দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দীপন স্মৃতি সংসদের উদ্বেগ প্রকাশ
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৫৪
দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দীপন স্মৃতি সংসদের উদ্বেগ প্রকাশ
প্রকাশক দীপন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে পুলিশের চোখে স্প্রে করে প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি আবু সিদ্দিক ও মইনুলকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দীপন স্মৃতি সংসদ।


মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সকালে দীপন স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব ডা. রাজিয়া রহমান জলির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ নভেম্বর, রবিবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে পুরনো ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের প্রধান ফটকের সামনে একজন পুলিশ কনস্টাবলের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রকাশক দীপন হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অস্বাভাবিক ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।


আদালতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোনপ্রকার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যাতীত শুধু পিপার স্প্রে ব্যবহার করে শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম যানজটপূর্ণ এলাকা থেকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার অস্বাভাবিক ঘটনা রাষ্ট্র ও সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তায় অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের চরম অবহেলা, অসতর্কতা বা সহযোগিতায় প্রশিক্ষিত জঙ্গিগোষ্ঠির নিখুঁত পরিকল্পনা সহজতরভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় দীপন স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। জঙ্গিবাহিনীর সদস্যদের সাথে কারাবন্দী আসামিদের সুপরিকল্পিত যোগাযোগ কিভাবে ঘটে সে বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামিকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে উপস্থাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তাই আসামি পরিবহনের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ ১জন আসামির জন্য ৩ জন ও জঙ্গিদের ক্ষেত্রে ৪জন পুলিশ রাখার বিধান রয়েছে। ২০ নভেম্বর দীপন এবং অভিজিৎ হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন আসামিকে অন্য একটি মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরা শেষে ৪ জন আসামিকে ১৬ জনের পরিবর্তে মাত্র ১ জন পুলিশ কনস্টেবল দিয়ে গারদে নিয়ে আসার সময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুর্ধর্ষ ২ জন আসামিকে ছিনতাই করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আদালতে হাজির না করার নির্দেশনা আছে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর।


দেশে আইনের শাসন বহাল রাখার জন্য দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের নীতি বাস্তবায়নের ব্যাপারে রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের আরও বেশি সতর্ক ও আন্তরিক হওয়া জরুরী। শহরের সকল সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সিসিটিভি সার্ভাইলেন্সের আওতায় থাকার পরও তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ৪৮ ঘন্টার মধ্যেও আসামিদের উদ্ধার করতে না পারা দুঃখজনক।


পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের দ্রুততর সময়ের মধ্যে ধরতে এবং তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর আন্তরিক তৎপরতার জোরদারের দাবি জানাই। গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি মামলার বিচারকার্য কেনো এতদিনেও চূড়ান্ত হয় নাই এবং দণ্ড কার্যকর করা হয় নাই সে বিষয়েও দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, দীপন স্মৃতি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।


বিবার্তা/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com