যেকারণে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রাখতে চান না
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৪০
যেকারণে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রাখতে চান না
ফাইল ছবি
জাহিদ বিপ্লব
প্রিন্ট অ-অ+

শারীরিক অবস্থার স্থায়ী উন্নতি হয়নি হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন ৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তবে, ৮ জানুয়ারি কেবিনে স্থানান্তরের পর বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়নি তার। প্রথমবার বেগম জিয়া করোনা পজিটিভ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে হাসপাতাল থেকেই আবার তার করোনা সংক্রমিত হয়। এ জন্যই কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মধ্যে এবার ভয় কাজ করছে।


বর্তমানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। শনিবারও পরিপাকতন্ত্রে সামান্য পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে রিপোর্টে এসেছে। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে করোনার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছে।


হাসপাতাল সূত্র জানায়, হঠাৎ করোনাভাইরাস ফের বেড়ে যাওয়ায় ডাক্তারদের মধ্যে বড় শঙ্কা কাজ করছে। শনিবার তাদের বৈঠক হয়। খালেদা জিয়ার কেবিনে চলাচল একেবারে সীমিত করা হয়েছে। কেবিনে প্রবেশের আগে নার্স, স্টাফদেরও এরপর তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে। বাইরে থেকে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হবে না। বোর্ড এখনই হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দিচ্ছে না। নতুন আরো কতগুলো টেস্ট দেয়া হয়েছে। মোটামুটি ঝুঁকিমুক্ত হলেই বাসায় যাওয়ার অনুমতি নেয়া হবে। আপাতত সপ্তাহখানেক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।


মেডিকেল বোর্ডের এক চিকিৎসক বিবার্তাকে জানান, ম্যাডাম শাররিকভাবে খুবই অসুস্থ। এ অবস্থায় তিনি যদি আবার করোনায় আক্রান্ত হোন তাহলে তার শারীরিক পরিস্থিতি আরো ভয়ানক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের ডায়াবেটিস কখনো নিয়ন্ত্রণে ছিনো না। ইনসুলিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। এ জন্য কেবিনে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিসিইউর সাপোর্টও রাখা হয়েছে। ইলেক্ট্ররাল ইমব্যালেন্স অর্থাৎ খনিজে অসমতা দেখা দিচ্ছে মাঝেমধ্যে।


তিনি বলেন, হাসপাতালে প্রচুর কোভিড রোগী আসা-যাওয়া করছে। কেবিনেও নার্স, স্টাফ, আয়া, ক্লিনারসহ অনেকেই যাচ্ছেন। তাদের কাছ থেকে সংক্রমিত হতে পারেন। বোর্ড এ জন্যই খালেদা জিয়াকে বাসায় রেখে চিকিৎসার চিন্তা করেছিল। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা স্বস্তিদায়ক নয়। আজ ভালো তো কাল খারাপ। সবচেয়ে ভয়ের কারণ রক্তক্ষরণ; যা শনিবারো অল্প পরিমাণে হয়েছে। এটি বন্ধ হচ্ছে না কোনোভাবে। রক্তের হিমোগ্লোবিন দ্রুত কমে যায়। আবার সময় নিয়ে একটু বাড়ে।


মেডিকেল বোর্ডের অপর সদস্য ডা. আল মামুন বিবার্তাকে বলেন, ম্যাডামের শরীর প্রচণ্ড দুর্বল। খাবারের রুচি নেই। ম্যাডাম হাসপাতালে থাকতে চান না। তিনি বাসায় যেতে চান। আর এই বয়সের একজন মানুষকে টানা হাসপাতালের বিছানায় থাকাও ভীষণ যন্ত্রণার ব্যাপার। চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করে বাসায় নিয়ে গেলে তো আবারো হাসপাতালে নিতে হয়। তার জন্য বর্তমানে বারবার আনা-নেয়াও খুব ক্ষতির বিষয়। কারণ চারদিকে করোনা বাড়ছে।


খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বিবার্তাকে বলেন, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশে তার সুচিকিৎসা হচ্ছে না। দেশে চিকিৎসা দিয়ে খালেদা জিয়াকে পরিপূর্ণভাবে সুস্থ করা সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তার বিদেশ যাওয়াটা অপরিহার্য। ম্যাডামকে দেশের বাইরে নিয়ে যত দ্রুত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে, ততই তার জন্য মঙ্গল। দেশে যে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব তা দেয়া হয়েছে, তাতে কোনো রেজাল্ট আসছে না। তার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে উন্নত সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া ছাড়া এখন কোনো বিকল্প নেই।


এবিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ চৌধুরী প্রিন্স বিবার্তাকে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এখনও সংকাট্টপন্ন অবস্থায় আছেন। বাংলাদেশে যে চিকিৎসা রয়েছে খালেদা জিয়ার এরচেয়ে বেশি ভালো চিকিৎসা সম্ভব নয় যা গঠিত বোর্ডের ডাক্তাররা একাধিকবার জানিয়েছেন। দল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বারংবার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে প্রত্যাখান করেছে। যা উদ্দ্যেশ্যপ্রণীত এবং অমানবিক।


তিনি বলেন, উনার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। ম্যাডাম কবে কখন বাসায় ফিরবেন তা উনার জন্য গঠিত মেডিকেল বলতে পারবে।


গত বছরের ১৩ নভেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়াকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর ওইদিন তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার তার শরীরে রক্তক্ষরণ হয়। দীর্ঘদিন সিসিইউতে থাকার পর গত ৮ জানুয়ারি তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।


১৫ই জানুয়ারি খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমা করোনায় আক্রান্ত হন। তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনা ব্লকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। ফাতেমা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর বেগম জিয়ারও করোনার নমুনা নেয়া হয়। ফলাফল নেগেটিভ আসে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তার পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান শিথি গত ১৬ই জানুয়ারি লন্ডনে চলে গেছেন। এখন বিএনপি নেত্রীর জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের পাশাপাশি তার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ অন্যরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। তবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরিবার কিংবা দলের নেতাদের সাক্ষাতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।


বিবার্তা/বিপ্লব/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com