বেকারত্ব ঘোঁচাতে ১০ খাতে চোখ সরকারের
ফার্মাসিউটিক্যালস ও ফার্ণিচার বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স চালু হবে
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৯
বেকারত্ব ঘোঁচাতে ১০ খাতে চোখ সরকারের
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

একদিকে দেশজুড়ে বেকারের হাহাকার, অন্যদিকে সম্ভাবনাময় শিল্প খাতগুলোতে দক্ষ শ্রমিকের অভাব তীব্র। এই দুইয়ের সমন্বয় করতে সরকার দেশের শিক্ষিত বেকারদের দক্ষতা উন্নয়ন ঘটিয়ে ১০টি শিল্পখাতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ও বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।


শিক্ষিত বেকারদের দক্ষতা উন্নয়ন করে যে ১০টি খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে- তার মধ্যে রয়েছে, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি, কনস্ট্রাকশন, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, লেদার অ্যান্ড লেদার গুডস, ফার্মসিউটিক্যালস, অ্যাগ্রোফুড, ফার্ণিচার ও ক্রিয়েটিভ মিডিয়া। এছাড়া অনানুষ্ঠানিকখাতে উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে তোলা হবে শিক্ষিত বেকারদের।


আইসিটি খাতের উন্নয়ন ও এ বিষয়ে শিক্ষিত বেকারদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে একটি প্রকল্প নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবছর কারিকুলাম পর্যালোচনা করে নতুন নতুন বিষয়ে কারিকুলাম তৈরি করা হবে। এখাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী বিজনেস প্ল্যান তৈরি করছে সরকার।


ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি খাত সম্প্রসারণে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর উন্নয়ন করা, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর মানে বাংলাদেশে ট্যুরিজমের স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া ট্যুরিজম বিষয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে প্রতিযোগিতা সক্ষম করে গড়ে তুলবে সরকার।


নির্মাণখাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে আগামী তিন মাসের মধ্যে স্তরভিত্তিক একক কারিকুলাম প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। নির্মাণখাতের মান উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কারিকুলাম পর্যালোচনা করে এটি প্রণয়ন করা হবে। সরকারি দরপত্রে ১০ শতাংশ সনদধারী দক্ষ শ্রমিক নিয়োগের শর্তারোপ করে প্রশিক্ষিতদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।


বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলখাতে উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি পরিচালনার মতো দক্ষ শ্রমিক বাংলাদেশে নেই। শিক্ষিত বেকারদের এ বিষয়ে দক্ষতার উন্নয়ন ঘটিয়ে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে সরকার। পোশাক ও বস্ত্রখাতে দক্ষ শ্রমিকের যোগান বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের পাশাপাশি স্বল্প মেয়াদী নমনীয় মডিউলার কোর্স চালু করে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের ম্যানেজারদের দক্ষ করা হবে।


এখাতে মিডলেবেল ম্যানেজার তৈরির জন্য স্বল্পমেয়াদী সার্টিফিকেট কোর্স প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে সরকার। সদ্য পাশ করা গ্র্যাজুয়েটদের বিভিন্ন ম্যানেজারিয়াল পদে ইন্টার্ণশিপ হিসেবে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।


লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংখাতে শিক্ষিত বেকারদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রতিটি বিভাগে একটি করে প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তুলবে সরকার।


তৈরি পোশাকখাতের মতো সুযোগ-সুবিধা দিয়ে লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস খাতে আরো বেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাভাবে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনখাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের জন্য সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলা হবে। চামড়াজাত পণ্যের ডিজাইন ল্যাব স্থাপন ও ই-লার্নিং সেন্টার চালু করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে লেদার সেক্টরের সকল প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের কারিকুলাম উন্নয়ন করা হবে। তিন মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অক্যুপেশন এবং ছয় মাসের মধ্যে বাকি অক্যুপেশনের কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে।


ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স চালুর পরিকল্পনা করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।


রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অন্যান্য ডিপ্লোমা কোর্সের পাশাপাশি উড অ্যান্ড ফার্ণিচার টেকনোলজি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ফার্ণিচার শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত মাস্টার্স ট্রেইনার্স কর্মসূচিও প্রণয়ন করা হবে।


এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এটুআই, ব্র্যাক ইত্যাদির সফলভাবে পাইলটিং করা শিক্ষানবিস ও অ্যাটাচমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টির কার্যক্রম আরো জোরদার করে উপজেলা পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা হবে।


বিবার্তা/কাশেম/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com