জামিন পাননি এমপি রানা
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১৭
জামিন পাননি এমপি রানা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুখ আহমদ হত্যা মামলায় জামিন শুনানিতেও জামিন পেলেন না টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা।


বুধবার সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদা খানমের আদালতে শুধু জামিন শুনানি হয়। বিকাল ৪টায় এর রায় ঘোষণার সময় ধার্য করা হয়।


আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিকেলে আদালতের বিচারক এ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এমপি রানাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ও পরবর্তী শুনানির দিন ২৭ সেপ্টেম্বর ধার্য রাখেন।


তবে এ রায় ঘোষণার পূর্বে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সর্বোচ্চ পুলিশি নিরাপত্তায় রানাকে পুনরায় কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।


আনোয়ারুল ইসলাম আরো জানান, বুধবার সকালে মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ১০.৪৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদা খানমের আদালতে শুধু জামিন শুনানি হয়।


এমপি রানার জামিন নিয়ে টাঙ্গাইলে উত্তেজনা


এদিকে, সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বুধবার সকালে এমপি রানাকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের আদালতে হাজির করা হলে আদালত চত্বরসহ শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


আদালত চত্বরে নিহত মুক্তিযোদ্ধা ফারুকের সমর্থরা এমপি রানার শাস্তির দাবিতে মিছিল করতে থাকে। অপরদিকে এমপি রানার সমর্থকরা আদালত চত্বরের অদূরে শাসছূল হক তোরণের সামনে জামিনের সমর্থনে মিছিল করতে থাকে। পুলিশ বার বার মিছিলটিকে রাস্তা থেকে সরে যেতে বললেও মিছিলকারীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এক পর্যায়ে দুপুরে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে, লাঠিচার্জ করে।


এ সময় পুলিশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সম্মুখ সড়ক থেকে ৮ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগজিন ও একটি বিদেশী পিস্তলসহ এমপি রানার দুই সমর্থক ওর আরো ৯ জনকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।



বুধবার সকালে মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ১০.৪৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদা খানমের আদালতে শুধু জামিন শুনানি হয়। জামিন শুনানির পর বিকেল ৪টায় এর রায় ঘোষণার সময় ধার্য করা হয়। পরবর্তী শুনানির দিন ২৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়। এরপর সাড়ে ১১টার দিকে নিরাপত্তায় এমপি রানাকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।



অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল হক জানান, টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে শহরে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। বিরাজমান উত্তেজনা ও যে কোনো নাশকতা ঠেকাতে শহরের পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে এমপি রানার সমর্থকরা শাসছূল হক তোরণের সামনে জামিন সমর্থনে মিছিল করতে থাকে। এ নিয়ে নিহত ফারুক আহম্মদ সমর্থক ও এমপি রানার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ২ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।



উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের নাম বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় এমপি রানা ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এ মামলায় ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এমপি আমানুর রহমান খান রানা।


বিবার্তা/তোফাজ্জল/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com