
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক নারীকে জবাই করে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ৯টি পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফেলে রাখার ঘটনায় অবশেষে নিহতের মাথা ও পায়ের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের একটি ডোবা থেকে এসব অংশ উদ্ধার করে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদা ইয়াসমিন দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভূঁইয়া হাউজে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার মায়ের সঙ্গে থাকতেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ছোট মেয়ে একদিনের জন্য স্বামীর বাড়িতে যাওয়ায় রাতে ফরিদা ইয়াসমিন বাসায় একাই ছিলেন। এর মাত্র ১২ দিন আগে লাইলী আক্তার ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরে বাড়ির মালিকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে লাইলী তার ঘরে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা কোথায় রাখা হয়, তা জানার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে কোনো একসময় ফরিদা ইয়াসমিনকে জবাই করে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করা হয়। পরে শরীরের বিভিন্ন অংশ পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনের একটি গলিতে ফেলে রাখা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে লাইলী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের বিভিন্ন অংশের ৯টি ব্যাগ উদ্ধার করে। তবে তখন নিহতের মাথা ও পায়ের অংশ পাওয়া যায়নি। পরে রবিবার বিকেলে ছোট আলমপুরের একটি ডোবা থেকে মাথা ও পায়ের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইলী আক্তার ২০২১ সালে দেবিদ্বারে পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ খালে পুঁতে রাখার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর র্যাব অভিযান চালিয়ে ফাহিমার বাবা আমির হোসেন, তাঁর পরকীয়া প্রেমিকা লাইলী আক্তারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারোক্তি দেন বলে পুলিশ জানায়। ওই মামলায় প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর কয়েক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান লাইলী। মামলাটির বিচার এখনো শেষ হয়নি।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, লাইলী আক্তার ২০২১ সালের শিশু ফাহিমা হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি কারাগার থেকে জামিনে বের হন। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির মালিকের স্বর্ণালংকারের লোভে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আটক লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]