দু’দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম’ শুরু
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২১, ১৩:১৪
দু’দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম’ শুরু
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় দেশে প্রথমবারের মতো এটি শুরু হয়। করোনাভাইরাস মহামারী ও লকডাউনের কারণে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্নেন্স বিষয়ক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠত হয়। এটি বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের (বিআইজিএফ) একটি উদ্যোগ। বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম একটি বহু-মাত্রিক অংশীজন, যুব এবং যুব নারীদের নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশে ইন্টারনেট গভর্নেন্স নিয়ে কাজ করছে।


স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম ২০২১ এর চেয়ারপার্সন সৈয়দা কামরুন জাহান রিপা যুব আইজিএফ বাংলাদেশের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো যুবদের জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পরিচালনায় অবদান রাখতে উৎসাহিত করা এবং সেই কার্যক্রমে অংশ নেয়া। ক্ষমতায়নের জন্য তরুণদের নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত ও অনুপ্রাণিত করার জন্য কাজ করা, তাদের কণ্ঠস্বর জোরালো করা এবং নীতি নির্ধারকদের প্রভাবিত করে অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করা। ইন্টারনেট-ভিত্তিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য তরুণদের প্রস্তুত করা।


বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসির) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান তার মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, বিআইজিএফ জ্ঞান সৃষ্টি ও জ্ঞান সংরক্ষণের জন্য ইন্টারেনট গভর্নেন্স নিয়ে সরকার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের সাথে কাজ করছে। বিআইজিএফ’র প্রোগ্রামে যুবদের জন্য একটি সেশন বরাদ্দ থাকতো। তবে এই প্রথমবারের মতো যুব ও যুব নারীদের জন্য বাংলাদেশে পূর্ণ যুব আইজিএফের আয়োজন করা হয়েছে।


প্রোগ্রামটি যুবসমাজ এর, যুবসমাজের দ্বারা এবং যুব সমাজের জন্য আয়োজন করা হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে যুবকদের এবং তরুণ প্রজন্মকে একটি শক্তিশালী ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা তাদের ক্ষমতায়ন করা তাদের কণ্ঠস্বর জোরালো করা এবং নীতি নির্ধারকদের প্রভাবিত করার জন্য কাজ করছে বলে জানান তিনি।


কাঠামো, নিরাপত্তা, আইনি সমস্যা, অর্থনৈতিক দিক, উন্নয়ন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবস্থা ও মানবাধিকার, ইন্টারনেটের এই সাতটি ধাপ উঠে আসে বজলুর রহমানের আলোচানায়।


তিনি আরো জানান, ডিজিটাল সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য, যুবকদের ক্ষমতায়ন, জ্ঞানবৃদ্ধি এবং ক্ষমতাশীলদের প্রভাবিত করার জন্য আপস্কিলিং, ডিস্কিলিং এবং রিস্কিলিংয়ের জন্য কাজ করা উচিত।


এপনিক অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র অ্যাডভাইজার সানি চেন্দি পলিসি অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট উল্লেখ করেন। তারা জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে শক্তিশালী যুব ও ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


তিনি জানান, আমরা যুবকদের ইন্টারনেট পরিচালনার বিভিন্ন সুযোগের মাধ্যমে উৎসাহিত করি। আমরা জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বিশ্বব্যাপী তরুণদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য উৎসাহিত করি, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টি করে।


সিঙ্গাপুর গুগল প্রতিনিধি নিক বাউয়ার এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বলেন, এই গুরুত্বপূর্র্ণ ইভেন্টে অংশ নেয়া অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সহযোগিতা দিতে গুগল বাংলাদেশের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে নিরাপদ রাখা ও টিকা দিতে সহায়তা করা হয়েছে। প্রায় ১০০ মিলিয়ন মানুষকে বন্যা সতর্কতার বিশাল কভারেজসহ কোভিড-১৯ ও বন্যার সতর্কতা সম্পর্কিত তথ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আমরা বাজার ও গ্রাাহকের সেবা নিয়ে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের বাজার পরিবর্তনের প্রয়োজনে যুব সমাজের বিকাশের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


ফেসবুক বাংলাদেশের পাবলিক পলিসি প্রধান শাবনাজ রশিদ দিয়া জানান, এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে ফেসবুক গর্বিত। ফেসবুক বিশ্বজুড়ে মানুষকে সংযুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।


করোনাভাইরাসের সময় ডিজিটাল দক্ষতা তরুণ ও যুবকদের জন্য খুবই প্রয়োজন। জনগণকে টিকা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দিয়েছে ফেসবুক। জনগণ যাতে মাস্ক পরে সে জন্য প্রেরণামূলক তথ্য দেয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেয়ার ক্ষেত্রে সচেতন করা হয় ফেসবুকে। তরুণ প্রন্মকে ক্ষমতায়নের জন্য ডিজিটাল শিক্ষা কর্মসূচির উপর জোর দেন শাবনাজ রশিদ দিয়া।


