একটানা বসে কাজ করলে হতে পারে...
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ১৬:১০
একটানা বসে কাজ করলে হতে পারে...
শাহনাজ শারমিন
প্রিন্ট অ-অ+

বর্তমান প্রযুক্তিতে দিন দিন সহজ করেছে আমাদের কাজকে। কিন্তু সেইসঙ্গে একাধারে বেড়েই চলেছে সমস্যাও। কর্পোরেট কর্মীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকির পরিমাণ আরও বেশি।


কর্মব্যস্ত যুগে বেশির ভাগ সময়টা কেটে যাচ্ছে আমাদের বসে থেকেই। সকালে অফিসে ঢুকলেই একটানা আট ঘন্টা বসে একটানা কাজ করতে হয়। আর এই দিনের পর দিন বসে থাকাই অজান্তে কাল হয়ে উঠছে আমাদের জীবনে। কখনও টি-কফি ব্রেক বা লাঞ্চ ব্রেকে উঠলেও তা আর কতোক্ষণ। বাকি সময়টা চেয়ারে একনাগাড়ে কাজ করে যেতেই হয়। পালানোর কোনো উপায় নেই।


কিন্তু এই একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য যে কতটা ক্ষতিকর তা যদি কেউ জানতে পারেন তাহলে আর একটানা বসে থাকতে চাইবেন না।


শীতের ঠাণ্ডায় ঘন ঘন বাইরে বেরতে চান না অনেকেই। আবার গরমকালে ঘর ও অফিসের এসি ছেড়ে বাইরে বেরনোও হয় না অনেকের।‘এই দীর্ঘ সময় বসে থাকার সূত্র ধরেই শরীরে বাসা বাঁধে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি। কম্পিউটারের সঙ্গ পেলে তো কথাই নেই। এর কারণ নানাবিধ।


চিকিৎসকরা বলেছেন, বেশিক্ষণ বসে থাকার ফলে আসতে পারে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক জটিলতা। অনেকেই কর্মসূত্রে প্রায় ৭-৯ ঘন্টা চেয়ার বসে থাকেন। যেটি স্বাস্থ্যের জন্য হতে পারে মারাত্মক ক্ষতিকারক।


ওজন বাড়ার সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে একনাগাড়ে বসে থাকার। এছাড়া, বাড়তে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি। হতে পারে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য ব্যাধিও। ওভারিয়ান, কোলন ক্যান্সারের সম্ভবনাকও অবহেলার বিষয় নয়।


এক নাগাড়ে বসে থাকার মাঝে ছোট ছোট ব্রেক নিন। অল্প সময়ের জন্য হেঁটে আসতে পারেন। যা আপনার কাজের একঘেয়েমিকেও কমাতে সাহায্য করবে। তাছাড়া, অল্পসময়ের এই ব্রেক কমাবে মেটাবলিক রিস্ককেও।


সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন শরীরচর্চার। শুধু তাই নয়, পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে বদল আসছে জীবনযাত্রায়। পাল্টে যাওয়া জীবনযাত্রার বেশিরভাগটাই অস্বাস্থ্যকর। তাই কাজের ফাঁকে অল্প সময়ের ব্রেক অনেকাংশে কমাতে পারে হাজারো শারীরিক সমস্যাকে।


পিঠে ব্যথা


সারাদিন এক ভাবে চেয়ারে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। হয় চাকা লাগানো আরামদায়ক চেয়ার নয়তো কাঠের। মোট কথা পিঠ টান করে বা ঝুঁকে সারাটা দিন কাজের ফিরিস্তি। আর তার হাত ধরেই পিঠে ব্যথা-বেদনার শুরু।


আসলে সারা দিনের ব্যস্ততায় পিঠ বা মেরুদণ্ডকে সুস্থ রাখার জন্য যে যে ব্যায়াম বা শরীরচর্চা প্রয়োজন সে সবও আমরা করে উঠতে পারি না। ফলত সারা দিন চেয়ারে বসার অভ্যাস ডেকে আনছে নানা অসুখ।


