প্রতিদিন-প্রতিক্ষণে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে আওয়ামী লীগ: ফখরুল
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:০৫
প্রতিদিন-প্রতিক্ষণে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে আওয়ামী লীগ: ফখরুল
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রতিদিন ও প্রতিক্ষণে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


২৫ জানুয়ারি, বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এই মন্তব্য করেন তিনি। ২৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করে।


সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই গণতন্ত্র হত্যা আওয়ামী লীগ করেছে। প্রতিবার, প্রতিক্ষণে এবং প্রতিদিন তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে চলছে এবং আমাদের স্বপ্নগুলোতে ভেঙে ফেলেছে। তাই আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সরাতে হবে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির নির্বাচন। কোন রাষ্ট্রপতি? কোন রাষ্ট্রপতি? যে রাষ্ট্রপতির কোন ক্ষমতা নেই। আমরা রাষ্ট্রপতির আসনটাকে খুব সম্মান করি। কারণ যেই থাক, যেই হোক, যে দলই হোক রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। কিন্তু রাষ্ট্রপতি কি তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন? তিনি কি আওয়ামী লীগের অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর কথার বাইরে একটা কাজ করতে পারেন? তিনি কি নির্বাচন কমিশন পরিবর্তন করতে পারেন? তিনি কি একটা আইন পরিবর্তন করতে পারেন? পারেন না। সেই কারণে আমরা আমাদের ২৭ দফার মধ্যে পরিষ্কার করে বলেছি যে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় মধ্যে একটা ভারসাম্য আনতে হবে।



বিএনপির চলমান আন্দোলন চলতেই থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত এই আওয়ামী লীগ সরছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা আমাদের বন্দি ভাইদের মুক্ত করতে পারছি, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের নেতা রুহুল কবির রিজভীকে মুক্ত করতে পারছি এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের মোশাররফ ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অগণিত বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্ত করতে না পারছি- ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই সংগ্রাম চলবে।


যখনই বিএনপি প্রোগ্রাম দেই তখনই আওয়ামী লীগ একটা পাল্টা প্রোগ্রাম দেয় উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, নিজেদের ওপরে এতো আস্থার অভাব! এতো ভয়। বিএনপি প্রোগ্রাম করলে না জানি কি হয়ে যাবে। ওই ভয়েই প্রোগ্রাম দিয়ে বসে থাকে। নিজেদের ওপরে কোন আস্থা নেই। সেজন্য তারা এ সমস্ত প্রোগ্রাম দেয়।


বিএনপি আন্দোলন শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি আন্দোলন সফল হচ্ছে। প্রতিদিন জনগণ আরো বেশি করে আসছে। সেই জনগণকে সম্পৃক্ত করে আমাদেরকে অবশ্যই আগামীর দিনগুলোতে সফল হতে হবে এবং জনগণ সঙ্গে নিয়েই আমাদেরকে জয়ী হতে হবে।



বিএনপি মহাসচিব বলেন, কিছুক্ষণ আগে সালাম ভাই বলেছেন, আর সময় নাই। কাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে। আসলেই সময় নাই। সালাম ভাইকে ধন্যবাদ যে, আপনি এই কথা বলেছেন। এদের সময় হয়ে গেছে। এবার এদেরকে যেতে হবে। যারা আমার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, যারা গণতন্ত্রের লড়াইয়ে আমার ভাইদেরকে হত্যা করেছে, যারা আমার ভাইদেরকে গুম করেছে, যারা আমাদের ছেলেদের আহত করেছে এবং কারাগারে অত্যাচার- নির্যাতন করেছে, সেই ঋণ শোধ করার জন্য এদেরকে অবশ্যই যেতে হবে।


আওয়ামী লীগ কখনোই গণতন্ত্র বিশ্বাস করতো না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে কাজ করে ঠিক উল্টো। আর ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। আর আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে সন্ত্রাসের ইতিহাস। এই সন্ত্রাস করে করেই আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। আজকে ৫০ বছর পরে আবারও আমাদের রাজপথে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে হচ্ছে, আমরা গণতন্ত্র চাই, আমার অধিকার চাই, আমার ভোটের অধিকার চাই এবং আমার কথা বলার অধিকার চাই।



বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে এদেশের মানুষ সরকারকে বলতে চায়, আপনারা জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন। আর আজকে গণতন্ত্র নাই বলে দেশে মানবাধিকার নাই। কারণ যেখানে আওয়ামী লীগ সেখানেই গণতন্ত্র হত্যাকারী। আর যেখানে বিএনপি সেখানেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী। তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলে এই সরকার বিদায় করতে হবে। অন্যথায় এদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না।


বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, এই সরকার গুম ও খুন করে ক্ষমতাকে টিকে থাকতে চায়। তাই এখন বিএনপির উপর দায় পড়েছে। সুতরাং শুধু স্লোগান দিলে হবে না, আজকে এখান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু করতে হবে।



সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে সমাবেশে অংশ নিতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সমাবেশে যোগ দিতে দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আসেন দলে দলে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মহিলা দল, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট-ছোট মিছিল নিয়ে আসেন। তারা রাস্তায় ত্রিফল বিছিয়ে তার উপর বসেন এবং সমাবেশের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের উপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়।


ফকিরাপুল মোড় থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এ সময় খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন তারা।তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল নানা স্লোগান-সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন-ফেস্টুন। এছাড়া, নেতাকর্মীদের মাথায় বিভিন্ন রঙের ক্যাপ এবং জাতীয় পতাকা পড়ে সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে।



এদিকে, সমাবেশ ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে কঠোর অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জনসমাগম ঘটিয়ে যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সার্বিক প্রস্তুতিও নেয়া হয়।


ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের সদস্য আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপি নেতা ড. মঈন খান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাজিম উদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


বিবার্তা/কিরণ/জামাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com