বেসিসসদস্য প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৪৫
বেসিসসদস্য প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রয়োজনীয় সংখ্যক সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অবাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে অব্যাহতি দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।


সেইসাথে বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য রাজউক চেয়ারম্যান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই অব্যাহতি সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারি করার জন্য অনুরোধ জানান বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর।


বুধবার দুপুরে অবাণিজ্যিক এলাকায় আইটি কোম্পানিগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জানাতে বেসিস মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বেসিস সভাপতি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসিস জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ. রহমান এবং বেসিস সচিব হাশিম আহম্মদ।


সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি, মিরপুর ও উত্তরা থেকে অবৈধ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ ও আবাসিক এলাকা থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাণিজ্যিক এলাকাতে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।


সৈয়দ আলমাস কবীর আরো বলেন, সম্প্রতি রাজউক এর একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা গিয়ে উত্তরায় বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠান সলিউশন নাইন লিমিটেড এর অফিসে একই অভিযোগে তালাবন্ধ করে দিয়ে এসেছেন। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে উক্ত স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।


বেসিস সভাপতি বলেন, এভাবে কোনোপ্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করলে তাদের ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীনই হচ্ছে না বরং সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ইতোপূর্বে একই কারণ দেখিয়ে উত্তরা এলাকায় অপর একটি প্রতিষ্ঠানে তালাবন্ধ করে দেয়া হয়।


বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ. রহমান বলেন, আমেরিকা, ইউরোপ ও জাপানের মতো বিভিন্ন দেশের সাথে টাইমজোনের পার্থক্য রয়েছে। তাদের সাথে সময় মিলিয়ে কাজ করার জন্য অনেক অফিস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হয়। তাছাড়া এ সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত জনবল মোটামুটি নিরবেই কাজ করে এবং এতে বহিরাগত মানুষের আনাগোনা বা কোলাহল হয়না বিধায় তাদের কাজের জন্য আবাসিক বা অবাণিজ্যিক এলাকাই ভালো।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, বর্তমানে বেসিস এর ১১০০ সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০০ এর অধিক প্রতিষ্ঠান ঢাকা শহরের অবাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থান করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। এসকল প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক জনবল কর্মরত আছে। গত অর্থ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী অবাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় বাজারে বিনিয়োগ করেছে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। আইটি ও আইটিইএস খাত থেকে রপ্তানি আয় করেছে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত তথা বেসিস সদস্যবৃন্দ।


তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেসকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তন্মধ্যে ভৌত অবকাঠামো তথা ২৮টি হাইটেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পার্ক নির্মাণসহ ঢাকাতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ করা গেলে সফটওয়্যার ও আইটিইএস প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোনো অবাণিজ্যিক অফিস স্পেস ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না।


তাই, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অবাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ এবং একইসাথে এই অব্যাহতি সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারি করার জন্য অনুরোধ জানান বেসিস সভাপতি।


বিবার্তা/উজ্জ্বল/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com