বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের রূপকার: শেখ হাসিনা (পর্ব-৪)
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২২, ১৪:৪৪
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের রূপকার: শেখ হাসিনা (পর্ব-৪)
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মো. মফিজুল হক সরকার
প্রিন্ট অ-অ+

শেখ হাসিনার শাসনের দেড় যুগ: পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা


বাংলাদেশে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ ও ১৯৯১-১৯৯৫ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা এবং ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮১ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


বিচারপতি হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আবার, ২০০৮ সালে জনগণের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন।


১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ সম্পর্কে ‘বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার।


শুধু তাই নয়, ১৯৭৬ সালে নরওয়ের অর্থনীতিবিদ জাস্ট ফাল্যান্ড এবং মার্কিন অর্থনীতিবিদ জে আর পার্কিনসন লন্ডন থেকে ‘বাংলাদেশ দ্যা টেস্ট কেস ফর ডেভেলপমেন্ট’ নামের একটি বই প্রকাশ করেন। সেই বইয়ে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে উন্নয়নের একটি পরীক্ষাক্ষেত্র। বাংলাদেশ যদি তার উন্নয়ন সমস্যার সমাধান করতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে যে-কোনো দেশই উন্নতি করতে পারবে।’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এককালের সেই পেছনের সারির দেশটিই আজ পূর্ণতার পথে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছে। জিডিপির অগ্রগতি, করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকে উপরে উঠে আসা সেই যোগ্যতারই প্রমাণ।


করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যখন ধুঁকছে, তখনও বাংলাদেশ রেকর্ড ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চলতি অর্থবছরে তা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে গত ৩ জুন বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছেন।


বর্তমান বিশ্বে প্রবৃদ্ধি অর্জন ও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণ ও কার্যাবলি নিয়ে রীতিমতো গবেষণা হচ্ছে এখন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা থেকে বাঁচতে যে দেশটির এক কোটিরও বেশি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল, অর্থনৈতিক শক্তিমত্তার কারণে তারাই এখন মিয়ানমার থেকে ভয়ে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয় দিতে পারছে।


১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাংলাদেশ জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এলডিসির তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে।


করোনাকালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ সব উন্নত দেশের অর্থনীতি যেখানে দিশাহারা ও গতিহীন, সব দেশে যেখানে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে- সেখানে বাংলাদেশ কোন জাদুমন্ত্রবলে উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে, সমগ্র বিশ্বের কাছে এটাই এখন বিস্ময়ের কারণ।


মূলত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে অনেকটাই মুক্ত রেখেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদের হার কমিয়ে, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়িয়ে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহারে বিধিনিষেধ শিথিল করে দেশীয় শিল্পকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয়েছে।


পাশাপাশি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে দ্রুতই করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বড় মাপের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অর্থনীতি খুলে দেয়ার মতো সরকারের সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করছে।


মূলত, গত এক যুগে শেখ হাসিনার শাসনামল বাংলাদেশের এ বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উত্থানে মূল ভূমিকা পালন করছে। এ সময়ে দেশের অর্থনীতি তরতর করে এগিয়ে গেছে, তিন গুণেরও বেশি বড় হয়েছে জিডিপি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন রেকর্ড অর্জন করেছে। ছাড়িয়েছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক। নির্মাণ হচ্ছে বড় বড় অবকাঠামো। আর্থসামাজিক এবং অবকাঠামো খাতে হয়েছে বিস্ময়কর উন্নয়ন। এর ফলে দ্যা ইকোনমিস্টের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নবম স্থান দখল করেছে।


উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের কাছে বাংলাদেশের এ সাফল্য বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার প্রতিবেশীদের চেয়ে এগিয়ে আছে। খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সাফল্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। যারা একদিন এই দেশকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করেছিল, তারাই আজ প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ যে আজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব সূচকই তার সাক্ষ্য বহন করছে।


শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সিঙ্গাপুরের অগ্রযাত্রার সঙ্গে এর তুলনা চলে। এক যুগ আগের বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের তুলনা করলেই পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে। এ সময় মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে সক্ষমতা। স্বপ্নের মেট্রোরেল হচ্ছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে, পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে। এইচএসবিসির সর্বশেষ গ্লোবাল রিসার্চে বলা হয়েছে, বর্তমানে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এই ধারা অব্যাহত থাকলে, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির নিরিখে বিশ্বের ২৬তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।


স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ৫ হাজার মেগওয়াট আর ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন মডেল’-এ ২০০৯ থেকে গত ১১ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২০ হাজার মেগওয়াটের বেশি। গত ১০ বছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৬ শতাংশের বেশি।


কোভিড-১৯ কারণে প্রবৃদ্ধি শ্লথ হলেও ২০১৫ থেকে ২০১৯ জিডিপি বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। লক্ষণীয় বিষয় হলো একই সময়ে ভারতে এ হার ছিল ৬ এবং পাকিস্তানে ৫ শতাংশের নিচে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িযেছে এখন ২ হাজার ৫৫৪ ডলার আর অর্থনীতির আকার ৪০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যার টাকার হিসেবে ৩৫ লাখ কোটি টাকার বেশি।
পায়রা সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণিক বিদ্যুৎ উৎপান প্রকল্পসহ এরকম মেগা প্রকল্প দেশের অর্থনীতির চাঙাভাবকে মনে করে দেয়। দেশের অর্থনীতির এই অগ্রগতির সঙ্গে সামাজিক অগ্রগতিও হচ্ছে সমান্তরাল গতিতে।


