আত্মহত্যা রোধে জাতীয় নীতিমালা গঠনের নির্দেশ
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৩
আত্মহত্যা রোধে জাতীয় নীতিমালা গঠনের নির্দেশ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই আত্মহত্যার ঘটনাসহ সারাদেশে এ ধরনের ঘটনার কারণ উদঘাটন, দায় নির্ধারণ ও এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা কীভাবে নেয়া সম্ভব সে বিষয়ে সুপারিশসহ একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরি করে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


এজন্য আদালত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছেন। অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটিতে একজন আইনবিদ, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন সাবেক বিচারক ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মর্যাদার কর্মকর্তাকে রাখতে বলা হয়েছে।


অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ মঙ্গলবার স্বত:প্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন ও রুল জারি করেন।


প্রকাশিত প্রতিবেদন মঙ্গলবার সকালের দিকে নজরে আনেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, জেসমিন সুলতানা ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা। আদালতের আদেশের পর অনীক আর হক বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে অতিরিক্তি শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আদালত। এক মাসের মধ্যে এই কমিটিকে দুটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একটি হচ্ছে, জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে তারা একটি প্রতিবেদন দেবে। আরেকটি হচ্ছে, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


তিনি আরো বলেন, আদালত রুলও জারি করেছেন। রুলে অরিত্রীর আত্মহত্যার মতো ঘটনা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয় করে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের পদপে নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান এ আইনজীবী।


ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, এ ধরনের আত্মহত্যার ঘটনায় কেউ কোনো দায় নিচ্ছে না। এছাড়া অনেক নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীরা রেজাল্ট খারাপ করলে ছাড়পত্র দিয়ে দেন। এটা প্রকৃত কোনো সমাধান নয়। পরীক্ষায় খারাপ করলে তা ভালো করানোর দায়িত্ব শিক্ষকদের। অরিত্রী অধিকারী নকল করলে সেটা সে কেন করেছে, সেটা দেখা দরকার ছিল। কোন সাবেজেক্টে খারাপ করলে তার দিকে একস্ট্রা কেয়ার দেয়া দরকার ছিল। কিন্তু তা না করে এমন আচারণ করা হয়েছে যাতে করে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কিন্তু শুধু এটিই নয়, আরও ঘটছে। আর এসব ঘটনা রোধে শিক্ষকদের মনোচিকিৎসা ও মানসিক দিক পরীক্ষার দরকার। এজন্যআমরা প্রকাশিত খবর তুলে ধরে কোর্টের কাছে নির্দেশনা চাই। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।


এর আগে সকালে এই আত্মহত্যার বিষয়টি আরও একজন আইনজীবী হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চের নজরে আনেন। ওই বেঞ্চ বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে রিট আবেদন দাখিল করতে বলেন। কিন্তু রিট আবেদন দাখিলের আগেই উপরোক্ত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ দেন।


পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে শিক্ষকদের তিরস্কারের শিকার হয়ে সোমবার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী তাদের রাজধানীর শান্তিনগরের বাসায় আত্মহত্যা করে।


বিবার্তা/রোকন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com