ইউপি অফিসে সৌদি দূতাবাসের কার্যক্রম, আটক ৩
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২২, ২২:০৪
ইউপি অফিসে সৌদি দূতাবাসের কার্যক্রম, আটক ৩
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে প্রতারণার মাধ্যমে একটি ইউনিয়ন পরিষদ অফিসকে সৌদি দূতাবাস বানিয়ে সৌদিতে পাঠানোর কথা বলে আগ্রহী নারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।


রবিবার (৭ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


আটককৃতরা হলেন- নির্বাচন কমিশনের ভোটার হালনাগাদ প্রজেক্টের কম্পিউটার অপারেটর বানিয়াচং উপজেলার জমশেদ মিয়া, সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার ইকড়ছই গ্রামের আবু সুফিয়ান ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ফাহিম চৌধুরী। এ সময় তাদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের আঙ্গুলের চাপ গ্রহণ পরবর্তী নতুন ভোটার হওয়ার ৬৫টি স্লিপসহ বিভিন্ন জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।


সুনামগঞ্জের সুলতানা আক্তার সুমী জানান- তিনি ৩ বছর সৌদি আরবে থেকে ১ বছর আগে দেশে ফিরেছেন। আবার তাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আবু সুফিয়ান নামে এক দালাল ১৫ হাজার টাকাসহ পাসপোর্ট নেয়। সুফিয়ান তাকে জানায় সৌদি যেতে হলে দূতাবাসে আঙ্গুলের চাপ দিতে হবে। তাই সুফিয়ান তার সহযোগী মোফাজ্জল মিয়া ও ফাহিম চৌধুরীর মাধ্যমে সৌদি আরবে যেতে ইচ্ছুক তিনিসহ সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ২৫জন নারীকে আঙ্গুলের চাপ দেয়ার জন্য সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার কথা বলে দুটি মাইক্রোবাসে করে এখানে নিয়ে এসেছে। সুমী জানান, তিনি আঙ্গুলের চাপও দিয়েছেন।


নেত্রকোনার ফাহিমা আক্তার বলেন- আমি চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টেমে চাকুরি করি। সৌদি আরবে নেয়ার নাম করে সুফিয়ান নামে এক দালাল আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেয়। শনিবার সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য আঙ্গুলের চাপ দেয়ার শেষদিন বলে চট্টগ্রাম থেকে আমাকে এখানে নিয়ে আসে। ঝামেলার জন্য আমি আঙ্গুলের চাপ দেইনি।



আজিজুর রহমান নামে স্থানীয় এক যুবক জানান, তিন দিন ধরে নতুন ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম চলছে। আজকে শেষদিনে অন্যান্য জেলার বাসিন্দাদের বাউসা ইউনিয়নের ভোটার করার জন্য নিয়ে আসা হলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। বাইরের জেলার কতজন আঙ্গুলের চাপ দিয়ে এই ইউনিয়নের নতুন ভোটার হয়েছেন তা কিভাবে নির্ণয় করবে নির্বাচন কমিশন? এঘটনায় তিনি জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।


বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান শিশু মিয়া বলেন- দালাল ও নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বিভিন্ন জেলা থেকে তথ্য গোপন করে কয়েকজনকে বাউসা ইউনিয়নে ভোটার করার জন্য নিয়ে আসা হয়। আঙ্গুলের চাপ দেয়ার সময় গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় মানুষ অপরিচিত দেখে তাদেরকে আটক করে।


এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের ফাঁকে অন্যান্য উপজেলার বাসিন্দাদের বাউসা ইউনিয়নে ভোটার করার জন্য নিয়ে আনা হচ্ছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। বাউসা কেন্দ্রের টিম লিডার মতিউর রহমান বাদী হয়ে আটক দালাল চক্র ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


তিনি আরো বলেন, যারা আজকে ভোটার হয়েছেন তাদের তথ্য অফলাইনে রয়েছে, উদ্ধার হওয়া স্লিপয়ের সিরিয়াল নাম্বার অনুযায়ী তথ্য যাচাই-বাছাই করে এগুলো বাদ দেয়া হবে, কারও দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই।


নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমেদ বলেন, প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সৌদি যেতে আগ্রহী বিভিন্ন এলাকার নারীদের কাছ থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জনপ্রতি ২০-২৫ হাজার টাকা করে নিয়েছে। পরে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন এবং সৌদি যাওয়ার জন্য আঙুলের ছাপ দেয়ার জন্য নবীগঞ্জের বাউসা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তাদের সুবিধার্থে সৌদি দূতাবাস এখানেই আঙুলের ছাপ নেয়ার ব্যবস্থা করেছে বলেও জানায়।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com