ছাত্রলীগের সম্মেলন : আলোচনায় বৃহত্তর ফরিদপুরের যারা
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৮:২৮
ছাত্রলীগের সম্মেলন : আলোচনায় বৃহত্তর ফরিদপুরের যারা
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

বহু আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের প্রাচীনতম ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্মেলন এলে বরাবরই আলোচনার শীর্ষে থাকে আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশ। ব্যতিক্রম ঘটছে না এবারের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনেও।


আগামী ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের এই জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ নভেম্বর, রবিবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি এ তথ্য জানিয়েছেন।


এর আগে আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী ছাত্রলীগের এই জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এরমধ্যে ৮ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ৯ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ২১ নভেম্বর, সোমবার বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ।


মূলত, ৪ নভেম্বর, শুক্রবার ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরে ১৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার তা ৩ তারিখের পরিবর্তে ৮ ডিসেম্বর করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাওয়ার কথা ছিল। যার কারণে সম্মেলন পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর নেয়া হয়। কিন্তু ওই সফর বাতিল হওয়ায় সম্মেলনের তারিখ ৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে।



এদিকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যেন ঘুম নেই পদপ্রত্যাশীদের। সম্মেলনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, পদপ্রত্যাশী ও কর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস, আকাঙ্ক্ষা ততই বেড়ে চলেছে। সংগঠনের শীর্ষপদ পেতে পদপ্রত্যাশীরাও শেষ মুহূর্তের দৌঁড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। সবাই যার যার অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগ হাইকমাণ্ডের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তারা সংগঠনের জন্য নিজেদের ত্যাগ ও ইতিবাচক দিকগুলো বিভিন্নভাবে প্রচার করছেন।



নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রলীগের এবার নেতৃত্ব নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নেতা বাছাইয়ে নেতৃত্ব দিবেন।


এদিকে ছাত্রলীগের বিগত সম্মেলনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় দেখা হয়। তার মধ্যে- পারিবারিক পরিচিতি, নিয়মিত ছাত্রত্ব, সংগঠনের জন্য ত্যাগ ও এলাকা। নেতৃত্ব নির্বাচনে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি এলাকার বিষয়টি বিশেষ প্রাধান্য পেয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন বিভাগের পদপ্রত্যাশীরা আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।


ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের ধারাবাহিক আয়োজনের আজ পঞ্চম পর্ব। সম্মেলনে নেতৃত্বের দৌঁড়ে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে আলোচিত যারা, তাদের নিয়ে।


সম্মেলনগুলোর ইতিহাস থেকে জানা যায়, ছাত্রলীগের বিগত দুইটি কমিটিতে প্রত্যেকবারই বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এসেছে। ২০১৫-২০১৮ পর্যন্ত মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং এস.এম জাকির হোসাইন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছন। এরমধ্যে সোহাগ এই অঞ্চলের ছিলেন। ২০১৮-২০১৯ কমিটিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ছাত্রলীগের সভাপতি এবং মো. গোলাম রাব্বানী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এরমধ্যে গোলাম রাব্বানী এই অঞ্চলের ছিলেন। যদিও এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।



ফলে, অনেকের দাবি, বিগত কমিটিগুলোর ন্যায় এবারো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের এক জায়গায় ফরিদপুর থেকে নেতা আসার সম্ভাবনা খুব বেশি। ফলে এবারের সম্মেলনে প্রার্থী নির্বাচনে বরাবরের ন্যায় এ অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



আলোচনায় যারা


কামাল খান (সহ সভাপতি), রাকিব হোসেন ( সহ সভাপতি), সাগর হোসেন (সহ সভাপতি), শেখ স্বাধীন শাহেদ (সমাজসেবা সম্পাদক), ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত (আইন বিষয়ক সম্পাদক),রনি মোহাম্মদ (কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক), শাহেদ খান (উপ আইন বিষয়ক সম্পাদক),সুজন শেখ (উপ আইন সম্পাদক) শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন ( সাবেক কমিটির উপ দফতর সম্পাদক)।


কেমন নেতৃত্ব চান আলোচিত পদপ্রত্যাশীরা?


ছাত্রলীগের ৩০ তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে কেমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সহ সভাপতি কামাল খান বিবার্তাকে বলেন,আগামীর যেকোন সংকট মোকাবিলায় অসীম সাহসিকতা নিয়ে সারা বাংলার ছাত্রসমাজকে যারা সুসংগঠিত করে আমাদের সর্বোচ্চ গঠনতান্ত্রিক অভিভাবক, দেশরত্ন শেখ হাসিনার চলার পথকে মসৃণ রাখতে পারবে, তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া হবে বলে বিশ্বাস করি৷ সর্বশেষ ২০১৩-২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস মোকাবিলায় যারা সামনে থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সংকটে কর্মী নিয়ে যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করার সাহস দেখিয়েছে, তারা নেতৃত্বে আসলে সংগঠনে প্রাণচাঞ্চল্য ও সাংগঠনিক গতিশীলতা ফিরে আসবে।


ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রাকিব হোসেন বিবার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের আদর্শের সংগঠন। এ দেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সংগঠনটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আসন্ন সম্মেলনে আমাদের প্রাণের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রত্যাশা- তাঁর প্রশ্নে আপসহীন, সংকটে দলের পাশে থাকা, মেধাবী, পরিশ্রমী ,নিয়মিত শিক্ষার্থী ও কর্মীবান্ধব কাউকে ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনে নেতৃত্বে দেখতে চাই।


ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক শেখ স্বাধীন শাহেদ বিবার্তাকে বলেন, করোনার আগে-পরে যারা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছে;যারা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপসহীন, নির্দিষ্ট কোন ভাইয়ের এজেণ্ডা বাস্তবায়নে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করবে না, এমন নেতৃত্ব চাই।


ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত বিবার্তাকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক বাহক, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে যিনি সবসময় সোচ্চার, পরিশ্রমী ও সাংগঠনিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও কর্মীবান্ধব নেতা হতে হবে।


ছাত্রলীগের উপ আইন সম্পাদক শাহেদ খান বিবার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০ তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে যারা সাংগঠনিক ভাবে দক্ষ, একবিংশ শতাব্দীর চ্যলেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম; মৌলবাদের বিরুদ্ধে যারা সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে, দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতি করা এবং ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবার অভিজ্ঞতা থেকে ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি ইউনিটকে সুসংগঠিত রাখতে পারবে, এরকম ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।


ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির উপ দফতর সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন বিবার্তাকে বলেন, আমরা মনে করি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু তনয়া যুগোপযোগী যে শিক্ষা ব্যবস্থা হাতে নিয়েছেন, সেটার প্রচার প্ররোচনায় যারা অগ্রগামী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারবে, তারাই নেতৃত্বে আসুক। এছাড়াও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন, হেফাজত ইস্যু, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ জামায়াত-বিএনপির করা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় যারা ছাত্রলীগের অগ্রভাগে ছিল এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন। যারা চেয়ারকে ভোগ-বিলাসের বস্তু না বানিয়ে চেয়ারকে দায়িত্ব মনে করবে, নেত্রীর দেওয়া পবিত্র আমানত রক্ষায় নিজের সবটুকুদিয়ে কাজ করবে এমন নেতৃত্ব আসা উচিত বলে মনে করি। সর্বোপরি নেত্রী, দল, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ প্রশ্নে আপসহীন থাকবে, তারাই আগামীর নেতৃত্বে আসুক এটাই প্রত্যাশা।


বিবার্তা/রাসেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com