‘নারী উন্নয়নের অগ্রদূত শেখ হাসিনা’
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:৫৬
‘নারী উন্নয়নের অগ্রদূত শেখ হাসিনা’
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

নারীর ক্ষমতায়নে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের সব ক্ষেত্রে নারীদের শুধু অংশগ্রহণই বাড়েনি, বরং সফলতার সাথে তারা দায়িত্বও পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি,নারীর উন্নয়নের অগ্রদূত হচ্ছেন শেখ হাসিনা। তিনি নারীদের জন্য একজন রোল মডেল হয়ে থাকবেন।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তাঁর অবদানের কথা জানতে চাইলে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট নারীরা বিবার্তা২৪ডটনেটকে এসব কথা বলেন।


পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বিবার্তাকে বলেন,নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি বলবো শুধু নারীর ক্ষমতায়ন না, দেশের ক্ষমতায়ন, জাতির ক্ষমতায়নেও উনার ভূমিকা অসাধারণ। এটার কোন তুলনা নাই। আমাদের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ নারী। কাজেই এই নারীদের ক্ষমতায়ন করে আমরা যদি এগিয়ে নিতে পারি, তাহলে সেটা দেশের জন্য খুবই মঙ্গলজনক হবে।


তিনি বলেন,নারীদের ক্ষমতা যতটুকু আছে কিংবা তারা যে কনট্রিবিউশন করেন, সেটার স্বীকৃতি অনেক সময় পায় না। আমি মনে করি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে নারীদের ১ নাম্বার গুরুত্ব দিয়ে ক্ষমতায়ন করছেন। নারীদের সামনে নিয়ে এসে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে বসিয়ে তাদের মাধ্যমে কাজগুলো করানোর মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া, এটা একটা অসাধারণ কাজ এবং একইসাথে এটা সাহসিক ভূমিকার ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন চিন্তা করে এই কাজগুলো করে যাচ্ছেন। আগে নারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে চাইলেও সুযোগ সুবিধা তেমন তাদের জন্য ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তারা সব সুযোগ সুবিধা পেয়ে সামনে আগাচ্ছেন। নারীদের ক্ষমতায়নে এখন আন্তর্জাতিক স্কেলিংয়েও বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় আছে।



তিনি আরো বলেন, পশ্চিমা এবং আমাদের সমাজব্যবস্থাটা ভিন্ন। যখন আন্তর্জাতিক ক্র্যাইটেরিয়া হয় তখন আমরা হিসেব করি, পলিটিক্সে কয়জন আছে, ওই সেক্টরে কয়জন আছে ইত্যাদি। আমাদের সামাজিক ব্যবস্থায় আমি বলবো, শুধু কয়জন আছে সেটা না, আমাদের নারীরা কত পার্সেন্ট কনট্রিবিউশন করছে, এটা আমাদের হিসাবে আসে না। আমি বলবো,এ বিষয়টা সামনে নিয়ে আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী ফোকাস দিয়েছেন। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন জায়গায় বর্তমান সরকার কাজ করছেন। কোনো ব্যক্তির পরিচিতির ক্ষেত্রে বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নাম উল্লেখ রাখতে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এটা অনেক বড় একটা অবদান। শুধু বাবার পরিচয় না, মায়ের পরিচয় নিয়েও সামনে এগিয়ে যাওয়া, এটা যুগান্তরকারী পরিচয়।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে স্থানীয় পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখ করে ড. হাফিজা খাতুন বলেন, স্থানীয় পর্যায়েও মহিলারা আছেন এবং কাজ করেন কিন্তু স্বীকৃতি পায় না। পরে প্রধানমন্ত্রীর আমলে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলে দিলেন, ইউনিয়ন পরিষদেও মহিলা মেম্বার থাকতে হবে, উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান থাকতে হবে। এর মাধ্যমে মহিলারা এগিয়ে এসেছে। আর উনাদের সামনে এনে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সামনে আগানোর বার্তা দেয়া হচ্ছে। অথচ এরআগে নারীরা কাজ করলেও নাম হতো তাদের স্বামী,ভাই কিংবা অন্য কারো নামে।আমি শুধু পলিটিক্স বলছি না, লিডারশীপ,কনফিডেন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে নারীরা অগ্রগতি সাধন করেছে। আমি মনে করি, ক্ষমতায়ন শুধু একটা পজিশন না, বরং সর্বদিকে এটাকে বাস্তবায়ন করা এর কাজ। আর এই কাজটা প্রধানমন্ত্রী অসাধারণভাবে করেছেন। শুধু এক সেক্টরে না, বিভিন্ন সেক্টরে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।


