অপরিকল্পিত নগরায়ণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে কর্ণফুলী
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:০৮
অপরিকল্পিত নগরায়ণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে কর্ণফুলী
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে কর্ণফুলী উপজেলা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের সংখ্যা। এতে সম্প্রসারিত হচ্ছে অবকাঠামো। এভাবে নগরায়নের ফলে কমছে কৃষিজমি। ফসলি মাঠে গড়ে ওঠছে বহুতল ভবন।


অপরিকল্পিতভাবে মিল ফ্যাক্টরি, কারখানা, ইটভাটা ও বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে কর্ণফুলীতে দিন দিন কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। গত দুই দশকে উপজেলায় কৃষিজমি কমেছে কমপক্ষে হাজার একর। কংক্রিট কিংবা ইট পাথরের দালানে গ্রাস করছে উর্বর শক্তির ফসলি ধানি জমিগুলো।


এতে আগামী ২৫ বছরে খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়া, ভবিষ্যত মানুষের বসবাস করার বসতি কোথায় হবে তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানা নির্মাণে ব্যবহারের কারণে প্রতিদিনই কমছে কৃষি জমি। জলাভূমিও ভরাট করে ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যাতায়াতে কর্ণফুলী নদীর শাখা খাল প্রভাবশালীদের দখলে অধিকাংশ। অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, নগরায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ইটভাটা, পুকুর খনন, মাছ চাষ ও নদীভাঙনের ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি নিশ্চিহ্ন হচ্ছে।


এ যেন দেখার কেউ নেই। আবার বড় বড় কোম্পানির কাছে নগদ টাকার লোভে জমি বিক্রি করে বাস্তুহারা হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে বাসগৃহ, দালানকোঠা, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট। আবার, কতিপয় কর্মকর্তাদের উদাসিনতায় কোথাও কোথাও সরকারি বিপুল পরিমান ভূমি নিশ্চিহ্ন হচ্ছে।


মোদ্দাকথা পরিকল্পনাহীন নগরায়নের ছোবলে বৈচিত্র্য হারাচ্ছে কর্ণফুলী উপজেলা। ইছানগর ও জুলধায় ইটভাটার জন্যও প্রতি বছর হাজার হাজার একর আবাদি জমি অনাবাদিতে পরিণত হচ্ছে। নানাভাবে কৃষি জমি উৎপাদনহীন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার চলছে।


অচিরেই মানুষের বসবাসে পরিকল্পনা না নিলে সামনে বিপন্নতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু সেই বিপন্নতা মোকাবিলায় সরকারের নানা সুরক্ষার পদক্ষেপ ও আইন থাকলেও তা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন উদাসীন এবং কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ নেই বললেই চলে।


স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে ঘরবাড়ি তৈরির প্রয়োজন পড়ছে। সাড়ে তিন হাজারের মতো রোহিঙ্গা প্রবেশের কথাও শোনা যাচ্ছে। তার প্রভাব পড়ছে ফসলি জমির ওপর। পরিবার বিভক্ত হলে তার প্রথম ধকলটিই পড়ে কৃষি জমিতে। এক বাবার চার সন্তান পৃথক হওয়ার পরক্ষণেই আবাদি জমিতে যার যার বাড়িঘর গড়ে তোলার উদ্যোগ দেখা যায়।


অনেকে চাকরির ওপর নিভর্রশীল হওয়ায় কৃষি জমির কোনো প্রয়োজনবোধ করছেন না। এরপরও আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ছোবল। প্রতি বছর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বহু হেক্টর জমি। আবাসন ও নির্মাণকাজে চলে যাচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর।



বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরে যে পরিমাণ স্থানীয় কৃষি জমি কমছে, তার অর্ধেকই যাচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে জমির উবর্রতা শক্তিও হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ মিল কারখানা তৈরিতে রয়েছে সরকারি নানা নির্দেশনা। যা কেউ মানছে না।


নবসৃষ্ট র্কণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, “উপজেলা থেকে অনুমতি ছাড়া কোনো স্থাপনা করা যাবে না। যদিও অনেকের কাছে সেই খবর নেই। কর্ণফুলী উপজেলায় বসবাসযোগ্য করার জন্য মাষ্টার প্ল্যানে হাত দেব। অপরিকল্পিতভাবে মিল ইন্ডাষ্ট্রি বা বাড়িঘর করতে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।”


বিবার্তা/জাহেদ/কামরুল


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com