আইকানের ভারতের প্রধান সমীরণ গুপ্ত অতিথি হিসেবে আংশ নিয়ে আইকান ইন্টারনেট গভর্নেন্স গ্লোবাল ইন্টারনেটের ভূমিকা এবং কিভাবে অলাভজনক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হিসেবে কাজ করে এবং কিভাবে বিভিন্ন ভাষায় এবং স্ক্রিপ্টে ইন্টারনেট সম্পৃক্ত করা যায় এবং সাইবার নিরাপত্তায় কী ভূমিকা পালন করে তা নিয়ে আলোচনা করেন।


বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপারসন এবং তথ্য ও সম্প্র্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন।


তিনি বলেন, ইন্টারনেট সমাজে একটি বিপ্লব সৃষ্টি করেছে, তরুণরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বকে সংযুক্ত করতে পারে। দেশীয় সমাজ এবং বিশ্বজুড়ে যুবকরা জড়িত থাকতে পারে এবং আমরা কীভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি এবং কীভাবে নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা করবে তা ব্যবহার করতে পারে তা জানতে হবে।


তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বিভাজন ও বৈষম্য কমানোর জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। সমাজের সকল খাতে পরিবেশ এবং জলবায়ুু এবং সামগ্রিক পদ্ধতির ডিজিটালাইজেশন প্রয়োজন। আমাদের মাতৃভাষা, সাইবারস্পেস, বাকস্বাধীনতা, ই-কমার্সে নতুন উদীয়মান প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে।


ইয়ুথ আইজিএফ বাংলাদেশের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য মিস রিম্পা বড়ুয়া ইয়ুথ আইজিএফ বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সার হান্ট ২০২১ নিয়ে আলোচনা করেন। ইনফ্লুয়েন্সার হান্ট ইউটি আইজিএফ বাংলাদেশ ২০২১ এর কার্যক্রম প্রচারে সহায়তা করবে। যারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমাদের সহযোগী, বন্ধু, সহকর্মী এবং যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে, শেয়ার করবে এবং কার্যক্রমকে ছড়িয়ে দেবে।


ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের ডেপুটি-কান্ট্রি ডিরেক্টর আশরাফুর রহমান পিয়াস ইয়ুথ আইজিএফ’র এমবাসেডর কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। যুবদের ক্ষমতায়ন করা, কণ্ঠকে জোরালো করা এবং নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করা। তবে বিশ্বস্ত ইন্টারনেটের জন্য সচেতনতা তৈরি করা এবং নিয়ম লঙ্ঘন না করে কাজ করা, সবার জন্য ক্ষতিকারক নয় তা নিয়ে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।


আইকান সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি সাবরিনা লিম বলেন, ইন্টারনেটের বয়স ৫২ বছর কিন্তু এটি মানুষের জন্য তরুণ, এখন ৫ বিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। আমরা ইন্টারনেট নিয়ে কি ধরনের কাজ করি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া যেমন প্রয়োজন তেমনি বিশ্বস্ততাও প্রয়োজন। আর তা স্থিতিশীল ও সুরক্ষিত হওয়া উচিত। আইকান এ বিষয়ে যুবদের নিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।


ইয়ুথ আইজিএফ প্রতিষ্ঠাতা এমএজি ইউলিয়া মোরনেটস বলেন, এটি একটি মাল্টি স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্ম। ইন্টারনেট জগতে তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের সাইবার-আক্রমণ ও সাইবার নিরাপত্তার দক্ষতা বাড়ানো এবং মানুষের ডিজিটাল স্বাক্ষরতা বাড়ানো দুটি প্রধান অগ্রাধিকার।পরিবেশগত প্রোগ্রাম জলবায়ুু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে হবে। তরুণরা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের মি. অগাস্টো ম্যাথুরিন মানবতাবিরোধী সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। অনলাইনে কী থাকতে হবে তাতে কী ধরনের পোস্ট গ্রহণযোগ্য, কী অপসারণ করা উচিত, কোনটির বিষয়ে সতর্ক করতে হবে, কোনটি বিচারের আওতায় আনা উচিত সেগুলো উঠে আসে তার আলোচনায়।


অ্যাসেন্ট ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম বাংলাদেশে কোভিড -১৯ এর প্রেক্ষিতে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ইন্টারনেট আসক্তি: কারণ, প্রভাব, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন যে আমাদের ভালোর জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা উচিত। ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ক্ষতিকারক বিষয় থাকলে তা এড়িয়ে চলা উচিত।


বিবার্তা/বিদ্যুৎ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com