টাঙ্গাইলে ১০ কোটি টাকার ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৮
টাঙ্গাইলে ১০ কোটি টাকার ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ
ইমরুল হাসান বাবু, টাঙ্গাইল
প্রিন্ট অঅ-অ+

টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর এলাকায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি পিএসসি গার্ডার ব্রিজে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালা ব্যবহার করা হয়েছে । বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসাইল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজখাড়া এলাকায় ২ হাজার ৩০৫ মিটার চেইনেজে ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার ব্রিজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিজটির চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৬৫ টাকা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।


অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজের একটি অংশে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালা ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে, বিশেষ করে রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত তাদের অগোচরে ঢালাইয়ের কাজ করা হতো। এ সময় নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।


মাইজখাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ মিয়া বলেন, আমরা ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত ১২টার দিকে ঠিকাদারের লোকজন কাজ শুরু করেন। এলাকার লোকজন অনিয়মের বিষয়ে কথা বলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়েছে।


বাসাইল উত্তরপাড়ার বাসিন্দা শিহাব খানশুর বলেন,ব্রিজ নির্মাণে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও জড়িত বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


এদিকে, নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর। বাসাইলের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বিবার্তাকে বলেন, আমাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে তারা কাজ করেছে। নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন। পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এ ধরনের অনিয়ম কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com