
স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরও কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হোসেন সাদ্দামকে ‘প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার’ কথা তুলে ধরে নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ৩৯ নাগরিক।
সোমবার (২৬ জানুযারি) এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘আমলাতন্ত্রের এই অমানবিক, অবিবেচক ও নিষ্ঠুর আচরণের জন্য আমরা ধিক্কার জানাই। বিচার প্রক্রিয়ার নামে এ ধরনের অবহেলা বা প্রতিহিংসামূলক ও অমানবিক আচরণের দায় অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গও এড়াতে পারেন না।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাদ্দাম কোনো ফাঁসির আসামি ছিলেন না, যে তাকে প্যারোলে মুক্তি দিলে অনেক ভয়ের কারণ হতে পারে। যদি তাও হত, তবু নিকটাত্মীয় মারা গেলে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তি প্রদান আইনস্বীকৃত। আর এই ব্যাপারে সাদ্দামের রাজনৈতিক মতামত বা তার কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি নাই, তা আমাদের কাছে নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক।’
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, শিরীন পারভিন হক, খুশী কবির, ইফতেখারুজ্জামানও রয়েছেন।
‘ওই ঘটনায় দায়ী’ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। তিনি ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের সময়কার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যশোর জেলা কারাগারে আছেন।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙা গ্রাম থেকে তার স্ত্রী সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) এবং তাদের নয় মাস বয়সী ছেলে নাজিফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, তারা সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় সাদ্দামের সন্তান ও স্ত্রীর লাশ নেওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে তাদের শেষবারের মত ছুঁয়ে দেখেন তিনি। এরপর আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান।
পরে শনিবার রাত ১২টার দিকে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় মা-ছেলেকে।
এদিকে স্ত্রী-সন্তানের জানাযায় অংশ নিতে সাদ্দামকে ‘প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায়’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়।
৩৯ নাগরিকের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সকল প্রকার অন্যায় ও বিচারহীনতার যে ঘোষণা দিয়ে এই সরকার (অন্তর্বর্তী সরকার) তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা শুধু কথার কথাই থেকে যাচ্ছে। তাই সাদ্দামের ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুত্র সন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরও তাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তাকে যোগ দেওয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া তারই আর একটি দৃষ্টান্ত মাত্র।’
বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেছেন- রাশেদা কে. চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, শহিদুল আলম, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, শামসুল হুদা, শাহীন আনাম, শাহনাজ হুদা, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, ফস্টিনা পেরেইরা, অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবাইদা নাসরীন, ফিরদৌস আজিম, পাভেল পার্থ, অ্যাডভোকেট সালমা আলী, রেহেনুমা আহমেদ, সায়দিয়া গুলরুখ, ঈশিতা দস্তিদার, সালেহ আহমেদ, পারভেজ হাসেম, রেজাউল করিম চৌধুরী, জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, মেইনথিন প্রমীলা, আবু আহমেদ ফয়জুল কবির, মাবরুক মোহাম্মদ, হানা শামস আহমেদ, শাহ-ই-মবিন জিননাহ।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]