জনগণের গড় আয়ু এখন ৭৩ বছর। প্রতিহাজারে শিশু মৃত্যুহার ৩১ অথচ ৯০-এর দশকে এ হার ছিল হাজারে ১৪৪। এমডিজি (সহশ্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) সফলতার সঙ্গে পূরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা) পূরণে এরই মধ্যে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।


‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন মডেলে’ দেশে দারিদ্র্যের হার এখন ২০ দশমিক ৫। অর্থনীতির সঙ্গে জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ সরকারের ২৯টি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ মডেলে যেসব কর্মসূচি চলমান রয়েছে সংক্ষেপে তা হলোÑ বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি), গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার, দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা, জটিল রোগীদের আর্থিক সহায়তা, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি, পোশাক শিল্প শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা তহবিল, অনাথ আশ্রম কর্মসূচি, প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের উপবৃত্তি, হিজড়া, বেদে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপবৃত্তিসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।


‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন মডেল’ একটি প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত মডেল। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো আজ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ সফলতার একমাত্র উদ্ভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের ধ্রুপদি তত্ত্বকে শেখ হাসিনাই শুধু প্রায়োগিক মডেল হিসেবে বাস্তবতার নিরিখে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। যেখানে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অর্থ একসঙ্গে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। আর যখন তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে তখনই উন্নয়নের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এটি উন্নয়নের রাষ্ট্র মডেলের সঙ্গে সাদৃশ্য। ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন মডেল’-এ গত নভেম্বরে (২০২১) বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটেছে। আগামী দিনে এসডিজি, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সমন্বিত কর্মসূচি যুগপৎভাবে সম্পাদিত হলে সারা বিশ্বে ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন মডেল’ অনুকরণীয় ও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হবে।


১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের অংশ হয়ে আসা পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা আরও ভয়ংকর। যে রাজনৈতিক দর্শন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পূর্ববাংলা আত্মপ্রকাশ করল তার নেতিবাচক ফল পেয়ে গেল ১৯৪৮ সালেই মাত্র ১ বছরের মাথায়। পূর্ব বাংলার ভাষার প্রশ্নে দেখা দিল শঙ্কা। বাঙালির ভাষা, যা হাজার বছরের ঐতিহ্য নিয়ে চলে এসেছিল তাতে বাদ সাধলেন পাকিস্তানের কায়েদে আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ স্বয়ং।


মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, গোলাম মোহাম্মদ, ইসকান্দার মির্যা, চৌধুরী খালেকুজ্জামান এবং মুহাম্মদ আলীসহ যারাই পাকিস্তানের মসনদে বসেছে, তারাই পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করার কৌশল করেছে এবং জনগণকে রাজনীতি অর্থনীতি সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত করেছে। আদমজি জুট মিল এবং কর্ণফুলী কাগজের মিল ছাড়া পূর্ব পাকিস্তানে উল্লেখ করার মতো কোনো শিল্প কলকারখানা ছিল না, যা ছিল তা কিছু পাট ক্রয় কেন্দ্র (কুঠি, গুদাম আর পাটজাত পণ্যের কারখানা)। এসব পাটজাত পণ্যের কুঠিগুলো গড়ে উঠেছিল ব্রিটিশ আমলে ভারতের বাওয়ানি আদমজি ও বিহারিদের দ্বারা।


সরকারি চাকরি, প্রতিরক্ষা, পুলিশ এবং প্রশাসনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কোনো প্রবেশাধিকার ছিল না। পাকিস্তানের ২৪ বছর অর্থনীতির শোষণ আর অধিকার বঞ্চনার ইতিহাস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্যদিয়ে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ফলে ১৬ ডিসেম্বর যে বিজয় অর্জিত হয়েছিল, তা ছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।


একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে স্বদেশে ফিরে এসে একটি কপর্দকহীন অর্থনীতি পেয়েছিলেন। উপরন্তু পাকিস্তানের কাছে প্রাপ্য ৫০০ কোটি ডলার অর্থফেরত পাওয়া যায়নি।


মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব বড় বড় প্রকল্পের অর্থ যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। যার অর্থের জোগান বঙ্গবন্ধুকে দিতে হয়েছিল। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল বিধ্বস্ত, অফিস-আদালত ছিল কর্মঅযোগ্য। তবুও বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে রাতদিন পরিশ্রম শুরু করেছিলেন।


বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় ছিল ৮৮ ডলার, যা ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। অর্থনীতির এমন অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর সরকার লাখ লাখ বেকারকে চাকরি দিয়ে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠন, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিল্প-কলকারখানা চালুকরণ, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলা ছিল চ্যালেঞ্জ। ১৯৭৩-৭৪ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৮২ শতাংশ এবং ১৯৭৫-৭৬ সালে ৩৮০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সরকারের উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করতে, সে সময় জাসদ ও পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টিসহ মুক্তিযুদ্ধের


বিপক্ষ শক্তি নানাভাবে অপতৎপরতা চালিয়েছে। তারপরও মাত্র সাড়ে ৩ বছরের বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে একদম শ্লথ করে দেওয়া হয়। কিন্তু, হাল ধরেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার গত এক যুগের বেশি সময়ের শাসনামলে এগিয়ে গেছে দুর্বার গতিতে।


অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে সামাজিক উন্নয়নের পরিধিতে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছেন ফলে কার্ল মার্কসের অর্থনীতির উপরি কাঠামো এতদিন যেটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেটি এখন শেখ হাসিনার প্রযুক্তিনির্ভর ‘উন্নয়ন মডেল’ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে, যা ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন মডেল’ হিসেবে চিহ্নিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ভেবেছেন প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়া অর্থনীতির সুফল জনগণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব নয়।


https://www.bbarta24.net/literature/203873


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com