বায়ো-প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২০, ১৬:৩৫
বায়ো-প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

উন্নত বিশ্বে এখন (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরেোপ, চীন, জাপান) ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে বায়ো-টেকনোলজি। মূলত মানব প্লাজমা থেকে বায়ো-টেক পণ্য উৎপাদিত হয়। এইচআইভি এইডস এবং ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় এসব বায়ো-টেক ঔষধ এখন ব্যবহার হচ্ছে।


এছাড়া সার্স, ইনফ্লুয়েঞ্জা, পা ও মুখের বিভিন্ন সংক্রমনসহ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ প্রতিরোধে এর ব্যবহার হচ্ছে। উচ্চতর প্রযুক্তির এই বায়ো-প্রোডাক্ট তথা জৈব পণ্য উৎপাদন একটি জটিল প্রক্রিয়া।


আর এই প্রক্রিয়াটিই এখন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। নতুন এই অভিযাত্রাটি শুরু হয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক থেকে। এই টেক সিটির নানা সুবিধা ও সেবা গ্রহণ করে এখানেই বছরে ১২০০ টন প্লাজমা বিশ্লেষণে সক্ষম প্ল্যান্ট নির্মাণ করতে যাচ্ছে ওরিক্স বায়ো-টেক লিমিটেড। স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সহযোগী হয়েছে সামিট টেকনো পলিস।


মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারের অডিটোরিয়ামে এ-লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলমের উপস্থিতিতে চুক্তিতে সই করেন হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, অরিক্স বায়োটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড বো এবং সামিট টেকনো পলিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা খান।


চীনের বৃহত্তম বায়ো-টেক প্রতিষ্ঠান চায়না বায়োলজির প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য উন্নত বিশ্বের মান বজায় রেখে স্থাপন করা হচ্ছে ২০টি প্লাজমা সংগ্রহ স্টেশন। সেখানে থাকছে বিশেষায়িত প্লাজমা ভ্যান।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পুরো প্লান্টের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রকল্পটির উপদেষ্টা আহমেদুল হক ববি।


তিনি জানান, ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগে নির্মিতব্য এই প্লান্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে বায়ো-টেক পণ্য সহজলভ্য হবে। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে এই প্লান্টে ২০০০ কর্মীর উচ্চ বেতনের চাকরির সংস্থান হবে। এটাই হবে ২০২১ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য একটি যোগ্য প্রকল্প।


আইসিটি টাওয়ারের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বিশেষ অতিথি হিসেবে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান এবং ওরিক্স বায়ো-টেক লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড বো সংযুক্ত ছিলেন।


অনুষ্ঠানে হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ সম্ভবনা ও সুযোগ সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। পলক বলেন, কালিয়াকৈরে অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি’ দেশের প্রথম ও বৃহত্তম হাই-টেক পার্ক। ২০১৪ সালে আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ সরেজমিনে এই পার্কটি পরিদর্শন করে পার্কের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ৩৫৫ একর জমিতে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি’-তে বর্তমানে ৩৭টি কোম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।



প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সেখানে ৫টি কোম্পানি উৎপাদন শুরু করেছে। কোম্পানিগুলো এই পার্কে মোবাইল ফোন এসেম্বলিং ও উৎপাদন, অপটিকাল কেবল, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ডাটা-সেন্টার প্রভৃতি উচ্চ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে। ইতোমধ্যে ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে এবং প্রায় ১৩০০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী ২০২৫ সনের মধ্যে হাই-টেক পার্কগুলোতে ২৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বলে আমরা আশাবাদী।


আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, আইসিটি বিভাগ করোনা মোকাবেলায় যে ভুমিকা রেখেছে তা দেশের সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে আইসিটি বিভাগ। লাইভ করোনা টেস্ট, কোভিড-১৯ ট্র্যাকার, টেলি-মেডিসিন ও টেলিহেলথ, সহযোদ্ধা-প্লাজমা প্লাটফর্ম ইত্যাদি বহু উদ্যোগের সুফল পেয়েছে দেশবাসী। এর থেকেই একটি দেশের আইসিটি খাতের অগ্রগতির চিত্র সুস্পষ্ট।


সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, সামিট টেকনোপলিসে দেশের সর্বপ্রথম বায়ো-টেক শিল্প স্থাপনের জন্য ওরিক্সকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। প্রাক-কোভিড পরিস্থিতিতে যখন এই বিনিয়োগের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা হয় তখন প্লাজমা ফ্রাকশানেশন প্ল্যান্ট স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। করোনাভাইরাসের একটি সম্ভ্যাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে এখন যার তাৎপর্য বহুমাত্রায় উন্মোচিত হয়েছে।


অনষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) জনাব হোসনে আরা বেগম বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ একেবারে ন্যূনতম জনবল নিয়েও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।


চুক্তি শেষে ওরিক্স বায়ো-টেক চেয়ারম্যান কাজী শাকিল এবং সামিট টেকনোপলিশ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা খান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।


বিবার্তা/গমেজ

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com