মৌলভীবাজারের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৮, ১৮:০২
মৌলভীবাজারের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী
তানভীর আঞ্জুম আরিফ, মৌলভীবাজার
প্রিন্ট অ-অ+

আবারো অবনতির দিকে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি। শহরের সবাইকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্য মাইকিং করে আহ্বান জানিয়েছেন পৌর মেয়র। কমলগঞ্জে পানির স্রোতে নিখোঁজ হওয়া একই পরিবারের ২ জনসহ ৩ জনের লাশ উদ্বার করেছেন পুলিশ।


আরো বেড়েছে মনু নদীর পানি, শনিবার দুপুরে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদ সীমার ১৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চরম ঝুঁকিতে পড়েছে মৌলভীবাজার শহর রক্ষাবাঁধ। শহরের সাইফুর রহমান রোডের অন্তত ২০ টি জায়গা দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি ঢুকছে। বন্ধ রয়েছে সাইফুর রহমান রোডের যান চলাচল।


শুক্রবার রাতে সেনাবাহিনীর ৬ সদস্যের দল পর্যবেক্ষণ শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধে বালির বস্তা ফেলতে বলে। রাত থেকেই কয়েক হাজার বালির বস্থা শহর রক্ষা বাঁধে ফেলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ জালাল, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহ প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থসহ গণমাধ্যম কর্মীরা।


শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার শহর রক্ষা বাঁধে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করে।


মনু নদের পানি শুক্রবার রাতের বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে শনিবার দুপুরে ১৫৯ সেন্টিমিটারে পৌছেছে।


এ দিকে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর এবং শমেশরনগরে বন্যার পানির স্রোতে শুক্রবার রাতে নিখোঁজ হওয়া বাপ ছেলেসহ তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে কমলগঞ্জ পুলিশ।


মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শাহবন্ধর থেকে শেরপুর পর্যন্ত ঢাকা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ৩০ টি জায়গা দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে। হাজার হাজার এলাকাবাসী ঈদের আনন্দ রেখে রাস্থায় নেমে এসেছে নিজ নিজ উদ্যোগে বালির বস্থা ফেলে প্রতিরক্ষা বাধ মেরামতের চেষ্টা করছে। সকাল ১১ টা থেকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক বন্ধ করে দেয় একালাবাসী।


পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থ জানিয়েছেন, আর মাত্র ৫ ইঞ্চি পানি বাড়লেই শহর রক্ষা বাঁধে উপর দিয়ে উপচে পানি ঢুকবে।


এদিকে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। অন্তত ২ শ’ গ্রাম পানিবন্দী অবস্থায় ঈদ উদযাপন করছে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে দেশে বিদেশের জেলাবাসী। প্রবাসীরা স্বজনদের চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বারবার ফোন দিচ্ছেন স্বজন এবং গণমাধ্যম কর্মীদের।


শনিবার দুপুরে শহর তলির মাতার কাপন এলাকায় মনু নদীর ভাংগন দেখা দিয়েছে। জেলার কমলগঞ্জ থানা রক্ষায় ১ হাজার বালির বস্তা পাঠিয়েছে পাউবো।



পাউবো জানিয়েছে ইতোমধ্যে ২০ হাজার বালির বস্তা ফেলা হয়েছে মনু এবং ধলাই নদির প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষা করতে।


হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ থেকে আরো বস্তা মৌলভীবাজারে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন পাউবোর মহা পরিচালক মো. মাহফুজ রহমান।


মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, কুলাউড়া এবং রাজনগরে সেনাবাহিনী প্লাবিত এলাকায় কাজ করছে, শহর রক্ষা করতেও কাজ শুরু করেছে।


তিনি আরো জানান, মৌলভীবাজারে ১৫ টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাধ ভেঙে ২ লক্ষ মানুষ পানিবন্দী। ৫৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।


বিবার্তা/আরিফ/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com