চামড়া পাচার রোধে বিজিবির ১০ দিনের সর্তকতা
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৪, ১৩:৪০
চামড়া পাচার রোধে বিজিবির ১০ দিনের সর্তকতা
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ভারতে কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধে বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্তে ১০ দিনের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১০ দিন পর্যন্ত এ সতর্কতা জারি থাকবে। এছাড়া যশোরের সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে বিজিবির টহল। সীমান্ত সড়কে যানবাহনেও চলছে তল্লাশি কার্যক্রম।


১৮ জুন, মঙ্গলবার ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহম্মেদ হাসান জামিল এ তথ্য জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে চামড়ার বাজার মূল্য তুলনামূলক কম। চামড়ার বাজার মূল্য কম থাকায় বেশি মুনাফার আশায় কাচা চামড়া ভারতে পাচারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। পাচার হওয়ার সম্ভাব্য সীমান্তগুলোতে বিজিবি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবির ছোট ছোট পোস্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিন এই সতর্কতা থাকবে।


এদিকে সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশেরও নজরদারি রয়েছে। তবে চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবার পাচারের শঙ্কা রয়েছে বলে জানান চামড়া বিক্রেতারা। জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে দেশের বাজারে চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়ায় পাচারের শঙ্কা বেড়েই চলেছে। তবে দেশের সম্পদের পাচার ঠেকাতে প্রতি বছর বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তজুড়ে বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়। এ বছরও পাচার রোধে বিজিবির সদর দফতর থেকে নির্দেশ এসেছে। এরপরই ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবি কোরবানির দিন থেকে পরবর্তী ১০ দিন সীমান্তের বিশেষ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এরইমধ্যে সব পয়েন্টে বিশেষ টহল অব্যাহত আছে। এছাড়া পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে বিজিবি।


কোরবানির পর দেখা যায়, ৫ মণ ওজনের একটি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকা। আবার ১০ মণ ওজনের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।


ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ মণ ওজনের একটি গরুর চামড়া ৮০০ থেকে এক হাজার রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১০ মণ ওজনের একটি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়।


কাঁচা চামড়া পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত গুলো হচ্ছে বেনাপোলের সাদিপুর, গাতীপাড়া, বড়আঁচড়া, রঘুনাথপুর, পুটখালী, ঘিবা, ধান্যখোলা। শার্শা উপজেলার গোগা, কায়বা, অগ্রভুলোট, রুদ্রপুর, শালকোনা, কাশিপুর, শিকারপুর এবং শাহজাতপুর সীমান্তাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।


চামড়ার ক্রেতা রহমান জানান, ৭০০ টাকায় কেনা চামড়া বিক্রির সময় ৩০০ টাকা বলছে। আর ছাগলের চামড়ার দাম ৫ টাকা। এরকম দাম থাকলে এবার চামড়া পাচার হতে পারে।


চামড়া বিক্রেতা কাজল বলেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, নানা অজুহাত দেখিয়ে সেই দাম দেয়া হচ্ছে না। এবার লোকশান গুণতে হবে।


বেনাপোলে চামড়া কিনতে আসা ঢাকার ব্যবসায়ী আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, এবার কোরবানির পশুর চামড়ার সরবরাহ কম। আবার মানও ভালো না। তাই দাম বেশি দাম দিয়ে কিনতে পারছেন না।


বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন ভক্ত জানান, কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার পাশাপাশি পুলিশও কাজ করছে। সীমান্ত অভিমুখে প্রবেশের সময় চালকদের জিজ্ঞাসাবাদসহ ও যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে।


বিবার্তা/লিমন

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com