পিঠে যে সব পেশি, লিগামেন্ট থাকে সে সবে তো বটেই, সঙ্গে শিড়দাঁড়ার নানা সমস্যা ডেকে আনে এই স্বভাব। অনেকে আবার তার উপর আর্থ্রাইটিসে ভোগেন কারও বা লাম্বার-কক্সিসের সংযোগস্থলে এমনিই নানা অসুবিধা থাকে। এ সব থাকলে দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। এমন স্বভাব থাকলে মেরুদণ্ড ও পিঠ বাঁচাতে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ অবশ্যই করুন।


তবে তার সঙ্গে মেনে চলুন কিছু ঘরোয়া উপায়ও।


শরীরচর্চা


ব্যায়ামই করতে হবে এমন নয়। তবে একটু সময় বার করে স্ট্রেচিং করুন। অনভ্যস্ত হলে শরীরকে কষ্ট দিয়ে জোর করে কিছু করবেন না। যতটা সয় ততটাই স্ট্রেচ করুন প্রথমে। আস্তে আস্তে তার পরিমাণ বাড়ান। হাত উপরে তোলা, ধীরে ধীরে নামানো। হাঁটু সোজা রেখে দু’হাত না ভেঙে পায়ের বুড়ো আঙুল ছোঁওয়া এমন কিছু সাধারণ মানের স্ট্রেচও এ ক্ষেত্রে খুব উপযোগী।


নিয়ম মানুন


এক ভাবে চেয়ারে বসে থাকবেন না। মাঝে মাঝেই উঠুন। পারলে অফিসের লনে হালকা জগিং করে আসুন। তা একান্তই না পারলে লিফ্‌ট ছেড়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করে আসুন বার কয়েক। বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন। ঝুঁকে বা কুঁজো হয়ে বসবেন না। খেয়াল রাখবেন চেয়ারের উচ্চতা যেন এমন হয় যাতে পায়ের সম্পূর্ণ পাতা যেন মাটিতে ঠেকে।


কিছু সাধারণ মানের স্ট্রেচও এই ব্যথার ক্ষেত্রে খুব উপযোগী


সেঁক


বরফ সেঁকে এই ধরনের ব্যথা অনেকটা আয়ত্তে থাকে। দিনে দু’-তিন বার মিনিট দশ-পনেরো আইস প্যাক দিন ব্যথার জায়গায়। আরাম পাবেন।


ঘুম


ঘুমের সময় যেন কিছুতেই ছয়-সাত ঘণ্টার কম না হয়। পাশ ফিরে শুলে দু’পায়ের ফাঁকে বালিশ রাখুন।


জুতো


ব্যথা হলে অনেক সময় জুতো বদলাতে হয়। হিল পরলে বা পায়ে আরামদায়ক নয় এমন কোনও জুতো পরলে আগে তা বাদ দিন। ঠিক কোন ধরনের জুতো এই অসুখের জন্য প্রয়োজনীয় তার পরামর্শ নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে।


অফিস থেকে বাড়ি ফিরে


কব্জি ব্যথা হলে গরম জলে ডুবিয়ে হাত মুঠো করুন ও ছাড়ুন।


ব্যথা–বেদনা কম রাখতে পাতলা তুলোর তোশকে মোটামুটি ২ ইঞ্চি মতো উচ্চতার তুলোর বালিশে ঘুমোন৷ ৬ মাস–এক বছর অন্তর বালিশ বদলান৷


টিভি এমন জায়গায় রাখুন যাতে চিত হয়ে শুয়ে দেখা যায়৷


প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হাঁটুন ও মিনিট ২০ হাঁটু, কোমর, ঘাড়, কাঁধ ও হাতের ব্যায়াম করুন৷


শরীরের ব্যথা-বেদনা দূর করতে কী খাবেন আর কী খাবেন না


ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন, ডিম, দুধ, দই, ছানা, চিজ, মাংস, ছোট মাছ, কাঁকড়া, খেজুর, নাসপাতির সঙ্গে পর্যাপ্ত ভাত, রুটি, ডাল, শাকসব্জি খান।


মধ্যবয়সী নারীরা দিনে একটা করে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন। চা–কফি–কোলা কম খান, জল খান শরীর বুঝে। মদ ও সিগারেটে রাশ টানুন। সূত্র: আনন্দবাজার


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com