ঢামেক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে, ইচিপির প্রতিবাদ
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২২, ১৫:০৮
ঢামেক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে, ইচিপির প্রতিবাদ
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীর শহীদ মিনার এলাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) সাবেক এক শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের সনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ঢামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপি)।


সোমবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।


ভুক্তভোগীর নাম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। মারধরকারীদের শনাক্ত করতে না পারলেও তাদের অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোগোওয়ালা টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাজ্জাদ।


ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কলেজ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শেষে রাত সাড়ে নয়টার দিকে আমি শহীদ মিনারের দিকে যাই। সেখানে আমি একা একা বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। তখন দেখি, দুই-তিন জন করে তাদের প্রায় সবার গায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোওয়ালা টি-শার্ট ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে, তাদের পরিচয় জানা বা বোঝার উপায় ছিল না। তবে সবাই একটু হালকা পাতলা গড়নের ছিল।


মারধরকারীদের টি-শার্টে তাদের কারো নাম বা হলের নাম লেখা ছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই অবস্থায় আমি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোটা খেয়াল করতে পেরেছি। কারো নাম বা হলের নাম দেখার সুযোগ পাইনি। একজন সিলভার রঙের টি-শার্ট পরা ছিল ঢাবির লোগোওয়ালা। এর বেশি খেয়াল করতে পারিনি। তারা শহীদ মিনারে আগতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, অনেককে সেখান থেকে উঠিয়ে দিচ্ছে। তারা কেন এটা করছিলো আমার জানা নেই। এক পর্যায়ে তিনজন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, আমি সেখানে কী করছি। আমি বললাম, 'আমি বসে আছি।' তখন তারা আমার পরিচয় জানতে চায়। আমি আমার পরিচয় দেয়ার পরও তারা আমার পরিচয়পত্র দেখতে চায়। আমার কাছে পরিচয়পত্র নেই জানালে তারা আমাকে বলে, 'পরিচয়পত্র নেই কেন? আমাদের কাছে তো পরিচয়পত্র আছে।' তখন আমি বললাম, 'সবাই কী সবসময় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘুরে?' এই কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে একজন থাপ্পড় মেরে বসে। এরপর আরো দুই তিন জন এসে আমাকে চড়-থাপ্পর মারা শুরু করে।


তিনি বলেন, মারধরের একপর্যায়ে আমি চিৎকার করে বলে উঠি, 'আপনারা চাইলে আমার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে আমার পরিচয়পত্র দেখে আসতে পারেন।' এই কথা বলার পর তারা হয়তো বুঝতে পারে যে, আমি ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র। আমি কাউকে ফোন দিয়ে এনে হয়তো ঝামেলা করতে পারি, এই ভয়ে তখন তারা আমাকে দ্রুত ওই স্থান থেকে বিদায় করার জন্যে তৎপর হয়ে ওঠে। আমি চলে যাওয়ার সময় যে পারছিল, সেই আমাকে মারধর করছিল এবং চলে যেতে জোর করছিল। ঠিক এই সময় কেউ একজন আমার কানের ওপর জোরে চড় দিলে আমি বসে পড়ি। বসে কেন পড়লাম, এজন্য একজন জুতা পায়ে আমার মুখে লাথি মারে। এ কারণে আমার নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। এরপর আমি চলে যেতে উদ্যত হলে যাওয়ার পথে যে যেভাবে পেরেছে আমাকে মারধর করেছে রিকশায় ওঠার আগ পর্যন্ত। আমাকে ৮ থেকে ১০ জন মারধর করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিনতাই ছিল নাকি অন্যকিছু ছিলোা জানি না।’


সাজ্জাদ আরো বলেন, আমাকে মারার সময় অনেকে শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারছিল না, পড়ে যাচ্ছিল। তাদের লক্ষণ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে, তারা নেশাগ্রস্ত। তাদের আচার-আচরণ স্বাভাবিক ছিল না।


তিনি বলেন, মারধরের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে গেলাম। কেস সিলসহ ইঞ্জুরি নোট লেখার পর আমাকে ইএন-এ রেফার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান যে, নাকের সেপ্টাম ইঞ্জুর্ড হয়েছে। মাড়িও কেটে গেছে দাঁতের। গালের পাশে ফুলে আছে। চোখ ডান পাশেরটা লাল হয়ে আছে। ডান কানে কম শুনছি। কান দেখে ডাক্তাররা বলেছেন, কানের পর্দায় 'ব্লিডিং স্পট' আছে। 'হিয়ারিং লস' আছে কি না বুঝতে অডিওগ্রাম করতে হবে। কিন্তু ছুটির দিন থাকার কারণে মঙ্গলবার এটি করা সম্ভব না। বুধবার করাতে হবে। অন্যদিকে, নাকে আঘাত লাগার কারণেও রক্তক্ষরণ হয়েছে।


পরে তিনি হলের অন্যান্য বড় ভাইদের সাথে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।


এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কোনো আচরণ এবং মানুষের প্রতি সহিংসতা গ্রহণ করবে না। দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।


এদিকে আজ (৯ আগস্ট) ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের সনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপি)।


প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় ছাত্র কর্তৃক গত ৮ আগস্ট রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিনা উস্কানিতে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন এর উপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।


৪৮ ঘন্টার মধ্যে সিসি টিভি ফুটেজের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে লাগাতার কর্মবিরতিসহ পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি করবে বলে জানায় ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


বিবার্তা/সাইদুল/জামাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com