কম্পিউটারযোদ্ধা রায়হানুল ইসলামের উঠে আসার গল্প
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৫১
কম্পিউটারযোদ্ধা রায়হানুল ইসলামের উঠে আসার গল্প
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

স্বপ্ন দেখতে কে না ভালোবাসে? সবাই স্বপ্ন দেখেন। অন্য পাঁচটা সাধারণ যুবকের মতো তিনিও ভবিষ্যত ক্যারিয়ার জীবন নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন-একদিন নিজের একটা বড় আইটি প্রতিষ্ঠান হবে। সেই প্রতিষ্ঠানে দেশের বেকার যুবকদের আইটিতে প্রশিক্ষণ দেবেন। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ-বিদেশে কাজ করার মতো উপযুক্ত ও দক্ষ করে গড়ে তুলবেন। সেই লক্ষ্যে একটু একটু করে নিজেকে প্রস্তুত করেন তিনি। আইটিতে দক্ষ করে গড়ে তোলেন অসংখ্য যুবককে। সময়ের পলাক্রমে আজ তিনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার। একইসাথে দেশের হাজারো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের স্বপ্নদ্রষ্টা।


বলছিলাম আত্মপ্রত্যয়ী, সফল ফ্রিল্যান্সার ও প্রফেশনাল আইটি ট্রেইনার মো. রায়হানুল ইসলামের কথা। তার এই সফল ফ্রিল্যান্সার ও প্রফেশনাল আইটি ট্রেইনার হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে অনেক কাঠখড় পোড়ানোর কথা। আজকে আমরা শুনবো মো. রায়হানুল ইসলামের আইটি ক্যারিয়ারে সফল হয়ে ওঠার আদ্যোপান্ত।


মো. রায়হানুল ইসলামের জন্ম বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শান্তিনগরে মধ্যবিত্ত এক পরিবারে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নিজ এলাকাতেই। শেরপুর সরকারি ডি জে মডেল হাইস্কুলের কমার্স বিভাগ থেকে এসএসসি ও বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।



প্রতিটি সাফল্যের নেপথ্যে থাকে গভীর অধ্যবসায়


সময়টা ছিল ২০০৬ সাল। তখন ঢাকা শহর ছাড়া জেলা বা বিভাগীয় শহরগুলোতে সেভাবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছেনি। বগুড়ায় তখন থেকেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। কেউ কেউ ফ্রিল্যান্সিং করছিলেনও। বিষয়টা রায়হানুলের মাথায় ঢোকে। যেসব স্থানীয় যুবক ফ্রিল্যান্সিং করতেন তাদের সাথে কথা বলেন। বিষয়টা ভালো করে জেনে-বুঝে ফ্রিল্যান্সিং করার উদ্দেশ্যে কম্পিউটার শেখার জন্য ভর্তি হন বগুড়া ক্রিয়েটিভ আইটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে। লক্ষ্য ভালো করে কম্পিউটার চালানো শেখা। প্রথমে মাইক্রোসফট অফিস প্রোগ্রাম শেখেন। কম্পিউটার চালানোর প্রাথমিক বিষয়গুলো জানার পর শেখার আগ্রহ বেড়ে যায় বহুগুণ।



রায়হানুল বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের পাসাপাসি স্থানীয় লোকদের যেকোনো পোস্টার, ব্যানার, আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে দিতেন। আমি বসে বসে সেগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। গ্রাফিক ডিজাইনের কাজগুলো খুব ভাল লাগতো। ওই ডিজাইনার কিভাবে গ্রাফিকের কাজ করছেন সেগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতাম। কখনো কৌতূহল বশে কাজের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করলে, ওই গ্রাফিক ডিজাইনাররা বলতেন, এসব বিষয় তুমি বুঝবা না, পারবা না। অন্যরা পারলে আমি পারবো না কেন? তখন মাথায় জেদ চাপে। যেকোনো মূল্যেই হোক, আমাকে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শিখতেই হবে।



এইচএসসি পাস করার পর উচ্চশিক্ষার পালা। ভর্তি হন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে। তখনও মাথায় শুধু কাজ করছিল গ্রাফিক ডিজাইনার হওয়ার বিষয়টা। অনেকটা জেদ করেই একটা ল্যাপটপ কিনে ফেলেন। এখন শেখার পালা। বর্তমানে যেমন সহজে হাতের নাগালে ব্রডব্যান্ড, মোবাইল ইন্টারনেট ও ইউটিউব প্লাটফর্ম রয়েছে, তখন বিষয়টা এতো সহজ ছিল না। বাজার থেকে এডোবি ফটোশপের বই কিনে ভালোভাবে আয়ত্ত করে সে অনুসারে ল্যাপটপের ফটোশপে বসে বসে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করার চেষ্টা করতেন।


রায়হানুল বলেন, আমার আল্লাহ প্রদত্ত একটা বিশেষ গুণ ছিল সেটা হলো, যেকোনো সফটওয়্য়ার সম্পর্কে পড়াশোনা করলে পরে সেটি নিয়ে গুগলে একটু রিসার্চ করলে অল্প সময়ের মধ্যে ওই সফটওয়্যারের ফাংশন সম্পর্কে সহজে বুঝতে পারতাম। এভাবে বই পড়ে নিজের অদম্য চেষ্টায় চলার মতো গ্রাফিকের কাজগুলো শিখে ফেলি।