‘সংস্কৃতির বিষয়গুলোকে ধর্মের মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনোভাবেই উচিত নয়’
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ০০:৪৭
‘সংস্কৃতির বিষয়গুলোকে ধর্মের মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনোভাবেই উচিত নয়’
মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান
প্রিন্ট অ-অ+

আরবের নারীরা কপালে টিপ দেয় না, এ জন্য এটিকে ইসলাম বিরুদ্ধ বলা একটি বিকৃত চিন্তা। পোশাক ও খাদ্য স্থান ভেদে ভিন্ন হয়। আরবের মানুষ রুটি খায়, এ জন্য কি আমরা রুটি খাওয়া সুন্নত বলতে পারবো? রাসূল (সা.) ভাত খেতেন না, রুটি খেতেন, কিন্তু এ কারণে এই রুটি খাওয়া ইসলামী শরিয়াতের অংশ হয়ে যায়নি। খাওয়া দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ ও সংস্কৃতির বিষয়গুলোকে ধর্মের মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনোভাবেই উচিত নয়। প্রত্যেকটি বস্তুকে তার স্বস্থানে রাখাই কর্তব্য। যার যা ইচ্ছা তাই খেতে পারে, যার যা ইচ্ছা তাই পরিধান করতে পারে।


এখনো অনেক আলেম মাংস না বলে গোশত বলতে হুকুম দেন। কেউ মাংস বললে বলেন, হিন্দুরা মাংস বলে, আমরা মুসলিমরা গোশত বলি। মাংস অর্থ মায়ের অংশ। লবণকে নুন বলতে বলেন। লবণ বলে হিন্দুরা। নুন বললে সাওয়াব হবে, লবণ বললে সাওয়াব হবে না। বাবা-মা না বলে আব্বা-আম্মা এবং কাকা বা জ্যাঠা না বলে চাচা বলাই ইসলামী রীতি বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। হিন্দুরা মাকে মা বলে, মুসলিমদের উচিত আম্মা বা আম্মি ডাকা এমন মত ব্যক্ত করছেন।


পানিকে কোনো অবস্থায় জল বলা যাবে না। জল বললে হিন্দু হয়ে যেতে হবে। এমন একটা বিকৃত মানসিকতা দ্বীনদার শ্রেণির একাংশের ভেতর ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে খুব চাতুর্যের সাথে। হিন্দুরা ভাত খায় বলে আমরা ভাত খেতে পারবো না, বা তারা তরকারিতে মরিচ খায় বলে আমরা মুসলিমরা মরিচ খেতে পারবো না এমন কথা কেউ বলবে না। হিন্দু নারীরা শাড়ি পরে বলে মুসলিম নারী শাড়ি পরতে পারবে না এমন ফতোয়া দেয়া হবে খুবই বাড়াবাড়ি। হ্যাঁ, আমাদের সমাজে এমন ফতোয়াও আছে। নারীদের শাড়ি পরাকেও অনেকে মন্দ চোখে দেখে। বাঙালি সমাজের প্রাচীন সব ঐতিহ্যগুলোকে নিয়ে এমন নেতিবাচক চিন্তা ছড়ানো হয়েছে দশকের পর দশক ধরে।


বিবার্ত/আশিক

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com