অভিমান সবার উপর করা যায় না...
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৯, ১৮:২৮
অভিমান সবার উপর করা যায় না...
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

রাগ শরীরের একটি অনুভূতির নাম মাত্র। রাগ হয়তো কোনো কারণে সবকিছুতেই করা যায়। কিন্তু অভিমান... সবার সঙ্গে করা যায় না। তবে অনেকেই বলেন রাগ করাটা অভিমানের চেয়ে ভালো। কারণ অভিমান বড়োই কঠিন অবস্থা দাঁড় করিয়ে দেয়।


কোনো এক বিজ্ঞ বলেছিলেন, যখন মায়া বাড়িয়ে লাভ হয় না, তখন মায়া কাটাতে শিখতে হয়।


যদিও অভিমানে ভালোবাসা থাকে, আর রাগে থাকে ঘৃণা ও প্রতিশোধের প্রবনতা। অভিমানে শাসন থাকে, আর রাগে জিঘাংষা থাকে। অভিমানে নিরবতা ও কষ্টানুভূতি থাকে আর রাগে গর্জন ও ভয়াবহতা থাকে। অভিমানে দুটি হৃদয় জড়িত থাকে, আর রাগে ততোধিক ব্যাক্তি জড়িত থাকে। অভিমানের সমাপ্তি হয় ভালোবাসার সুখানুভতি দিয়ে, আর রাগের সমাপ্তি ঘটে ধন, জন ও সম্মানের ক্ষতি দিয়ে।


ভালোবাসার দিক থেকে যদি বলা হয় তাহলে বলা যায়, রাগ অভিমান করার পাশাপাশি ক্ষমা করাও শিখতে হয়, তাহলেই ভালোবাসার সম্পর্কগুলো টিকে থাকে।


রাগ, অভিমান সবার উপর করা যায় না..আবার সবচেয়ে স্পেশাল মানুষ টার উপর সবচেয়ে বেশি আর ঘন ঘন রাগ করা যায়!...এই অভিমানীগুলোর অভিমান আছে বলেই সম্পর্ক গুলো এত অমায়িক
হয়...‘আমি রাগ করিনি’ বলেছে বলে সত্যি ই যে রাগ করে নি এমনটাও হয় না...‘আমি রাগ করিনি’ এর মাঝেও যে কতো অভিমান লুকিয়ে থাকে এটাও একসময় ধরতে পারে না...।


একটি সুন্দর সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব বাড়তে এর চেয়ে উন্নত
কোনো ইস্যু লাগে কি?? না লাগে না, ভুলবেন না এই ইস্যু আপনার নিজের তৈরি করা..!!


খুব বেশি রেগে যাওয়া হার্ট অ্যাটাকের কারণ


রাগ নেই কোন প্রাণীর। প্রত্যেক মানুষই কম বেশি রাগ থাকে। তবে অতিরিক্ত রাগ হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের কারণ। তাই বিপর্যয় এড়াতে হঠাৎ রেগে যাওয়া থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এই বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকগণ, কাউকে হঠাৎ রেগে যেতে দেখলে পারিপার্শ্বিক অবস্থায় যারা থাকবেন তাদের উচিত শান্ত থাকা।


এই স্বভাবের কারণে খুব কাছের মানুষের সাথেও অনেক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে যায়। একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত রাগ মেনে নেয়া গেলেও মাত্রাবিহীন রাগারাগি কারও কাম্য নয়। কিন্ত প্রশ্ন হচ্ছে এই অতিরিক্ত রাগের পেছনে আর কোনো কারণ নেই তো?


সম্প্রতি কি আপনি কোনো ব্যাপার নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছেন? তবে এটা হতে পারে এই সমস্যার কারণ। দুশ্চিন্তার ফলে মনের মধ্যে এক ধরণের ভয় জাগে। না পাওয়ার ভয় কিংবা হারানোর ভয়। আর এই ভয় থেকে শুরু হয় অস্থিরতা আর খিটখিটে মেজাজের সুত্রপাত। এর ফলে মানুষ তার চারপাশের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।


বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন হয় যে, যে ব্যক্তি এই সমস্যায় ভুগছেন তিনি সহজে কাউকে জানাতে চান না এই ব্যাপারটা। ফলে মনের মধ্যে যে প্রচন্ড চাপ তৈরি হয় তা কমে যাওয়ার বা লাঘব হওয়ার কোনো সুযোগ পায় না। আর তখন মনের এই চাপ রাগের রূপে প্রকাশ পেয়ে যায়।


