জমে উঠেছে গ্রন্থমেলা
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:১৬
জমে উঠেছে গ্রন্থমেলা
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ এ গানটি শুনলে মনে পড়ে যায় মাতৃভাষার জন্য জীবনদানকারী ভাষা শহীদদের কথা। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের করুণ ইতিহাস ফুটে উঠেছে এ গানে। ভাষা শহীদদের অমর সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে প্রতিবছর বাংলা একাডেমি ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করে।



এবারও ভাষার মাসে আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২০’ চলছে। ইতোমধ্যে মেলার ১০ তম দিন অতিবাহিত হয়েছে। এরইমধ্যে লেখক, পাঠক ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে গ্রন্থমেলা।


সোমবার ( ১০ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, বিকাল ৩ টায় মেলার দ্বার খুলার কথা থাকলেও ২টার পর থেকে মেলায় প্রবেশের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন অনেকে। এরপর বেলা যত বাড়তে থাকে লেখক, পাঠক ও দর্শনার্থীদের ভিড়ও ততই বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিকাল ঘনিয়ে সন্ধ্যা আসতেই মেলাপ্রাঙ্গণ তখন জনস্রোতে পরিণত হয়। মেলায় কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে, আবার কেউবা আসছেন দলবেঁধে।



সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলার বিভিন্ন অংশে বঙ্গবন্ধুকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে তার জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে ওঠে। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে বঙ্গবন্ধু পাঠকক্ষ রয়েছে। যেখানে আরামে বসে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বই পড়া যাচ্ছে। মেলায় স্টলগুলোর আশেপাশে রয়েছে বসার স্থানও। মেলাকে ধূলোবালি মুক্ত করতে ইট বিছানো অবস্থায় রাস্তাগুলোকে প্রশস্ত করা হয়েছে।


মেলার উভয় অংশে তিনটি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে। দুটি সোহরাওয়ার্দীতে ও একটি একাডেমি প্রাঙ্গণে। ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ এবার বর্ধিত পরিসরে স্থাপন করা হয়েছে। শিশু চত্বর বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। মেলার পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ঘর রয়েছে। শারীরিক জরুরী প্রয়োজনের জন্য স্থাপিত টয়লেট ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও উন্নত করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারো মেলায় শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য হুইল-চেয়ার সেবাও রয়েছে।



এছাড়া নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করছেন। কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরাও। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দুটি ফুডকোর্টও রয়েছে।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে তার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন লেখক, প্রকাশক, পাঠক-দর্শনার্থীরা।



‘অন্তিম দিনগুলো’ বইয়ের লেখক খালিদ সাইফুল্লাহ বিবার্তাকে বলেন, প্রতিবছরের চেয়ে এবারের বইমেলা আলাদা মনে হচ্ছে। সবকিছু সাজানো-গুছানো দেখে একজন লেখক হিসেবে মন ভরে গেছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরাম বন্ধুদের নিয়ে মেলায় এসেছেন। তিনি বিবার্তাকে বলেন, প্রতিবছর মেলায় ধূলোর ছড়াছড়ি থাকে। এবার ইট বসানোয় সেটা নেই। বসার জন্য উপযুক্ত স্থানও রাখা রয়েছে। এছাড়া খাবারের হোটেলসহ মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবার অনেক ভালো মনে হচ্ছে।



মেলা থেকে কি ধরণের বই কিনেছেন বা কিনবেন প্রতিবেদকের এ প্রশ্নের জবাবে ঢাবির এ শিক্ষার্থী বলেন, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে এখন মেলায় আসা বিভিন্ন বই দেখছি। আরো কয়েকদিন দেখে তারপর পছন্দের বইগুলো কিনবো।


‘অন্য প্রকাশ, প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম বিবার্তাকে বলেন, বইমেলা ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। যত দিন যাচ্ছে লেখক, পাঠক, দর্শনার্থীদের ভিড় ততই বাড়ছে। এবারের মেলার সার্বিক পরিবেশও অনেক ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি।



বই বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, মেলা জমে উঠলেও বই বিক্রি এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। এখন বেশির ভাগ মানুষ পছন্দের বইয়ের খোঁজ নিচ্ছেন। কয়েকদিনের মধ্যে বই বিক্রি বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।


প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হলেও এবার সিটি নির্বাচনের কারণে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। ২ ফেব্রুয়ারির বিকাল ৩টায় মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


বিবার্তা/রাসেল/উজ্জ্বল/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com