ই-নামজারি ব্যবস্থায় কমছে ভূমি জালিয়াতি
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৫৩
ই-নামজারি ব্যবস্থায় কমছে ভূমি জালিয়াতি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

জাল দলিল ও ভুয়া খতিয়ান খুলে অবৈধভাবে জমি দখল, একাধিক ব্যক্তির নামে বিক্রি, নিবন্ধন ও নামজারি করার দিন শেষ হতে চলেছে।


ই-পর্চা থেকে ই-নামজারি পদ্ধতির মাধ্যমে নাগরিকদের দুয়ারে প্রশান্তির পথ খুলে দিয়েছে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)।


ইতোমধ্যেই ই-নামজারি সেবা নিয়ে হয়রানি ও ঠকবাজদের দৌরাত্ম্য থেকে বেঁচেছে সাড়ে ৩ লাখ সেবাগ্রহীতা। এই উদ্যোগ গ্রহণের পর থেকেই ভূমি সংক্রান্ত মামলাজট যেমন কমেছে; তেমনি ঘুষ-দুর্নীতির পথ সঙ্কুচিত হয়ে সরকারি আয় বাড়ছে। সমান তালে কমেছে জালিয়াতি।


এটুআইয়ের উদ্যোগে জমি কেনা-বেচার ডিজিটাল রূপান্তরে ভূমি অফিসগুলিতে ডিজিটাল রেকর্ডরুম চালু হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রেশনের পরে ৩৩৩ এ এসএমএস এর মাধ্যমে মিলছে ই-নামজারির বিস্তারিত তথ্য।


অনলাইন পেমেন্ট (সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ই-চালান) এর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পার্বত্য তিনটি জেলার ২৬ টি উপজেলাতে ই-নামজারি সিস্টেম বাস্তবায়িত হয়েছে।


ফলে অনলাইনে land.gov.bd এই ঠিকানা থেকে যে কোনো নাগরিক ঘরে বসে কিংবা কোনো ডিজিটাল সেন্টার হতে নামজারি-জমাভাগের আবেদন করতে পারছেন। এছাড়াও নামজারি ও জমা-ভাগ মামলার বর্তমান অবস্থা জানতে পারছেন।


জানা গেছে, এই সিস্টেমটি ব্যবহার করে উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারীগণ যেকোনো নামজারি-জমাখারিজ মামলা অতি সহজেই নিষ্পত্তি করতে পারছেন । এছাড়া ড্যাশ বোর্ডের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম মনিটরিং করতে পারেন।


এটুআই সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশের তিনটি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান বাদে বাকি ৬১ জেলায় ই-নামজারি বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৪৮৫টি উপজেলা ভূমি অফিস, সার্কেল অফিস এবং তিন হাজার ৬১৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ই-নামজারির কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে সারাদেশে এক কোটি ৮ লাখ ১৫ হাজার ৯৩৯ জন সুবিধাভোগী ই-নামজারির কার্যক্রম থেকে সুবিধা পেয়েছে। এ সংক্রান্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি মামলা অনলাইনে নিষ্পত্তি হয়েছে।


জানা গেছে, আরএস খতিয়ান সিস্টেম (আরএস-কে) ডিজিটাইজড করার অংশ হিসেবে এটুআই-এর সহযোগিতায় ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর কর্তৃক প্রকাশিত আরএস খতিয়ান অনলাইনে প্রদর্শন ও বিতরণের লক্ষ্যে আরএস খতিয়ান সিস্টেম তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে দেশের মোট ৫৩টি জেলার ৩২১টি উপজেলায় এক কোটি ১ লাখ ১১ হাজার ৭০১টি খতিয়ান এন্ট্রির কাজ শেষ এবং তা আরএস-কে সিস্টেমে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি জেলার জন্য প্রস্তুত করা প্রায় দুই কোটি আরএস রেকর্ডের উপাত্ত আরএস-কে সিস্টেমে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও অনলাইনে প্রদর্শনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এ বিষয়ে এটুআই এইচডিএম কনসালটেন্ট আদনান ফয়সাল জানান, ভূমির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় ২০১৬ সালে ভূমি তথ্য ও সেবা কাঠামো দ্যা ওপেন গ্রুপ স্বীকৃতি লাভ করে। ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনটি পার্বত্য জেলার ২৬ টি উপজেলা বাদে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সারা দেশে ই-নামজারি শুরু হয়।


আদনান ফয়সাল আরও জানান, বর্তমানে ৪৮৫টি উপজেলা ভূমি অফিস ও সার্কেল অফিসে এবং ৩৬১৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ মোট ৪৫৬১টি অফিসে ই-নামজারি বাস্তবায়ন হয়েছে। মোট ৯,০০,৫১২টি নামজারি মামলা অনলাইনে দাখিল হয়েছে। ৫,৮৭,৫৭৭টি মামলা অনলাইনে নিষ্পত্তি হয়েছে। ১০,৮১৫,৩৩৯ জন সুবিধাভোগী ই-নামজারি সিস্টেম হতে সেবা পাচ্ছে।


বিবার্তা/উজ্জ্বল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com