তার চেয়ে ভালো হয় আপনার সমস্যার কথা কাউকে জানান। এমন কাউকে জানান যার উপর আপনি ভরসা করতে পারেন বা যাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন। হয়ত বা এমন হতে পারে যে ভালো কোনো সমাধানও পেয়ে যেতে পারেন যা আপনি এতোদিন খুঁজে পাচ্ছিলেন না! আর আশেপাশে এমন কাউকে না পেলে মনের কথাগুলো লিখে ফেলুন।


লিখতে লিখতেই টের পাবেন যে মনের ভার অনেকটা কমে যাচ্ছে! সবার প্রথমে আপনাকে যা করতে হবে, আপনি নিজেই বোঝার চেষ্টা করুন কেন এমন হচ্ছে। কারণ খুঁজে পেলে সমাধান সহজ হয়ে যাবে। হতাশাও এই রাগের কারণ হতে পারে। আবার হয়তো কোন কারণে যদি মনের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে তবে সেটাও এই অকারণে রাগারাগির পেছনে সুপ্ত কারণ হতে পারে। কারণ অনুসন্ধান করুন। বোঝার চেষ্টা করুন। সমাধানও পেয়ে যাবেন।


ব্যক্তি অধিকাংশ সময় তার রাগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে অন্যকে আঘাত করে বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করে। যে ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যক্তি রাগ প্রকাশ করছে সে ঘটনার বিচারে ব্যক্তির রাগের পরিমাণ অত্যন্ত বেশী।


এই ক্ষেত্রে আশেপাশের মানুষদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে। কাউকে এভাবে খুব রেগে যেতে দেখলে তার উপর বিরক্ত না হয়ে তার পাশে দাঁড়ান। জানার চেষ্টা করুন তার কিসে অসুবিধা। কোনো সমস্যা থাকলে একসাথে মিলে সে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে দেখুন। ফলে একদিকে আপনার আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে তেমনি নিজের প্রতি সম্মানবোধও বাড়বে।


অভিমান হলো হৃদয়ের অতি গোপন প্রকোষ্ঠের ব্যাপার যে কেউ সেখানে হাত ছোঁয়াতে পারে না। মানুষ মাঝে মাঝে রাগ করতে করতে রাগের কারণটাই ভুলে যায়, শুধু থেকে যায় কিছু অভিমান।


জীবনে এমন একটা সম্পর্ক করা উচিৎ যার সাথে সকল কিছু শেয়ার করা, অভিমান করা যায়, ঝগড়া করা যায়, কিন্তু তাকে কখনো ভুলে থাকা যায় না।


অভিমান ভালো তবে সেটা যেন খুব বেশি হয়ে না যায়। অভিমান থেকে যদি আবার মানুষটার প্রতি আগের অনুভুতি না থাকে তবে তা কখন ও ভালো ফল বয়ে আনে না। তখন একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায়। দরজার ওপাশ থেকে দুইটা মানুষের মধ্যে একটা ইগো প্রবলেম চলে আসে।


তাই অভিমান নামক শব্দটাকে ভালোবাসা দিয়ে আবার জয় করে নিতে হয়। নাহলেই প্রতিনিয়ত আরও নিত্যনতুন সমস্যা তৈরি হয়। ভালোবাসা যেখানে উজ্জ্বল, অভিমান সেখানে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারে না। অভিমানগুলোকে দূরে সরিয়ে রেখে আস্তে করে একজনকে এগিয়ে এসে বলতে হয় সরি। দুইটা মানুষ যদি মনের মধ্যে রাগ পুশে রাখে তাহলে ভালোবাসা আর আগের অবস্থানে যেতে পারে না।


একজনকে তাই এগিয়ে আসতে হয়। সরি নামক শব্দটা বলতে হয়। অনেকটা সময় একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতির জন্য। মাঝে মাঝে প্রিয়জনের রাগ ভাঙ্গানোর জন্য ছোট ছোট গিফট ও আদান প্রদান করা যেতে পারে। এতে সম্পর্কটা আর ও শক্ত হবে। কিন্তু মজবুত করতে এগিয়ে আসতে হয়ই।


তবে সত্যি এটাই যে, সময়ের পরিবর্তনে রাগ, অভিমান কমে যায়, কিন্তু কারো দেয়া আঘাতের দাগগুলা থেকে যায়। কিছু ভুল মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয় কিছু কষ্ট মানুষকে পাথর করে দেয় কিছু অভিমান মানুষকে অনেক পর করে দেয় আর কিছু বাস্তবতা মানুষকে অনেক বদলে দেয়, এটাই জীবন।


ভালোবাসা থাকবে, অভিমান থাকবে, রাগ থাকবে কিন্তু দিনশেষে এ মনের ক্যানভাসের জায়গাটা যার জন্য তার প্রতি ভালোবাসাটা যেন ঠিক আগের জায়গাতেই থাকে।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com