শিরোনাম
‘পাগল ভাববে, এই ভয়ে অনেকে মানসিক ডাক্তারের কাছে যায় না’
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৩, ১৯:৫৮
‘পাগল ভাববে, এই ভয়ে অনেকে মানসিক ডাক্তারের কাছে যায় না’
মো. ছাব্বিরুল ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন মানুষের চিন্তা, তার যোগাযোগ স্থাপন, পড়াশোনা, কর্মস্থলের কর্মকাণ্ড- সবকিছুই নির্ভর করে মানসিক সুস্থতার ওপর। মানসিক অসুস্থতার কারণে মানুষের জীবন হয়ে পড়ে শৃঙ্খলহীন। আবার অনেক আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর পথও বেছে নেয়।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যা প্রবণ দেশ হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। বাংলাদেশে প্রতি বছর কমপক্ষে ১৩ থেকে ৬৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। দেশে আত্মহত্যায় মৃত্যুহার প্রতি লাখে ৭.৮ থেকে ৩৯.৬ জন। কিন্তু প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সাথে এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর কম দেওয়া হয়।


দেশের স্বল্পসংখ্যক সাইকিয়াট্রিস্টদের একজন ডা. এস. এম. জিকরুল ইসলাম। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকিয়াট্রি বিষয়ে এমডি সম্পন্ন করেন। জিকরুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার (সাইকিয়াট্রি) এবং সাইকিয়াট্রি বিভাগে অধ্যাপনা করছেন।


মানসিক সুস্বাস্থের প্রয়োজনীয়তা, বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা ও সাইকোথেরাপি বিষয়ে ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম বিবার্তার সাথে একান্ত আলাপচারিতা করেছেন। আলাপে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য, সাইকোথেরাপি নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও মানসিক সুস্বাস্থ্য ঠিক রাখার বিষয়ে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তার ঢাবি প্রতিনিধি মো. ছাব্বিরুল ইসলাম।


বিবার্তা: কেন এই পেশা নির্বাচন করলেন?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষের জন্য সাইকিয়াট্রিস্ট আছে মাত্র ৩০০-৩৫০ জনের মতো। যার কারণে সাইকিয়াট্রিক সার্ভিসটা আমরা বেশি মানুষকে দিতে পারছি না। আমি যাতে একটু হলেও সাপোর্ট দিতে পারি- তাই এই পেশায় আসা।


বিবার্তা: পেশাটা কেমন এনজয় করেন?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: আমি তো জেনে শুনেই এখানে এসেছি। ৬ বছর এখানে আছি। রোগীরা আমাদের অনেক রেস্পেক্ট করে। এই চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি- তাই তাদের সাথে অনেক ভালো রিলেশনশিপ তৈরি হয়। আর আমি এই পেশায় অনেকটা মেন্টালি ফ্রি থাকতে পারি। আমার পেশেন্টরা অত সিরিয়াস হন না। কেউ রাতের তিনটায় বলে না যে এখনই রোগী দেখতে হবে। এ দিক থেকে পেশাটা সত্যি অনেক ভালো।


বিবার্তা : মানসিক সুস্বাস্থ্য কী? আমরা কীভাবে বুঝতে পারি যে একজন মানুষ সুস্থ আছেন?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: মানসিক সুস্বাস্থ্য হচ্ছে একজন মানুষ চিন্তা করতে পারা, অন্য মানুষের সাথে ঠিকভাবে ইন্টারেকশন করতে পারা, সিদ্ধান্ত নিতে পারা। এসব কাজ সঠিকভাবে যে করতে পারে সে-ই মানসিকভাবে সুস্থ।


বিবার্তা: মানসিক চিকিৎসা কেন জরুরি?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: আপনি যদি মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে না পারেন, তাহলে আপনার কোনো কাজই হবে না। একটু এদিক ওদিক হলেই আপনি কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন না। ফ্যামিলিতে কোনো সমস্যা হয়েছে, আপনি ডিপ্রেশনে আছেন- তাহলে আপনার কোনো কাজেই মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না।


