বিএনপি অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় যেতে চায়: হানিফ
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২২, ১৩:১৮
বিএনপি অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় যেতে চায়: হানিফ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

অবৈধ পন্থায় সৃষ্ট দল বিএনপি অবৈধভাবেই ক্ষমতায় যেতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।


তিনি বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে পাকিস্তানে। তারা তাদের আদর্শ থেকে একাত্তরে বের হয়নি। এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি। যার কারণে এখনো তারা (বিএনপি) দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে।


সোমবার (২২ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর শাহবাগস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমইউ) ডা. মিল্টন হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিএসএমইউ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বিএনপিসহ সব বিরোধী দলের প্রতি আহবান জানিয়ে হানিফ বলেন, আপনারা যদি মনে করেন সরকার ভালো কাজ করেনি, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসুন। জনগণ যদি আপনাদের চায় তাহলে আপনারাই ক্ষমতায় আসবেন। আর যদি জনগণ মনে করে এই সরকারের নেতৃত্বে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, সামনে আরো হবে- তাহলে জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় আনবে। দেশের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করার নজির একমাত্র আওয়ামী লীগের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


ষড়যন্ত্রে পথে না হেঁটে এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত না করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়ে হানিফ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সেক্যুলারাজিমে বিশ্বাসী। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মান্ধ নয়। আমাদের দেশের ৯০ ভাগ মুসলমান কিন্তু আফগানিস্তান, পাকিস্তান হওয়ার ইচ্ছা রাখে না। আর বাংলাদেশ আফগানিস্তান, পাকিস্তান হওয়ার সুযোগও নেই। পাকিস্তান ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যাদের আদর্শ পাকিস্তান তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। তারাই দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।


মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিলো না। এটি ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যারা একাত্তরে পরাজিত হয়েছিলো এবং তাদের পশ্চিমা মিত্ররা একাত্তরের পরাজয়ের চরম প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার স্বপ্নকে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিলো।


জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছিলো উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের তিন লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছিলো। আওয়ামী লীগকে খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছিলো। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে শাহ আজিজুর রহমানের মত স্বাধীনতাবিরোধীকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন। আবদুল আলীম, মাওলানা মান্নান ও রজব আলীর মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে কেবিনেট গঠন করেছিলেন। পাকিস্তানের পরামর্শে এসব করা হয়েছিলো।


তিনি বলেন, জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে রণাঙ্গণের স্লোগান জয় বাংলার পরিবর্তে পাকিস্তান জিন্দাবাদ নিয়ে আসলেন। ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করলেন। দালাল আইন বাতিল করে রাজাকারদের মুক্ত করাসহ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিলেন। এমনকি কুখ্যাত রাজাকার প্রধান গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে আনলেন। এসব কর্মকাণ্ডের কোনটা স্বাধীনতার পক্ষের ছিলো? বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রাখেন হানিফ।


আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের এমন ভীতিকর পরিবেশে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিলো। জাতি মুক্তির পথ খুঁজছিলো। এমন সময়ে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বারবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাকে হুমকি দেয়া হয় দেশে আসলে বাবার মতো পরণতি ভোগ করতে হবে। ১৯৮১ সালের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সব রক্তচক্ষু, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দেশে এসেছিলেন। দেশে ফিরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে নিয়ে আসা এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াইয়ের জন্য শেখ হাসিনা নতুন পথচলা শুরু করেন। বিধ্বস্ত দলকে রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আজ তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ চরম দারিদ্র্যশীল দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।


তিনি বলেন, মহামারি করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব ছিলো। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতির কারণে সারাবিশ্বে অস্থিতিশীল অবস্থা চলছে। যার ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছে তাই স্বাভাবিক কারণে দেশের বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল মনে হচ্ছে। কেউ যাতে বাজারে সংকট তৈরি না করতে পারে সে ব্যাপারে সরকার সজাগ আছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন। তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আরো সামনে নিয়ে যাবেন।



করোনা মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখায় চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে হানিফ বলেন, করোনার সময়ে অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খেয়েছে। শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব এবং চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করায় মহামারি সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। দেশের মানুষের পক্ষ থেকে আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররাফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল. রেজিস্ট্রার ডা. স্বপন কুমার তাপাদার প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/সোহেল/কেআর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com