এই শিক্ষাবিদ বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে, পুলিশ বাহিনীতে, আনসার বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। অথচ এই জায়গাগুলোতে আমরা মনে করতাম, এগুলো মহিলাদের জন্য নয়। কিন্তু মহিলাদের জন্য কেন নয়? সেই জায়গাটাও উনি স্থাপন করে নারীদের শক্ত হাতে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।আজকে খেলায় মেয়েরা এগিয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্পোর্টস, ডিবেটসহ সর্বক্ষেত্রে মেয়েরা সফলতা বয়ে আনছে। আর এ এগিয়ে যাওয়ার পেছনে উনার অবদান অস্বীকার্য। অনেক দূরদর্শী চিন্তাভাবনা নিয়ে তিনি আগাচ্ছেন।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড.সাদেকা হালিম বিবার্তাকে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তিনি এদেশকে তাঁর স্বপ্নের মতো করে গড়ে যেতে পারেননি।পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের হাল ধরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।



এর আগেও তিনি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন। এসময় তিনি বাবার ছায়া সঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম সরকার গঠন করে নিজের ব্যক্তিসত্ত্বাকে পুরোপুরি রাজনীতির জন্য উৎসর্গ করেছেন। নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি ১৯৯৭ সালে সংবিধানের আলোকে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি করেছেন। অথচ এরআগে কোন নারী নীতি ছিল না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ২০০৪ সালে বিএনপি জামায়াত সরকার গোপনে কূটকৌশল করে এই নীতিমালার অনেক কিছু পরিবর্তন করে দেয়। পরে ২০১১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার আওয়ামী লীগ সরকার এই নীতিতে রিভিজিট করে। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে তখন নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়।



তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও নারীরের নিরাপত্তাসহ নানা সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। ফলে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রছাত্রীর অনুপাত প্রায় কাছাকাছি। নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইনও করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ও অটিজমদের কল্যাণে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে তারা সমাজে নিজেদের স্থান করে নিচ্ছেন।


তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনন্য উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ দেশের বিমান, সেনা, নৌসহ প্রায় সব জায়গায় এখন নারীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজকে নারীরা এভারেস্ট জয় করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছে। কিছুদিন আগেও সাফ গেমসে নারীরা সফলতা দেখিয়েছে। স্কুল থেকে শুরু হয়েছিল বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপসহ আরও নানা উদ্যোগ। আর এগুলোর সুফল আজ আমরা পাচ্ছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মেয়েদের জন্য এসব সুযোগ যদি আমরা সৃষ্টি করতে না পারতাম, তাহলে এসব সফলতা কোনদিন আসতনা।


এই সমাজবিজ্ঞানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী ও দেশের উন্নয়নে নানামুখী কাজ করে যাচ্ছেন। তাই তাঁর প্রতি আমাদের প্রত্যাশাও বেশি। একটা বিষয়ে আমি বলতে চাই, আজকাল বিভিন্ন আবেদনে পুরুষ/ নারী অপশন রাখা হয়। কিন্তু যারা তৃতীয় লিঙ্গের তাদের জন্য ‘আদার’ অপশন রাখা হয় না। এ বিষয়টি দেখা দরকার। একইসাথে উত্তরাধিকার আইনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলেও আমি মনে করি। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি বলতে চাই, নারীর উন্নয়নের অগ্রদূত হচ্ছেন শেখ হাসিনা।



বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু বিবার্তাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত উদার মনের প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে আর পাবো কিনা জানি না। শেখ হাসিনা থাকা অবস্থায় স্পিকার থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন যেভাবে সম্ভব হয়েছে, এটা প্রশংসিত একটি উদ্যোগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে নারীদের যেভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সম্ভব হবে কিনা জানিনা। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের উঠে আশা খুবই মুশকিল। প্রধানমন্ত্রী নারীদের জন্য একজন রোল মডেল হয়ে থাকবেন।


প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। সেইসাথে তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করি। তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের জন্য দেশের উন্নয়নকে আরও চরম শিকড়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করি।


উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


বিবার্তা/রাসেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com