বিবার্তা: মানসিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বহির্বিশ্বে এবং আমাদের দেশে কেমন?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: আমাদের গ্রামগুলোতে যদি কারো মানসিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে ধারণা করা হয় তাকে ভূতে ধরেছে বা নজর লেগেছে। তাকে চিকিৎসা না দিয়ে হুজুরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। হুজুররা পানি পড়া, ঝাড়ফুঁক দিয়ে বলে ভূত তো ছাড়িয়ে দিলাম, কিন্তু শরীর দুর্বল তাই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। এতে সে সঠিক চিকিৎসা পায় না বরং অবস্থা আরো খারাপ হয়। আর মানসিক চিকিৎসা নিতে সহজে কেউ আসতে চায় না- কারণ তাকে পাগল ডাকা হবে, এমন ভয় তার মধ্যে কাজ করে। যেমন কেউ আমার ক্লিনিকের দিকে আসা মানেই অনেকে জাজমেন্ট দেবে সে পাগল। আমাকেও শুনতে হয়- পাগলের ডাক্তার তো পাগলই হবে। কিন্তু পৃথিবীর উন্নত দেশে এমনটা নয়। ওখানে মানুষ নিয়মিত মেন্টাল হেলথ চেক আপ করায় এবং অনেক সাইকিয়াট্রিস্টও আছে।


বিবার্তা: যারা মানসিক স্বাস্থ্য সেবার জন্য আসেন, তাদের চিকিৎসার ধরন কেমন?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: মানসিক সমস্যাটা কিন্তু মায়ের পেট থেকেই শুরু হয়। তাই ওখান থেকে আমাদের ইতিহাসটা নিতে হয়- মানসিক সমস্যা কোন কারণে হচ্ছে, কোথায় হচ্ছে। রোগীর পরিবার, অফিস, বৈবাহিক জীবনেরও খোঁজ নিতে হয়। পরিবারের কেউ অসুস্থ থাকলে স্বাভাবিক ভাবে আপনিও অসুস্থ থাকবেন। অনেক সময় দেখা যায় যে সমস্যা নিয়ে আসছে- খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি আসলে সমস্যা তার না- পরিবারের।


কয়েকদিন আগে আমরা একজন রোগী দেখলাম। মা নিয়ে এসেছে ছেলেকে। ছেলে নাকি খুব রাগ করে, পড়াশোনা ঠিকমতো করে না। কিন্তু ছেলের সাথে কথা বলে দেখি আসলে সমস্যা তার মায়ের। ছেলে পরীক্ষায় ৯৮ পেয়েছে- ১০০ পায়নি বলে মা বকাবকি করছে। তাকে খেলাধুলা করতে না দিয়ে সারাক্ষণ পড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। ছেলেটাকে দশঘণ্টা বই নিয়ে বসে থাকতে হয়। পরে আমরা মায়ের সাথে কথা বলি।


আমরা রোগীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করি, তাদের আপডেট নিতে চেষ্টা করি।


বিবার্তা: কোনো পেশেন্ট নিয়ে ভীতির অভিজ্ঞতা আছে কি?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: আমার কখনো পেশেন্ট নিয়ে ভয়ভীতির ঘটনা হয়নি। অনেকেই ভাবে যে পেশেন্টরা মারামারি করবে বা ভায়োলেন্ট হবে- আসলে ব্যাপারটা তা না। পেশেন্টরা আমাদের যথেষ্ট সম্মান দেয়। তারা আমাদের সাথে বেশ ভালো ব্যবহার করে। তাদের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।


বিবার্তা: গড়ে কতজন পেশেন্ট দেখেন প্রতিদিন?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: আমি দৈনিক ১৫-২০ জন পেশেন্ট দেখি। আর বেশিরভাগ ফিক্সড পেশেন্ট। এছাড়া অনেক সময় দেখা যায় রোগী অন্য চিকিৎসার জন্য এসেছেন, দেখা গেলো তার সাইকিয়াট্রি সার্ভিস দরকার। তখন তাদেরকে এখানে পাঠানো হয়। সাধারণত সাইকিয়াট্রি বিভাগে গড়ে ৭০ জন পেশেন্ট আসে।


