদর উপজেলার করিম মিজির ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জুলহাস ফরাজির ছেলে জুয়েল (৭), পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে গার্মেন্টস কর্মী মো. রাশেদ (৩০), নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকার হুমায়ুন কবির (৭২), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালি গ্রামের মো. বেলায়েতের ছেলে জামাল আবেদিন (৪০), গার্মেন্টস কর্মী ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), নারায়ণগঞ্জ নিউ খানপুর ব্যাংক কলোনির কলেজ শিক্ষার্থী মো. রিফাত (১৮), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শেখদী গ্রামের মৃত মহসিনের ছেলে মাইনুউদ্দিন (১২), ফতুল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে জয়নাল (৩৮), লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক পলাশী গ্রামের গার্মেন্টসকর্মী নয়ন (২৭), নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার আব্দুল খালেকের ছেলে বাহার উদ্দিন (৫৫) এবং ফতুল্লার তল্লার কাঞ্চন হাওলাদার (৫০)।


এদিকে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ১৬ জনের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয় স্বজনদের কাছে। বাকিদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর।


শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম হোসেন খান বলেন, স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শনাক্তের পর বিনা ময়নাতদন্তে ১৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন।


বিবার্তা/খলিল/জাই

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com