
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়জনই শিশু।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে এক হামলায় আহতদের সহায়তায় ছুটে যাওয়া এক চিকিৎসকও প্রাণ হারান। প্রথম হামলার পর তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একই স্থানে দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়, এতে তিনি নিহত হন। এ ছাড়া উত্তর গাজার গাজা সিটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে পাঁচ মাস বয়সি এক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
নিহত পরিবারের সদস্য আবু মোহাম্মদ হাবুশ বলেছেন, আমরা ঘরের ভেতর ঘুমাচ্ছিলাম, তখন ট্যাংক থেকে গোলা ছোড়া হয়। গোলা এসে আমাদের ঘরে পড়ে। আমাদের সন্তানরা শহীদ হয়েছে। আমার ছেলে, আমার ভাইয়ের ছেলে ও মেয়ে। আমরা কোনও কিছুর সঙ্গে জড়িত নই, আমরা শান্তিপূর্ণ মানুষ।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাস অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায়ই পাল্টা হামলা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ঘটনায় এক সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলের এই হামলা যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সহিংসতা বন্ধে তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান জানিয়েছে।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দেন। এই ধাপে গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে গাজার ৫০ শতাংশের বেশি এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত।
যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরাইলি গুলিতে অন্তত ৫৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক মানুষ বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]