বিবার্তা: মানসিক রোগের স্টেজগুলা কেমন?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: মানসিক রোগ মূলত মেয়াদের ভিত্তিতে এর প্রভাবটা হয়। এটা দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদি হয়ে থাকে। যাদের স্বল্প মেয়াদি তাদের চিকিৎসাও ওরকম দেওয়া হয়। তারা কম সময়ে ওভারকাম করতে পারে। আবার যাদের দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যা হচ্ছে, তাদের লম্বা সময় ধরে চিকিৎসা দিতে হয়। সাধারণত মায়ের পেট থেকেই মানসিক সমস্যাটা শুরু হয়। তবে ওটার প্রকাশ পায় কোনো ঘটনা বা ক্ষেত্র বিশেষে। যে কেউই দৈনন্দিন কোনো বিষয়ের কারণে মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে।


বিবার্তা: আমাদের দেশে কোন বয়স বা লিঙ্গের মানুষ বেশি মানসিক সমস্যায় ভোগে?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: মানসিক সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গ বা বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি যে কারোই হতে পারে- যে কেউই ভুগতে পারে। সাইকিয়াট্রিস্ট মূলত দু ধরনের হয়ে থাকে– চাইল্ড এন্ড এডোলিসেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট আর এডাল্ট সাইকিয়াট্রিস্ট। দুইটার পড়াশোনাও আলাদা। অর্থাৎ বড়রা যেমন মানসিক সমস্যায় ভোগে তেমনই শিশুরাও। ৩ বছরের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধের এই সমস্যা হতে পারে। যে কেউ প্রব্লেমে পড়তে পারে।


বিবার্তা :বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা কেমন?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: বাংলাদেশে সাইকিয়াট্রিস্টের খুবই অভাব। মানুষের চাহিদা নেই যে তা নয়। দেশে প্রায় সতেরো কোটি মানুষের জন্য ৩০০-৩৫০ জনের মতো সাইকিয়াট্রিস্ট আছে। জেলা পর্যায়ে সাইকিয়াট্রিস্ট নেই সেভাবে। অনেকে এজন্যই চিকিৎসা নিতে আসে না যে তাকে এর জন্য দূরে যেতে হবে। যদি জেলাভিত্তিক সাইকোথেরাপি নেওয়ার জন্য সাইকিয়াট্রিস্ট থাকতো, তাহলে ভালো হতো। অনেক সময় দেখা গেছে পেশেন্টরা সাইকোথেরাপি নিতে চাচ্ছে কিন্তু কোথায় যাবে সেটা বুঝতে পারে না। আমাদের আরো বেশি পরিমাণে সাইকিয়াট্রিস্ট প্রয়োজন। এই সেবাটা সহজলভ্য করতে হবে।


বিবার্তা: কয়েকবছর যাবৎ আমরা দেখছি আত্মহত্যা প্রবণতা বেড়েছে- তাও আবার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে! এর কারণ কী হতে পারে বলে মনে করেন?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: আমি মনে করি এটার পেছনে আপব্রিংগিং এর একটা ব্যাপার আছে। ছোটবেলায় শিশুদের খেলাধুলা ও মানুষের সাথে মেলামেশাটা ঠিকঠাক হচ্ছে না, সারাক্ষণ পড়াশোনার চাপ দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে নিজের ফিলিংস শেয়ার করতে হবে তা শেখানো হচ্ছে না। ইউনিভার্সিটিতে এলে সে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে সে আরো একা হয়ে যায়। তার ভেতরে ডিপ্রেশন কাজ করে। স্ট্রেসটা কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে সেটা সে বুঝতে পারে না।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট বা মেডিকেল কলেজে গ্রাম থেকে আসা মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি। তাদের নতুন জায়গায় খাপ খাওয়াতে কষ্ট হয়ে যায়। কীভাবে পড়ার চাপ সামলাবে, টিচারদের সাথে ডিল করবে, সাথে থাকা-খাওয়ার ব্যাপার তো আছেই। সব মিলিয়ে সে বিষয়টি কাউকে বলতে পারে না। কারণ তারা হয়তো গুরুত্বই দেবে না। তাদের ধারণা সে ভার্সিটিতে পড়াশোনা করবে আর ক্যারিয়ার দেখবে। কিন্তু সে যে মানসিকভাবে সাফার করছে সেটা তারা বুঝতে চায় না। আরেকটা বিষয় হলো প্রতিযোগিতা। সে ভাবে তাকে ফার্স্ট হতে হবে- তখন সে আরো স্ট্রেস নেয়। কিন্তু স্ট্রেস কীভাবে কোপ আপ করে নিতে হয় সেটা সে জানে না। এসব কারণে মূলত সুইসাইড করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।


