নগরপিতার কাছে কী চায় ঢাকাবাসী? (পর্ব-১)
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:২০
নগরপিতার কাছে কী চায় ঢাকাবাসী? (পর্ব-১)
আদনান সৌখিন
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নগরবাসীর দরজায় কড়া নাড়ছে। যদিও ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা ও মতবিরোধ রয়েছে, তবুও উচ্চ আদালতের রায়ে এখনো পর্যন্ত এই তারিখটাই চূড়ান্ত রয়েছে। তবে সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষ তথা নগরবাসীর প্রত্যাশার কমতি নেই।


ঢাকা সিটি করপোরেশন মূলত উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে বিভক্ত, কিন্তু এটি আসলে একটি শহর। ঢাকা সিটি করপোরেশন কেন্দ্রে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই এর মেয়রদের কাছে মানুষের প্রত্যাশাও অনেক।



মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম


প্রথমত, নগরবাসী অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। যিনি মেয়রের আসনে বসবেন তিনি নিজে মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাবেন, গাড়িতে, বাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়াতে পারবেন। কিন্তু তিনি নগরবাসীকে কী দেবেন? কিংবা তার দেয়ার সাধ্য কতটুকু? এসব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজতেই নগরীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের নানান প্রত্যাতাশার কথা।


নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হবার পর থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে চার মেয়রপ্রার্থী তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে যাবার চেষ্টা করছেন, কুশলাদি বিনিময় করছেন, নগরবাসীও তাদের কাছে পেয়ে জানাচ্ছেন নানান আবদার, প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা। প্রার্থীরাও তাদের সকল সমস্যার সমাধানের আশ্বাস এবং পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।



নির্বাচনী প্রচারণায় মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম


বনানীতে মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলামের কার্যালয় ঘিরে কিছু উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেল। তাদের সাথে কথা বলা জানা গেছে, কেউ এসেছেন মেয়রের কাছে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে, কেউ বা এসেছেন নিজের এলাকার সমস্যা নিয়ে। আবার কেউ বা এসেছেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে। এমনি একজনের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি থাকেন গুলশান-২। তার ফার্নিচারের ব্যবসা রয়েছে মধ্য বাড্ডা এলাকায়। নাম রফিকুল হাওলাদার। তিনি বিবার্তাকে বলেন, আসলে আমাদের নগর জীবনে সমস্যার শেষ নাই, আর সব সমস্যার সমাধান যে মেয়র দিবেন সেটাও না। তবে অফিস টাইমে সকালে আর বিকালে যে ট্র্যাফিক জ্যাম ও গণপরিবহনের ভোগান্তি হয় সেটা অসহনীয়। আমি না শুধু আমার মত সবাই এই সমস্যায় ভুক্তভোগী। আমরা এটা থেকে কিছুটা হলেও নিস্তার চাই।


পাশে থাকা বনানীর বাসিন্দা আজমল আকন্দ বলছিলেন, আমরা বনানীর মত এলাকায় বাস করেও ময়লা আবর্জনার সুষ্ঠু কোনো ব্যবস্থা করতে পারি নাই। এর দায় সিটি কর্পোরেশনকে নিতে হবে।


সকালে যখন ফ্রেশ মাইন্ডে বাইরে বের হই, কিছু দূর গেলেই দেখা যায় রাস্তার মাথায় বিরাট ডাস্টবিন। আবার যারা বাসা বাড়ি থেকে ময়লা নিয়ে যাবার কথা, তারাও ঠিকমত না আসার কারণে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এগুলা একদম বেসিক নাগরিক সুবিধার মধ্যে পড়ে।



নির্বাচনী গণসংযোগে আতিকুল


গেল বুধবার উভয় দলের নির্বাচনী প্রচারণা চলে রাজধানীর আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগরসহ আশপাশের এলাকায়। কথা হচ্ছিল কনফেকশনারি দোকানদার বাকী বিল্লার সাথে। তিনি বিবার্তাকে বলেন, নির্বাচনের আগে আর পরে নেতাদের কথার কাজের কোনো মিল খুঁজে পাই না। আমাদের এই আগারগাঁও বাজার এলাকার মূল সমস্যা হচ্ছে সরু রাস্তা, খানা-খন্দ দিয়ে ভরা, বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের উপায় থাকে না। তার উপর আবার পর্যাপ্ত লাইট নেই রাস্তায়। যেই নির্বাচিত হউক, তাদের কাছে দাবি থাকবে এসব সমস্যার সমাধান যেন দ্রুত হয়।


একই সুরে কথা বলছিলেন শ্যাওড়াপাড়া নিবাসী স্কুল শিক্ষিকা নার্গিস সুলতানা। তিনি বলেন, মেট্রো রেলের জন্য আমাদের এলাকায় যানজট চরমে, আর বৃষ্টি হলে সেটা কি হয় বলার অপেক্ষা রাখে না। আর কাজিপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া এরিয়ায় পানির সমস্যা অনেক, ওয়াসার পানি আছে ঠিক, তবে তা পানের অযোগ্য। এসব মৌলিক অধিকার যারা পূরণ করতে পারবে আমি মনে করি তাদেরই নগর পিতার দায়িত্ব নেয়া উচিত।


সেলিম শিকদার। থাকেন মিরপুর-২, ইট পাথর ও নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা করেন গাবতলি আমিনবাজার রোডে। তিনি বিবার্তাকে বলেন, আমিসহ মিনিমাম ৫০০-৭০০ লোকের ব্যবসা আছে এখনে, প্রতিদিন শ্রমিক সমাগম হয় আরো ১৫০০-২০০০ জন। ভারি ট্রাক চলাচল করে দিন-রাত সমানভাবে। কিন্তু এখনে খুব কম লাইট আছে, রাতে খুব সমস্যা হয়। আর জ্যাম হয় তীব্র, একটি ট্রাক বের হইতে ১ ঘণ্টা লেগে যায়। আমরা এর সমাধান চাই।



নির্বাচনী প্রচারণায় আতিকুল


১৭ বছর ধরে চায়ের দোকান চালান মিরপুর-১২ নিবাসী আব্দুল হাই। তিনি দেখেছেন এই এলাকার উত্থান-পতন অনেক কিছুই। তার কাছে ঢাকা সিটি নির্বাচনের প্রত্যাশা জানতে চাইলে তিনি বিবার্তাকে বলেন, নির্বাচনে সবার ভোট সমান ভূমিকা রাখলেও, সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে আমরা থাকি শেষের কাতারে। কিছুদিন পর পর আমার দোকান উচ্ছেদ করে দেয়া হয় অবৈধ স্থাপনা বলে। কিন্তু এটাই আমাদের একমাত্র রুটি রুজি।আমাদের উচ্ছেদ করার আগে মাথা গোঁজার ঠাই দিয়ে উচ্ছেদ করতে হবে। এই কিছুদিন আগেও দুয়ারিপাড়া বস্তি ভেঙে দেয়া হলো, হাজার হাজার মানুষ ঠাঁই হারাল। আমরা কি তবে দেশের নাগরিক না?



ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনী প্রচারণায় এলাকাবাসী


প্রসঙ্গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজার দিনে ভোটের তারিখ বদলানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।


এ প্রসঙ্গে গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করলে আওয়ামী লীগ বা সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে তারিখ পরিবর্তনের এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের।



ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনী প্রচারণায় এলাকাবাসী


তিনি বলেন, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচন কমিশন তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে একটি সমাধানে পৌঁছাবেন বলে আমি মনে করি।


বিবার্তা/আদনান/উজ্জ্বল/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com