‘আত্মনির্ভরশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন শেখ হাসিনা’
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২৩:৩৫
‘আত্মনির্ভরশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন শেখ হাসিনা’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আত্মনির্ভরশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল বিবার্তা২৪ডটনেট আয়োজিত বিবার্তা সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গৌরব ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সদ্য প্রয়াত তিনজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সঞ্চালক এফএম শাহীন।


প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, করোনাকালে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। তবে এ কার্যক্রম বিগত ১১ বছর আগে শুরু করা হয়েছিল।


তিনি বলেন, ছয় মাসে অনেক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এই কার্যক্রম দেশের প্রতিটি মানুষই গ্রহণ করেছে। কিন্তু বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে এটাই আমাদের চিন্তা করতে হবে বিগত ১১ বছর আগে আমাদের ডিজিটাল প্লাটফর্ম কেমন ছিল? এই বিবেচনায় সমস্যাগুলো তেমন কিছুই না।


কয়েকটি সমস্যার কথা উল্লেখ করে পলক বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সুযোগ্য পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের কারণেই। তবে কোথাও হয়তো নেটওয়ার্ক কম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যাও থাকবে না। এটাও সমাধান হয়ে যাবে।


মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন অফার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কেও সে সাফল্য দেখানো হচ্ছে; সেটা আসলে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর নয়, এটা শেখ হাসিনার সাফল্য। তারা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই এতো অফার দিতে পারছে।


পলক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়া। আর দেশকে ডিজিটাল করার মাধ্যমে শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।


কনোরাকালীন অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কনোরা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই আজকে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। আজকে ৭০ ভাগ স্কুলের শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। বাকিরাও যাতে অনলাইনে ক্লাস নিতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যে সফটওয়ার তৈরি করা হচ্ছে তা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই, যারা টিলিভিশেনে ক্লাসের সুযোগ নেই। তারাও ৩৩৩ এ ফোন দিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে ক্লাস নিতে পারছেন।


ই-কার্মস ব্যবসা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ই-কর্মাস ব্যবসায়ীরা এগিয়ে গেছেন। অনলাইনে কেনাকাটা একটা লাইফ স্টাইলে পরিণত হয়েছে। তবে ই-কর্মাসের মাধ্যমে যাতে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার না হন তা দেখভালের জন্য রেগুলেটরি বডি স্থাপন করার চিন্তা করা হচ্ছে। তা হলে প্রতারকরা ধরা পড়ে যাবে। এছাড়াও সফটওয়ারে মাধ্যমে ই-কর্মাস ব্যবসায়ীদের লেনদেন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটা করা হলে ই-কর্মাস ব্যবসায়ীদের লেনদেনের এক পয়সাও হিসাবের বাহিরে যাবে না বলে জানান তিনি।


হার্ডওয়ার সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত চার বছরে কয়েকটি পলিসির কারণে হার্ডওয়ারেও অনেক বিপ্লব হয়েছে। আর এ কারণেই আমাদের দেশের পণ্য এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। এটা অবশ্যই গর্বের বিষয়। বিদেশে বাংলাদেশকে একটা আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।


গুজব রোধের জন্য সাইবার যোদ্ধা তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রতারণার ক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আগামী চার মাস সাইবার অপরাধ চিহিৃত করতে কাজ করা হবে। এছাড়াও সবাই সচেতন হলে গুজব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনাকালের শুরুতেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালগুলো অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েগুলো অনেক দেরিতে ক্লাস শুরু করেছে। এতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালগুলোর সেমিস্টার এগিয়ে যাবে।


করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের অনেক জেলায় বন্যা হয়েছে। তাই সে সব জেলা ও উপজেলাগুলোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগই পায়নি।


স্কুল খুলে দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে স্কুল খোলার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আজকে একটি নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু করোনা বাড়ছে। এমতাবস্থায় স্কুলে শিক্ষার্থীরা আসলে কিভাবে স্বস্থ্য বিধি মানা হবে সেটা দেখার বিষয়।


ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার সম্পর্কে সাইফুল বলেন, ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যাংকিং খাত কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু ঝুঁকি মোবাবেলার সক্ষমতাও তৈরি হচ্ছে। আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা সফটওয়ার তৈরির মাধ্যমে ঝুঁকি মোবাবেলা করা চেষ্টা করছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ন কবির বলেন, করোনার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুরু থেকেই অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালগুলোতে অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে। এছাড়াও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যায়ে অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতির সংখ্যাও বেশি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সেসব সুযোগ সুবিধা দেয়ার করণেই এটা হয়েছে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধার অভাবে ৫০ ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত হয় না। তাই তারা পিছিয়ে পেড়েছে।


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও অনেক দুর্বল রয়েছে। তাই ৫০ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী ক্লাসে সংযুক্ত হতে পারছে না। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা করে ঋণ দেয়া হবে। এ টাকা দিয়ে তারা যাতে মোবাইল কিনতে পারে। সে জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


গুজব সম্পর্কে ঢাবির ওই শিক্ষক বলেন, যখন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়, তখন সেটা থেকেই অনেক কিছু শিখার আছে। আর এই শেখার মধ্যে একটি গ্রুপ আছে; তারা খারাপ দিকটা শেখে। আর আরেকটা গ্রুপ আছে; তারা খারাপ দিকটা দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। এই কারণেই অনেকেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনমত তৈরি করার চেষ্টা করে। আমারা সচেতন হলে মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তর করে গুজব চালাতে পারবে না। তা হলে এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।


অনুষ্ঠানের শেষে প্রতিমন্ত্রীর কাছে জিডিটাল প্লাটফর্মে শিশুদের বিনোদনের জন্য নতুন কন্টেন তৈরি ও শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেটের দাম কমানোর দাবি জানান সঞ্চালক এফএম শাহীন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী তার এ দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এটা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। কোনো সমস্যাই সমস্যা মনে করি না। সমস্যাকে সম্ভবনা মনে করেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।


বিবার্তা/খলিল/জাই

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com