বিবার্তা: আগে মানুষ যখন মানসিক ব্যাধি সম্পর্কে তেমন জানতো না, তখন তো এত বেশি সুইসাইড হতো না। কিন্তু এখন জানাশোনার সাথেসাথে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে গেছে- এর কারণ কী?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: আগেকার সময় মানুষের মানসিক সমস্যা হতো না, তা নয়। তখনকার মানুষ মানসিকভাবে স্ট্রং ছিল এবং স্ট্রেস ডিল করার এবিলিটি বেশি ছিল। তারা খেলাধুলা করত, মানুষের সাথে মিশতো। কিন্তু বর্তমানে খেলাধুলা, মেলামেশার চেয়ে পড়াশোনার চাপটা বেশি দেওয়া হয়। ফলে ছোটবেলা থেকেই তারা একা হয়ে যায়। তাদের যে মানসিক সমস্যা সেটা তারা গিলতে পারে না, আবার কীভাবে কাউকে শেয়ার করতে হয় তাও জানে না। এসব কারণে মানসিক সমস্যা এখন বেশি দেখা যায়। পরিবার থেকে শিশুদের যে মেন্টাল সাপোর্ট দেওয়ার কথা সেটা না করে কেবল তাকে ক্যারিয়ারের কথা শেখানো হয়। তাকে বলা হয় তোমাকে ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে কিন্তু কীভাবে হবে আর কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে সেটা- সেখানো হয় না। তাকে শেখানো হয় না মানুষের সাথে কীভাবে মিশতে হবে। যার কারণে তারা মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে না।


বিবার্তা: মানসিক চিকিৎসা নিতে আসার জন্য দেশের মানুষকে কীভাবে প্রভাবিত করা যায়?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: এইসব বিষয় নিয়ে কথা বলা উচিত। মেন্টাল হেলথ যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা মানুষকে বোঝানো দরকার। আর বিশেষ করে সাইকিয়াট্রি সেবা সহজলভ্য করা উচিত। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এইসব বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা দরকার।


বিবার্তা: একজন মানুষ কি সুস্থ হওয়ার পর আবার একই সমস্যায় ভুগতে পারে?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: এটা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। তার জীবনে যেসব ঘটনা ঘটবে- যেমন ফ্যামিলি ইস্যু, ঘুম কম হওয়া, স্ট্রেস- যেকোনো কারণে আবার তা হতে পারে। তবে যারা সাইকিয়াট্রি সেবা নেয় তারা অনেক ভালো ডিল করা শেখে। আমাদের রোগীদের আমরা কনট্যাক্টে রাখি, কোনো বিষয় নিয়ে খারাপ লাগলে তারা আমাদের শেয়ার করেন।


বিবার্তা: মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী করা উচিত?
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: ফ্যামিলি সাপোর্ট সবার আগে। বাল্যকাল থেকেই ফ্যামিলির থেকে মেন্টাল সাপোর্ট দিতে হবে। মূলত ফ্যামিলি থেকেই মানসিক সমস্যা শুরু হয়। ফ্যামিলির সদস্যরা কীভাবে মানুষকে ট্রিট করছে ,কথা বলছে সেটার উপর মেন্টাল কন্ডিশন নির্ভর করে। শিশুদের ঘরে বন্দি না রেখে খেলাধুলা করতে দেওয়া, তাদের সাথে কথা বলা, তারা কী চায় তা জানা। তাই ফ্যামিলির সদস্যদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। গোড়া থেকেই মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুললে বাইরের পরিবেশের প্রতিকূলতা হ্যান্ডেল করার শক্তি সঞ্চয় হয়।


বিবার্তা : বিবার্তাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ডা. এস এম জিকরুল ইসলাম: আপনাকেও ধন্যবাদ।


বিবার্তা/ছাব্বির/রোমেল/জবা

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com