হত্যা মামলায় দুই ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:২৯
হত্যা মামলায় দুই ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

দলের এক সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। ছিনতাইয়ের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ মামলার অন্য চার আসমিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।


বুধবার ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক আব্দুর রহমান সরদার এই রায় দেন।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- মোয়াজ্জেম হোসেন ও বাবু ওরফে কানা বাবু।


যাবজ্জীনণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- আকির হোসেন, মনির হোসেন, আমির হোসেন ও আব্দুল আজিজ ওরফে আজি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।


দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আকির, মনির ও আমির পলাতক। হত্যার ঘটনাটি ২০০৫ সালের মার্চ মাসের।


রায়ের বিবরণে বলা হয়, ছিনতাইকারী দলের সদস্য আবদুল লতিফের কাছে ছিনতাইয়ের ৭০ হাজার টাকা ছিল। ওই টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শাহজানপুরের এ/৫০ নম্বর ভবনের ছাদে ছিনতাইকারী দলের নেতা ফেরদৌসের নির্দেশে অন্য আসামিরা লতিফকে গলা ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে লাশ ছাদে ফেলে রাখে।


ওই বছরের ২৩ মার্চ মতিঝিল থানা পুলিশ লতিফের লাশ উদ্ধার করে। হত্যার ঘটনায় মতিঝিল থানার তৎকালীন এসআই শাহ আলম একটি মামলা দায়ের করেন।


২০০৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানার এসআই সাহাব উদ্দিন ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। একই বছরের ১২ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার শুরু হয়।


বিচারকালে আটজনের সাক্ষ্য নেন বিচারক। তবে হত্যার নির্দেশদাতা ও ছিনতাইকারী দলের নেতা ফেরদৌসের অব্যাহতি চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাহাব উদ্দিনের অদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুলিশের এ ধরনের আচরণ কাম্য নয় বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।


আদালতের পেশকার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাহাব উদ্দিন অবসরে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেননি বিচারক।


মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, আসামি আমির হোসেন ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে হাকিমের কাছে বলেছিলেন, তিনি ফেরদৌসের ছিনতাইকারী দলের প্রাইভেট কার চালাতেন। আমির ছাড়াও আরো তিন আসামি জবানবন্দীতে ফেরদৌসকে ‘বস’ বলেছিলেন। তারপরও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেরদৌসের নাম তার নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেন।


এছাড়া সুমন ও রাশেদ নামের আরো দুই আসামির বিস্তারিত ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। ঠিকানা পেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়ার কথাও বলা হয়েছিল।


এসব বিবেচনায় ফেরদৌস, সুমন ও রাশেদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোপত্র জমার জন্য বিচারক ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও মতিঝিল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।


বিবার্তা/রোকন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com