
শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা থেকে শুরু করে ত্বক, চুল ও ক্ষত সারানোর প্রক্রিয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে জিংক। তাই অনেকেই পুষ্টির ঘাটতি পূরণে নিয়মিত জিংক সাপ্লিমেন্ট খান। কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, আবার কেউ নাশতার পর এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। কিন্তু জিঙ্ক খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি? খালি পেটে খেলে কি বেশি উপকার পাওয়া যায়, নাকি এতে শরীরের ক্ষতি হতে পারে?
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালি পেটে জিংক খেলে শরীরে এর শোষণ ভালো হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে বিষয়টি এক নয়। বিশেষ করে যাঁদের পাকস্থলী সংবেদনশীল, তাদের খালি পেটে জিংক খেলে বমি বমি ভাব ও পেটে অস্বস্তি হতে পারে।
খাবারের সঙ্গে খেলে কি জিংকের কার্যকারিতা কমে
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর চিকিৎসক কার্লা কুওনের মতে, শরীরে জিংকের সর্বোচ্চ শোষণ নিশ্চিত করতে খাবার ছাড়া এটি গ্রহণ করা ভালো। কারণ, শস্য ও ডালজাতীয় খাবারে থাকা ফাইটেট এবং ক্যালসিয়ামের মতো কিছু খনিজ জিংকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এর শোষণ কমাতে পারে। প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ ডানা এলিস হানেসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, খাবারের সঙ্গে জিংক গ্রহণ করলে এর শোষণ প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে খালি পেটে খেলে যদি বমি বমি ভাব বা পেটের সমস্যা হয়, তাহলে অল্প খাবারের সঙ্গে জিংক খাওয়াই ভালো।
প্রতিদিন কতটুকু জিংক প্রয়োজন
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১১ মিলিগ্রাম এবং নারীর ৮ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন। সাধারণত সুষম খাবার থেকেই শরীরের প্রয়োজনীয় জিঙ্ক পাওয়া সম্ভব। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
অতিরিক্ত জিংক খেলে হতে পারে বিপদ
জিঙ্ক শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় জিংক গ্রহণ করলে শরীরে কপার বা তামার শোষণ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে কপারের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এমনকি হাড় ভাঙার ঝুঁকি এবং বারবার সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়তে পারে।
কারা জিংক সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন
যাদের খাবার থেকে পর্যাপ্ত জিংক পাওয়া যায় না, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং নিরামিষ বা ভেগান খাবার গ্রহণকারীদের জিংকের ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।
জিংক খাওয়ার পর যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
জিংক গ্রহণের পর মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, বমি কিংবা পেটে অস্বস্তি দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে, বেশি জিংক খেলেই বেশি উপকার পাওয়া যায় না। বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় এবং সঠিক নিয়মে গ্রহণ করাই সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]