এনসেফ্যালাইটিসে বিহারে অন্তত ১০৩ শিশুর মৃত্যু
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ১০:৫২
এনসেফ্যালাইটিসে বিহারে অন্তত ১০৩ শিশুর মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

এনসেফ্যালাইটিসের প্রকোপে ভারতের বিহার রাজ্যে ১৬ দিনে অন্তত ১০৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিন্ড্রোমে (এইএস) আক্রান্ত হয়ে এখনো ৩০০ শিশু ভর্তি রাজ্যটির হাসপাতালগুলো। আইসিইউতে চিকিৎসা চলছে তাদের। এদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশুর বয়স ১০ বছরের নিচে।


কিউলেক্স বিশনুই নামের এক ধরনের মশা এনসেফ্যালাইটিস ছড়ায়। এতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, মাথা ধরার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এনসেফ্যালাইটিসে আক্রান্ত হলে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে শিশুরা।


রাজ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, শিশুদের বেশিরভাগই হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করার পরিমান কমে যাওয়ায় মারা গেছে। ১৯৭০’এর দশকের শেষের দিকে বিহার ও উত্তর প্রদেশে প্রথম এনসেফ্যালাইটিস শনাক্ত হওয়ার পর এ রোগে কয়েক হাজার শিশু মারা গেছে।


রাজ্য সরকার সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যটির শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে (এসকেএমসিএইচ) এখনো পর্যন্ত ৮৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৭ শিশু মারা গেছে কেজরীওয়াল হাসপাতালে। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১০ বছরের মধ্যে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের বৈশালীতে ১২ ও মুজফ্ফরপুরে ১০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও মোতিহারি, পটনায় দু’জন ও সমস্তিপুরে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


এদিকে অবিলম্বে বর্ষা শুরু না হলে এই মৃত্যু মিছিল চলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এসকেএমসিএইচের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট এসকে শাহী। যদিও আগেই এনসেফ্যালাইটিসের তত্ত্ব উড়িয়ে দেয় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। তাদের দাবি এটি হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েই শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।


মৃতদের পরিবার পিছু ইতোমধ্যেই চার লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রবিবার মুজফ্ফরপুর যান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনও। সেখানে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। চিকিৎসকদের তরফে চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।


এদিকে গোটা পরিস্থিতির জন্য শুরু থেকেই স্বাস্থ্য দফতরের গাফিলতিকেই দায়ী করে আসছেন সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের উত্তরে প্রথম এনসেফ্যালাইটিস ধরা পড়ে। তখনই ব্যবস্থা নিলে এত প্রাণহানি এড়ানো যেত। গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ হাসপাতালে এসে পৌঁছনোর সুযোগটুকুও পাননি বলে দাবি তাদের। - আনন্দবাজার পত্রিকা ও বিবিসি


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com