সৈকতকন্যা কক্সবাজারের এ কী চেহারা !
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৮, ১৭:১৬
সৈকতকন্যা কক্সবাজারের এ কী চেহারা !
খলিলুর রহমান, কক্সবাজার থেকে ফিরে
প্রিন্ট অ-অ+

পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারের গড়ে উঠেছে আধুনিক আবাসিক হোটেল ও খাবারের দোকান। পর্যটকরাও ওসব হোটেল ও রেস্টুরেন্টে এথাকছেন, খাচ্ছেন। কিন্তু ওসব রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেলের আশপাশের রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে, সেখানে জমে আছে বৃষ্টির পানি আর ওতে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। সেগুলো ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। নগরীর ড্রেনগুলোর অবস্থা আরো করুণ। প্রতিটি ড্রেনের পানিতে ময়লা জমে গেছে। কোথাও কোথাও ময়লার স্তুপ হয়ে গেছে। ফলে ড্রেন থেকেও দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সব মিলিয়ে এলাকাবাসী ও পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।


সম্প্রতি কক্সবাজারের সুগন্ধা বিচের আশপাশ ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে। কক্সবাজারের কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের পাশেই সুগন্ধা সড়কের অবস্থান।



কলাতলী এলাকার সী-প্যালেসের সামনে সী ব্রিজ রোডে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে অনেক রেস্টুরেন্ট। আর ওসব রেস্টুরেন্টে তৈরি করা হয়েছে অনেক সুস্বাদু খাবার। এখানকার অনেক রেস্টুরেন্টক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রেস্টুরেন্টগুলোর পাশ ঘেঁষে রয়েছে ড্রেন। তবে ওই ড্রেনের ওপর নেই কোনো ঢাকনা। ওই ড্রেনেই ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। তাই ড্রেনের পানিতে ময়লা-আবর্জনা জড়ে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে।


এ নিয়ে রেস্টুরেন্টের ক্রেতারাও ক্ষুব্ধ। তারা বলেন, এমন অবস্থা থাকলে পর্যটকরা এখানে (কক্সবাজারে) আসা থেকে বিরত থাকবে।


এদিকে, ওই রোডে আইবিচ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বিরানী হাউজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলানো দেখা যায়। পরে যোগাযোগ করা হয় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল আহমদের সঙ্গে। তিনি বিবার্তাকে জানান, রাস্তা ও ড্রেনের গন্ধের কারণেই তার রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ রেস্টুরেন্ট খোলা থাকলে যে বিকিকিনি হয় তা দিয়ে কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব হয় না। আর লাভ তো অনেক দূরের কথা!



তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের গাফলতির কারণেই এ পরিস্থিতি।


তবে আইবিচ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বিরানী হাউজ বন্ধ থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানের পাশে ঢাকা রেস্তোরা ও বিরানী হাউজ, বিসমিল্লাহ ভাতঘর নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে খোলা রাখা হয়েছে। ওই রেস্টুরেন্টগুলোতে প্রবেশ করার জন্য ড্রেনের উপর বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী ব্রিজ।


শুধু তাই নয়, সুগন্ধা বীচের প্রতিটি রাস্তা বা গলির অবস্থা এমনই। কোথায়ও রাস্তা ভাঙা থাকায় পানি জমে গেছে। আবার কোথায়ও ড্রেনের পানিতে আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে ভ্রমণপিপাসুরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।



সম্প্রতি কক্সবাজার ঘুরে আসা সিলেটের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম সিলেটভিউ২৪ডটকম’র নিজস্ব প্রতিবেদক রফিকুল ইসলাম কামাল বিবার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের শত শত সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ এখানে ছুটে আসেন। কিন্তু সাগরের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করলেও কক্সবাজারের অপরিচ্ছন্ন, নোংরা পরিবেশ হতাশ করে। সড়কগুলোর দুই পাশে আবর্জনাভর্তি ড্রেন, দুর্গন্ধ চরম বিরক্তিকর।’


শনিবার বিকেলে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল আলম বিবার্তাকে জানান, গত দুই-তিন মাস আগে ড্রন মেরামত এবং শহরের রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এক বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।



তিনি আরো বলেন, ড্রেনগুলো অনেক পুরানো। এগুলো ভাঙতে অনেক সময় লাগে। তবে দ্রুত মেরামত কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর মেরামত কাজ শেষ হলে দুর্গন্ধ থাকবে না বলেও আশাবাদী ওই কর্মকর্তা।


বিবার্তা/খলিল/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com