নেই শিক্ষক, মাঠে খেলছে শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ২১:১০
নেই শিক্ষক, মাঠে খেলছে শিক্ষার্থীরা
বাউফল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বেলা ১২টা ১০ মিনিট। বিদ্যালয়ের মাঠসহ আশপাশের ঝোপ জঙ্গলে খেলা করছে একদল শিশু শিক্ষার্থী। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১১টা ৫০ মিনিট থেকে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান শুরু করার কথা থাকলেও সাড়ে ১২টায়ও শুরু হয়নি। বুধবার (৩০ নভেম্বর) পটুয়াখালীর বাউফলের দক্ষিণ ভরিপাশা মুন্সী হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।


বিদ্যালয়ের মাঠে কথা হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ফরাদ, তানজিলা ও মরিয়মসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। শিক্ষকেরা কোথায় জানতে চাইলে তাঁরা বলে, ‘হেড স্যার সকালে আসছিলেন, পরে চলে গেছে। ম্যাডামেরাও বাড়িতে গেছেন।’


এদিকে বিদ্যালয়ে সাংবাদিকের উপস্থিতি জানতে পেরে বেলা ১২টা ৩২ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ে আসেন ১ সহকারী শিক্ষক। তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় চলে যান। ঘন্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসার সংকেত দেন।


বিদ্যালয় চলাকালীন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে কোনো সদত্তোর দেননি। অন্য শিক্ষকেরা কোথায় জানতে চাইলে বলেন, ‘হেড স্যার শিক্ষা অফিসে গেছেন। একজন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন অপরজন নিচে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৭৯জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৮জন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাজেদা খানম নামের এক শিক্ষক ছুটিতে রয়েছে। প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। জেবুন্নেছা ও রমিজা আক্তার নামের দুই সহকারী পাঠদান করেন।


অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাঁদের ইচ্ছেমত যাওয়া- আসা করেন। প্রধান শিক্ষকও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকনে না। অফিসিয়াল কাজের দোহাই দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকনে। সহকারী শিক্ষক মোসা. জেবুন্নেছা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তৈয়বের বোন। বিদ্যালয় চলাকালীন সময় তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে সময় কাটান। বিদ্যালয়ে ঠিকমতো হয় না পাঠদান। এতে শিশুদের শিক্ষা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা।


এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্লাস বাদ দিয়ে কেনো তাঁরা বাড়িতে গেছেন তা আমি জানি না। আমি থাকাকালীন এমন হয় না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কারণ ছাড়া স্কুল বাদ দেই না।’


বিষয়টি ওই বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সুজন হালদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


বিবার্তা/হান্নান/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com