ছয় ডিজিটাল সেন্টারের যাত্রা শুরু
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ২০:০০
ছয় ডিজিটাল সেন্টারের যাত্রা শুরু
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

গার্মেন্টস কর্মীদের কাছে সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সরকারি-বেসরকারি সব সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এটুআই ও ইউএসআইডি’র সমঝোতায় গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকায় এক বছরের জন্য গাজীপুরে পাঁচটি এবং মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীদের জন্য খুলনায় একটি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।


গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীরের গাজীপুরস্থ টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া (টেকবাড়ী) এলাকার ডব্লিউসিসিতে স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টারটি উদ্বোধনের মাধ্যমে এ ডিজিটাল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম শুরু হলো।


গার্মেন্টস এবং মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীসহ উল্লিখিত এলাকার সব নাগরিক এসব সেন্টার থেকে সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে ১৫০ এর অধিক সরকারি-বেসরকারি সেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ সেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং ও রুরাল ই-কমার্স ‘একশপ’ এর মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষ্যের অধিক পণ্য অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে।


গাজীপুর ও খুলনায় সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রাপ্তির জন্য স্থাপিত সেন্টারসমূহের মধ্যে ৩ টি সেন্টার ডব্লিউসিসি এর সাথে সংযুক্ত। যার মধ্যে ২ টি গাজীপুরের টঙ্গী ও কোনাবাড়ী এলাকায় এবং বাকি ১ টি খুলনার রূপসা এলাকায় অবস্থিত। অন্য ৩টি সেন্টার গাজীপুরের বোর্ডবাজার, কাশিমপুর ও ভোগরার গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে।


প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে একজন পুরুষ ও একজন নারী উদ্যোক্তা সেবা প্রদান করবেন। এ বিষয়ে তাদের এটুআই হতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল সেন্টারগুলো গার্মেন্টসকর্মীদের কর্মঘণ্টার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সকাল ৭টা হতে রাত ১০ টা পর্যন্ত প্রতিদিন খোলা থাকবে।


রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগের অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয় থেকে এবং নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ইউএনডিপি'র গ্লোবাল প্রশাসক হেলেন ক্লার্ক চর কুকড়ি মুকড়ি থেকে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে সারাদেশে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (ডিজিটাল সেন্টার) উদ্বোধন করেন।


ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের সব ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়। দেশব্যাপী বর্তমানে ইউনিয়ন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা পর্যায়ে ৫ হাজার ২৮৬ টি ডিজিটাল সেন্টার জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি-বেসরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।


এসব সেন্টার হতে সরকারি-বেসরকারি প্রদেয় সেবার সংখ্যা ১৫০টি, মোট সেবা প্রদান করা হয়েছে ৩৬৭ মিলিয়ন। মোট টাকা উপার্জন (উদ্যোক্তাদের) হয়েছে ৩২.৯৫ মিলিয়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ৭৫ মিলিয়ন, ৩৩০০ সেন্টারে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদান, ৮০০ সেন্টারে ই-কমার্স (একশপ) সেবা প্রদান, ০.২৯ মিলিয়ন গ্রামীণ নাগরিকের জীবনবীমা সেবা গ্রহণ, ৪ মিলিয়ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদান।


সারাদেশে দশ হাজারেরও বেশি উদ্যোক্তা বিগত সাত বছরে এই প্রক্রিয়ায় ৩৬৭ মিলিয়ন সেবা প্রদান করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নে সামিল হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেবার মধ্যে রয়েছে জমির পর্চার আবেদন, পাসপোর্টের আবেদন, জন্ম নিবন্ধন, হজ নিবন্ধন, রেল-বাস-বিমানের টিকেটিং, চাকুরির আবেদন, সরকারি আবেদন, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, মেডিকেল ভিসা প্রসেসিং, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিবন্ধন ইত্যাদি।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এটুআই এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে গণমাধ্যম এবং গার্মেন্টস কর্মীদের সামনে ডিজিটাল সেন্টার এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউএসএইডের অফিস ডিরেক্টর টম পোপ, ইউএসএইড সোলিডিরিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর খ্রিস্টোফার জনসন, গাজীপুরের ৫০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবু বকর সিদ্দিক, ৪৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক আহমেদ, ৪৯, ৫০ ও ৫১ নং ওয়ার্ড এর সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নাসরিন আক্তার শিরিন, চেম্বার অব কমার্স, এফবিসিসিআই, বিজিএমএ, বিকেএমএ, ইউএসএইড ও এটুআই এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


বিবার্তা/উজ্জ্বল/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com