“জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সাথে এ কেমন আচরণ”
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৫৯
“জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সাথে এ কেমন আচরণ”
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সাথে হয়ে গেলো চরম প্রহসন মূলক নিকৃষ্ট আচরণ! যা করা হলো ওই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সেবার জন্যই প্রতিষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে, যা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। এইতো কিছুদিন আগে সরকারের একজন আমলার আচরণ সহ্য করতে না পেরে মুক্তিবাহিনীর এক সদস্য পুরো দেশবাসীকে জানান দিয়েই আত্মহত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনায় সোচ্চার হয়ে উঠেছিল শাহবাগের প্রজন্ম সহ গোটা দেশ, কিন্তু তাতে কি কিছু হয়েছিল? ওই সচিবের একটা চুলও কি স্পর্শ করা গেছে? কেউ কি জানেন?


আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজাকারের তালিকা কোনো রাজাকারদের হাতেই তৈরি হয়েছে কি না? তিনি বলেছেন, "শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিতে পারলেই তাসের ঘরের মতো আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে যাবে।তবে রাজাকার যে শেখ হাসিনার পাশেই রয়েছে তা আমি প্রমান সহ বলতে পারি। ভয়, এটা প্রকাশ করলে তারা হয়তো আমাকে আর দেশেই আসতে দেবে না।"



লেখক আল আমিন বাবু


এই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর কন্যার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের সময়ই প্রজন্ম সারা দেশবাসীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে এই শাহবাগে এনে হাজির করেছিল রাজাকারদের বিচারের দাবিতে। শেখ হাসিনা সেই প্রজন্মের দাবির সাথে মোমবাতি জ্বালিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন এবং বড় বড় রুই কাতলা রাজাকাররা একে একে ধরাশায়ী হতে থাকলো যা এখনো চলমান। কিন্তু সেই প্রজন্মরা কিন্তু একে একে চোরাগুপ্ত হত্যা হতে থাকলো, কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়লো, কত মামলা হলো কিন্তু আজও একজন আসামিরও বিচার বা বিচারের রায়ের বাস্তবায়ন দেখলাম না।


তাহলে কি ঘরের মধ্যেই কি শত্রুর বাস?


শেখ হাসিনার সরকারকে নাজেহাল করতেই এই সব কুকর্মযজ্ঞ চলছে।যারা রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবস্থান করছে বলেই প্রতীয়মান হয়।তাই বঙ্গবন্ধু কন্যা যতই উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে পিছন থেকে সেই সব শত্রুরা তার চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে দিচ্ছে। এই রাজাকারদের ভুল তালিকা তারই একটা অধ্যায়!


এই শাহবাগেই গৌরব ৭১, প্রজন্ম ৭১, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সহ অনেকেই অনেকবার দাবি তুলেছিল রাজাকারদের পূর্ণ তালিকা প্রণয়নের।দাবি তুলেছিল "জয় বাংলা "স্লোগানকে জাতীয় স্লোগানে স্বীকৃত দেয়া।যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার জালে জড়িয়ে পড়েছিল, অতঃপর মহামান্য হাইকোর্টের এদেশে যা সাফল্যের মুখ দেখলো।আমরা কৃতজ্ঞ মহামান্য আদালতের কাছে।কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এটা কি করলো? এটা কি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মন্ত্রণালয় নাকি গোপনে রাজাকারদের ঘাঁটি?


মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক আদতে কি মুক্তিযোদ্ধাদের মন্ত্রী? তিনি নিজেও তো একজন মুক্তিবাহিনীর সদস্য! তবে আসল ফাঁদটা কোথায় বসানো রয়েছে? যদিও বার বার তার বিভিন্ন উক্তিতে শিষ্যসুলভ বোকামিই ফুটে উঠেছে।যার সুবিধা নিয়েছে তার মন্ত্রণালয়ের আমলা থেকে কর্মকর্তারা। এ যেন মুক্তিবাহিনী দিয়েই মুক্তিবাহিনীকে ধ্বংস করা।জিয়াউর রহমান এক সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছিল ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে আর আজ মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হলো মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।যার দায় গিয়ে পড়বে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর উপর।আদতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার বা শেখ হাসিনার উপর।


কতবড় ধৃষ্ঠতা! ভুল করেছেন যারা, অন্যায় করেছেন যারা, তারাই আবার বলছেন যে, মুক্তিবাহিনীরা তাদের ভুল তালিকা ঠিক করতে ওই মন্ত্রণালয়ে ধর্না দিতে।এদেরকে এখনই ঝেটিয়ে বিদায় করা উচিত।


তাই ওই মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেকটা আমলা, কর্মকর্তাকে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এখন সময়ের দাবি।এই মুহূর্তে তাদের ওএসডি করা ফরজ! আরো বলতে চাই, জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে অনেক খেলা হয়েছে।এবার তা বন্ধ করা হোক।যেহেতু মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা আমাদের প্রথম প্রতিরক্ষা বাহিনী যারা পাকিস্তান মিলিটারির হাত থেকে আমাদের প্রতিরক্ষা করেছিলেন, এ দেশ শত্রুমুক্ত করেছিলেন। তাই তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে যুক্ত করে নেয়া হোক। তাদের ১৯৭১ এর এপ্রিল মাস থেকে আজ অবধি যা পাওনা তা চুকিয়ে দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের ঋণ মুক্ত করা হোক।


লেখক: আল আমিন বাবু


বিবার্তা/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com