১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস ও বাংলাদেশের মিত্র ভারত
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৪:৫৮
১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস ও বাংলাদেশের মিত্র ভারত
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউএস তার নিজের বিজয় উৎযাপন করে, গ্রেট ব্রিটেন তার নিজের বিজয় উৎযাপন করে, ফ্রান্স তার নিজের। তারা এর সাথে সাথে আল্যাইড ফোর্স হিসেবেও করে (আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রশক্তির অ্যালাই রাশিয়াও তার নিজের বিজয় উৎযাপন করে)।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সালের পুরো সময়ের জয়ের দাবীদার গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স। রাশিয়া ১৯৩৯ থেকে ১৯৪১ সালের আগে অপারেশন বারবোরোসা সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধের দাবীদার না, ঠিক তেমনি ১৯৪১ সালের পার্ল হারবারে আক্রমণের আগের যুদ্ধেরও দাবীদার না ইউএস (যদিও ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪১ ডিসেম্বরের আগে পুরো সময়টাতেই ইউএস গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা করেছিল)।


১৯৭১ সালের যুদ্ধেও ঠিক সেরকম ভাবে বাংলাদেশ তার নিজের বিজয় উৎযাপন করে, ভারত তার নিজের (বর্তমানে ভারতের উৎযাপনটা মূলত আর রাজনৈতিক না, কেবল সামরিক)। বাংলাদেশের স্ট্যাটেজিক গোল ছিলো ভিন্ন, যেটা হলো ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু এদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার ফলে দেশকে শত্রুমুক্ত করা, আর ভারতের গোল ছিলো এগ্রেসোর পাকিস্তানী বাহিনীকে স্ট্যাটেজিক্যালী কাবু করা।


১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিলো একই সাথে রাজনৈতিক ও সামরিক যুদ্ধ।


১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় লাভ এবং তারপরে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর জয়ী দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিতে গড়িমসির ফলে বাংলাদেশে (তৎকালীন স্টেটাস কুয়ো অনুযায়ী পূর্ব পাকিস্তান) আন্দোলনের সূত্রপাত। এবং সর্বশেষে ২৫ মার্চের গভীর রাতে পাকিস্তান বাহিনী কর্তৃক 'অপারেশন সার্চলাইট' এর নামে যে গণহত্যার শুরু হয়, এবং আমাদের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পূর্বেই ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।


১৯৭১ সালে উপমহাদেশে যে সামরিক যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে, তার দুটি ভাগ আছে।


প্রথমটি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যুদ্ধ (পাকিস্তানীদের কাছে যা গৃহযুদ্ধ) আর দ্বিতীয়টি, তৃতীয় পাক-ভারত যুদ্ধ।


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যুদ্ধ ছিলো একটি কনভেনশনাল মিলিটারীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ, প্রকৃত অর্থে বলা যায় জনযুদ্ধ। যদিও ১৯৭১ সালের শেষের দিকে তিনটি বিগ্রেড ফরমেশনের মাধ্যমে যুদ্ধটি একটি কনভেনশনাল রূপ ধারণ করেছিলো।


আর পাক-ভারত যুদ্ধ ছিলো কনভেনশোনাল ওয়ার।


ইন্টারেস্টিং ফেক্ট হলো, পাক-ভারত যুদ্ধ যে ভিন্ন ছিলো তা প্রমাণ পাওয়া যায় ওয়েস্টান ফ্রন্টের যুদ্ধে; বর্তমান ভারত ও পাকিস্তানের স্থল ও নৌ সীমান্তে যে যুদ্ধ হয়েছে সেখানে।


ওয়েস্টান ফ্রন্টের কনফ্রনটেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করেনি। আবার ইস্টার্ন ফ্রন্টে যে কনফ্রনটেশন হয়েছে সেখানেই যুদ্ধের দুটি ভাগ মূলত খুঁজে পাওয়া যায়। ডিসেম্বর ৩ তারিখের পর থেকে পাক-ভারত যুদ্ধ হলেও এর আগে মার্চ ২৬ থেকে যে যুদ্ধ চলেছিলো সেখানে ভারতের কোন অবস্থান নাই (হ্যাঁ এক অর্থে আছে যে আমাদের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সাহায্য করেছে মিত্র দেশ হিসেবে কিন্তু মিলিটারী কনফ্রনটেশনে নাই, ভারতের ভূমিকার সাথে এখানে মেলানো যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৩৯-১৯৪১ সালে ইউএসের)।


ডিসেম্বর ৩ তারিখেই মিত্রবাহিনীর যুদ্ধ আরম্ভ হয়। কিন্তু ভারত তার নিজের যুদ্ধ করেছে, কারণ পাকিস্তান তার আগে ভারতের ওয়েস্টার্ন ফ্রেন্টে অ্যাটাক করেছিলো [সুতরাং ভারত পাকিস্তানে (তৎকালীন আন্তর্জাতিক স্ট্যাটাস কুয়ো) এগ্রেসর ছিলো না]।


আর বাংলাদেশের যুদ্ধটাও তার নিজের। বাংলাদেশের বিজয়টাও তার নিজের।


বিবার্তা/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com