ঢাবিতে ভেন্ডিং মেশিনে ন্যাপকিন: সন্তুষ্টি প্রকাশ ছাত্রীদের
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৭
ঢাবিতে ভেন্ডিং মেশিনে ন্যাপকিন: সন্তুষ্টি প্রকাশ ছাত্রীদের
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীদের সুবিধার জন্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ও এসিআইয়ের সহযোগিতায় স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পাসের ১০টি স্থানে এই মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে।ছাত্রীরা যেকোনো সময় ১০ টাকার নোট দিয়ে মেশিন থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন। ডাকসুর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে বেশ প্রশংসিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হল, কবি সুফিয়া কামাল হল, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ১টি করে মোট ৫টি স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ১টি, কলাভবনের ছাত্রীদের কমনরুমে ১টি, বিজনেস অনুষদের কমনরুমে ১টি, সায়েন্স লাইব্রেরিতে ১টি ও চারুকলায় ১টিসহ মোট ১০টি মেশিন স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে রোকেয়া হলসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মেশিনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিগুলোরও কাজ চলছে।খুব শিগগিরই ডাকসু অনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে যাচ্ছে এই মেশিনের কার্যক্রম।


ভেন্ডিং মেশিনের নিয়মাবলী সম্পর্কে আয়োজকরা জানান, ভেন্ডিং মেশিন থেকে যেকোনো সময় ছাত্রীরা ১০ টাকার নোট দিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন। ২০০১ সালের পর থেকে প্রচলিত যেকোনো দশ টাকার নোট দিলেই একটি ন্যাপকিন বেরিয়ে আসবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৪ টাকা। দাম বৃদ্ধি পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা দশ টাকাই এই সেবাটি পাবেন। মেশিনের পাশেই দুটো ডিসপোজাল বিন এবং দুটো তোয়ালে দেয়া থাকবে। প্রতিটি ভেন্ডিং মেশিনের কাছে একমাস একজন মেয়ে থাকবেন, যিনি ক্রয় করা এবং যেকোনো সমস্যার সমাধান করবেন।



স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিনের পাশে ডাকসু সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ফরিদা পারভীনসহ অন্যান্য ছাত্রীরা


ভেন্ডিং মেশিনের স্যানিটারি ন্যাপকিনের উদ্যোগ ঢাবি ছাত্রীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন ছাত্রী। তারা জানান এর মাধ্যমে ঢাবির ছাত্রীরা বেশ উপকৃত হবেন।


এবিষয়ে বাংলা বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী ফারজানা ইসলাম বিবার্তাকে বলেন, ঋতুস্রাব মেয়েদের জীবনে একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ঘটনা। এখনো অনেকে ওষুধের দোকানে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে গেলে লজ্জা পান। আবার অনেক সময় দেখা যায়, এসব বিক্রি করা হয় কাগজে মুড়ে কিংবা কালো পলিথিনে ভরে। অবস্থাটা এমন হয়েছে যে, মনে হয় যেন কোনো নিষিদ্ধ জিনিস বিক্রি করা হচ্ছে বা কেনা হচ্ছে। ভেন্ডিং মেশিনে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থাটা ডাকসু অভিনব উদ্যোগ।তার জন্য ডাকসুকে ধন্যবাদ জানাই।



স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে


শাকিলা ইফফাত নামের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আরেক ছাত্রী বিবার্তাকে বলেন, পিরিয়ড চলাকালীন ক্যাম্পাসে এসে নানা সমস্যায় পড়তে হয় ছাত্রীদের। হাতের কাছে ন্যাপকিন না থাকার ফলে এসব সমস্যা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের জন্য ভেন্ডিং মেশিন দিয়ে ডাকসু একটি সুন্দর ও বাস্তবমুখী চিন্তা এবং তার বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। আমাদের চিন্তা এবার দূর হলো।প্রয়োজনে হলে খুব কাছ থেকে আমরা এখন ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবো।


ভেন্ডিং মেশিন সম্পর্কে জানতে চাইলে ডাকসু’র সদস্য তিলোত্তমা শিকদার বিবার্তাকে বলেন, আমরা ডাকসু নির্বাচনের ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ছাত্রীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবস্থা করব। পরে আমরা এটার জন্য কাজ করেছি। বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম স্যার এব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। তার সহযোগিতায় এসিআই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেন্ডিং মেশিনগুলো স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।


তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের সুবিধার ভিত্তিতে নির্ধারিত ১০টি স্পটে এখন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হচ্ছে। সমাজকল্যাণসহ আরো কয়েকটি স্থানে ভেন্ডিং মেশিন বসাতে আমি এসিআইয়ের কাছে আবেদন করেছি। তারাও আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আগে যে ১০টি মেশিন বসানো হয়েছে সেগুলো ভালোভাবে রান করুক, তারপর বাকিগুলোও বসানো হবে।



মেশিন নিয়ে ডাকসু সদস্য তিলোত্তমা শিকদার ছাত্রীদের সাথে আলাপকালে


কবে নাগাদ ভেন্ডিং মেশিনের কার্যক্রমের উদ্বোধন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ৪ ডিসেম্বর মেশিনগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকতে পারেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তারপরেও আমরা সংবাদ সম্মেলন করে কখন উদ্বোধন, আর কারা অতিথি হিসেবে থাকবেন সেব্যাপারে জানিয়ে দেবো।


ভেন্ডিং মেশিন সম্পর্কে ডাকসুর সহ-সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন বিবার্তাকে বলেন, যে স্বপ্ন প্রতিনিয়ত আমাদের তাড়া করে বেড়ায়, সেটি হলো শতবর্ষের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এ ক্যাম্পাসটাকে মেয়েদের জন্য শতভাগ উপযোগী করে গড়ে তোলা। শুধু স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবস্থা নয়, আমরা চাই লিঙ্গ বৈষ্যমের প্রত্যেকটি চিহ্ন দুমড়েমুচড়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিতে। নারী-পুরুষ পরিচয়ের উর্ধ্বে মানুষ হিসেবে সবাই বাঁচতে শিখুক, স্বাধীন জীবন-যাপন করুক, তথাকথিত সামাজিক বিধিনিষেধের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলুক-এটিই আমাদের চাওয়া।


বিবার্তা/রাসেল/উজ্জ্বল/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com