কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রী হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকা গ্রেফতার
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৩৩
কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রী হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকা গ্রেফতার
যশোর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

যশোরের কেশবপুরে পরকীয়া প্রেমের দৃশ্য দেখে ফেলায় স্বামী-স্ত্রী নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য পুলিশ উদঘাটন করেছে পুলিশ। উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের একটি ধানখেতের পাশ থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক নিশ্চিত করেন এই তথ্য।


আটককৃতরা হলেন- কেশপুরের মাগুরখালী গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী জেসমিন বেগম (৩৮) এবং তার পরকীয়া প্রেমিক একই এলাকার মোস্তফা কামাল (৪৫)। নিহত দম্পতি হলেন আলেক সরদার ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম।


পুলিশ জানায়, নিহত মাজেদা বেগম ও অভিযুক্ত জেসমিন বেগম অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে তারা দুজনেই মাঠে ঘাস কাটতে যান। ওই সময় মাঠেই কাজ করছিলেন মাজেদার স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধী আলেক সরদার। মাঠে যাওয়ার পথে জেসমিনের সঙ্গে দেখা হয় তার পরকীয়া প্রেমিক মোস্তফা কামালের। প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক চলছিল বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন অভিযুক্তরা।


মাঠে কাজ করার একপর্যায়ে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। এই ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্তরা ওই স্বামী-স্ত্রীকে ঠান্ডা মাথায় পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৌশলে আলেক ও মাজেদাকে স্থানীয় একটি ঘেরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তালতলা এলাকার ভেড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে মোস্তফা কামাল তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলেক সরদারের শরীরে ও মাথায় আঘাত করেন। একই সময়ে জেসমিন বেগম মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন।


পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাঁচি দিয়ে মাজেদার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। হত্যাকাণ্ড শেষে দুজনের মরদেহ একটি পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। নিহত আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় আঘাত পাওয়ার পর সেই গর্ত থেকে আর উঠতে পারেননি।


পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতের সেচযন্ত্রের পানির উৎসের কাছ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে ওই দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


মামলার পর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে এবং গত ২ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন ও মোস্তফাকে গ্রেফতার করে।


বিবার্তা/ইয়ানূর/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com