বসন্তের রঙে রঙিন ভালোবাসার মূহুর্ত
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:২৫
বসন্তের রঙে রঙিন ভালোবাসার মূহুর্ত
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আজ বসন্তের প্রথমদিন। প্রকৃতিতে ফাগুনের ছোঁয়া। গাছে গাছে নূতন পাতা। কোকিলের কুহু কুহু ডাক জানিয়ে দেয় বসন্ত এসেছে। বসন্ত মনটাকে প্রেমিক করে তোলে। কী এক রঙিন ছোঁয়ায় মনটা দুলে ওঠে। বসন্ত মনের অনেক গভীরে ভালোবাসার বীজ বুনে দেয়। সবুজ সবুজ অবুঝ কচি পাতায় ছুঁয়ে থাকে দারুণ ভালোলাগা। কোকিলের কুহুতানে মনটা উতালা হয়ে যায়। দূরে কোথাও কোকিলের ডাক একটা হাহাকারের জন্ম দেয় বুকের অন্তপুরে। বসন্ত খুব অল্প সময়ের জন্য আসে। এই অল্প সময়ে মনের মধ্যে ছড়িয়ে যায় অপার ভালোলাগা।


ঠিক যেনো কবির ভাষায়... মনের আকাশে ঐ ফাগুন; পিয়াসী পাখি উড়ে যায় সুদূরেতে, কার যে ছায়া মাখি!


তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্ত নিয়ে অনেক গান-কবিতা লিখেছেন। তার মায়ার খেলা গীতিনাট্যের 'আহা আজি এই বসন্তে, ...কতো ফুল ফোটে, কতো পাখি গায়...


চারিদিকে বসন্ত উৎসব। সবকিছু মিলিয়ে অনাবিল আনন্দের দিন আজ। কাল আবার ভালোবাসা দিবস। অনেকের মতে রোমান ক্রিশ্চিয়ান পাদরি সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে ঘোষিত ‘সেন্ট ভ্যালেনটাইনস ডে’- আমাদের এখানে পালিত হয় ‘ভালোবাসা দিবস’ হিসেবে।



কারো কারো মতে, আমাদের এই বসন্ত উৎসবই পশ্চিমাদের ভালোবাসা দিবস। আজ এত উচ্ছ্বাস-আনন্দ, এত ভালোবাসা থাকার পরও কাল আবার আরেকটি ভালোবাসার দিন কেন- এ প্রশ্নও উঁকি দেয় অনেকের মনে।


তারপরও ভালোবাসা দিবসকে বরণ করার জন্য অনেকে আজ থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। বসন্ত আবাহনে সবাই হলুদ ফুল খুঁজলেও ভালোবাসা দিবসে অনেকেরই পছন্দ লাল টুকটুকে গোলাপ। অনেকেই ধরে নিয়েছেন এই দিনই হচ্ছে ভালোবাসাবাসির উপযুক্ত দিন। তাই বলে যখন ভালোবাসা দিবস ছিল না তখন কি কারও মনে প্রেম আসেনি? নাকি সবাই এ ধরনের একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করে ছিল? আসলে এভাবে প্রেম আসেও না, চলেও যায় না। প্রেম নিয়ে একটি চমৎকার গান রয়েছে-


‘প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে-আমারি এ দুয়ারও প্রান্তে’ সে তো হায় মৃদু পায় এসেছিল পারি নি তো জানতে....’


এই গানটি আমাদের অনেকেরই জানা এবং শোনা। গানটি যেসময় লেখা হয়েছিলো তখনকার সময়ে প্রেম যেন একটু নীরবেই আসত। তবে আজকাল প্রেম নীরবে নয় সরবে আসে এবং ক্ষেত্রবিশেষে আবার সরবেই চলে যায়। কারণ সময় বদলেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসার ধরনও পাল্টেছে। এদিন চারিদিকে তাকালেই শহরের রাস্তায়, পার্কে, কফি শপে, রেস্তোরাঁয় জোড়ায় জোড়ায় তরুণ-তরুণীকে দেখা যায়। কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে, কেউ রাগে ফুঁসছে। কেউবা আবার হাতে হাত রেখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে।


‘ফাগুনের আগুন লাগে তোমার হৃদয়ে, বলি হে সখা সেজেছো কেমন নতুনের আগমনে।’ ঋতুরাজ বসন্তে প্রকৃতি কন্যা সাজে নতুন রূপে। গাছে গাছে নতুন পাতার আগমন ঘটে। শিমুল, পলাশ আর কৃষ্ণচূড়ার আবাসে চারিদিক লাল হয়ে যায়। নারীরা বাসন্তি শাড়িতে নিজেকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলে। পুরুষ সাদা পাঞ্জাবি আর শিশুরা রং-বেরঙের পোশাকে সজ্জিত হয়।



বসন্ত ঋতুর সঙ্গে ফাগুনের সঙ্গে একুশে নিবিড়ভাবে জড়ানো। বসন্তের এই মাসটি বাঙালি হূদয়ে অন্তরঙ্গ আবেগের সুরতরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। জীবনের দুঃখ-বেদনা, যন্ত্রণা এই প্রবল আবেগের কাছে পরাভূত।


শীতের হিমেল হাওয়ার পরশ শেষে আসে বসন্ত। সঙ্গে সঙ্গে বছর ঘুরে আসে ভালোবাসার সংস্পর্শ। ভালোবাসা শুধুই লোক দেখানো নয়, ভালবাসা আত্মার এক নিবিড় সম্পর্ক। ভালোবাসে না এমন লোক খুব কমই আছে পৃথিবীতে। ভালোবাসা মনের সব অন্ধকারকে দূর করে আলোর সন্ধান দেয়।


বাংলার জাগরণ বা ভালোবাসা যেই রঙেই সাজুক বসন্ত জুড়ে থাকবে বাংলার প্রতিটি মানুষের মনে। পোশাকে, সাজে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে দিনভর মুখর থাকবে প্রতিটি অফিস, ক্যাম্পাস ও পথ-ঘাট। বসন্তের এই জোয়ার বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বই মেলার ময়দানে গিয়ে মিশবে। আর সন্ধ্যা নেমে নতুন সূর্যদয়ে আসবে ভালোবাসা দিবস।


ভালোবাসার জন্য কোনো বিশেষ দিবস লাগে না! তবুও আমরা ভ্যালেন্টাইনের প্রেমকাহিনিকে অবলম্বন করে ভালোবাসার দিনক্ষণ পেতে রেখেছি। ভালোবাসা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জগৎজুড়ে এক মায়ার বন্ধন। বাবা-মা,আত্মীয়-স্বজন সবাই ভালোবাসার অংশ। কেউ ভালোবেসে হাসে, কেউ ভালোবেসে হাসায়। ভালোবাসা দিবসে কেউ ছোটে আপনজনের কাছে, কেউ ছুটে যায় ছিন্নমূল শিশুদের কাছে। কেউ ভালোবাসে, কেউ বাসায়।


ভালোবাসার পবিত্রতা রক্ষা করে পূর্ণ হোক সব আশা। হীনম্মন্যতা দূর করে সত্যিকারের ভালোবাসায় নিমজ্জিত হোক তরুণরা। ভালোবাসায় ভরে উঠুক জীবন।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com