নিয়মিত স্নানের উপকারিতা
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২০, ১৪:৪০
নিয়মিত স্নানের উপকারিতা
অনামিকা রায়
প্রিন্ট অ-অ+

যেকোনো ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য স্নানকে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে ধরা হয়। বিয়ে থেকে শুরু করে সমস্ত পবিত্র কাজে কর্মের আগে স্নান করা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ স্নান শব্দটি পবিত্রতার প্রতীক। পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্য চর্চা এই দুটি শব্দ স্নানের প্রসঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।


বহু বছর ধরেই স্নানের নানা উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। নানা ধরনের তেল বডিওয়াশ, হেয়ারওয়াশ, স্ক্রাব মানুষের চাহিদা অনুসারে এবং বিভিন্ন বয়সের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। তবে স্নান ক'বার করা উচিত এবং তা ঠান্ডা জলে না গরম জলে এই নিয়ে নানা মতামত শোনা যায়। তবে একটা জায়গায় সবাই একমত যে নিজেকে রোগমুক্ত এবং তরতাজা রাখতে স্নানের জুড়ি নেই।


প্রাচীনকালের রাজা ও রানিদের স্নান বিলাসের কাহিনী আজও আমাদের অবাক করে। শোনা যায় যে রানি ক্লিয়োপ্রেটা নাকি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য রক্ষার জন্য গাধার দুধ দিয়ে স্নান করতেন। এছাড়া প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে রানি ও রাজকন্যাদের স্নানের জলে চন্দন, কেশর, গোলাপ জল ও নানা সুগন্ধীদ্রব্য ব্যবহার করার প্রচলন ছিল।


স্নানের পর রিফ্রেশমেন্ট ছাড়া আর কি কি পাওয়া যায়-


১) বাথটবে বেশ খানিকক্ষণ স্নান করলে দেহে রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং শরীরের কোষ সমূহের পেষণ হয়। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় এই ধরনের স্নান খুবই উপকারী। শীতকালে হালকা গরমজলে এবং গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলে স্নান করলে হাইপার টেনশন কমে।


২) মাংসপেশীর ক্লান্তি দূর করতে ঈষদুষ্ণ জলে স্নান দারুণ কাজ করে। পেশীর ফ্লেক্সিবিলিটি এবং ইলস্টিসিটি ফিরিয়ে আনতে স্নান ভীষণ জরুরি।


৩) অবগাহন স্নান রক্ত সংবাহন তথা হার্ট ফাংশান উন্নত করে।


৪) একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাথটবে হালকা গরমজলে স্নান ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।


৫) ঠান্ডা জলে স্নান অবসাদ বা ডিপ্রেশান দূর করতে সাহায্য করে। শীতল জলের স্পর্শ স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে। এর ফলে রক্তে বিটা এন্ডরফিন এবং নর অ্যাড্রিনালিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যার ফলে ডিপ্রেশান কমে। এছাড়া শীতল জলের সংস্পর্শে মস্তিষ্ক সজাগ হয় এবং অবসাদজনিত প্রভাব কেটে যায়।


৬) শীতল জলে স্নান করলে রক্ত ও লসিকা সংবাহন উন্নত হয়, অ্যান্টিবডির উৎপাদন বাড়ে যা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে খুব ঠান্ডায় হালকা গরম জলে স্নান করাই ভালো। কারণ শীতকালে ঠান্ডা জলে স্নান অনেকেরই সহ্য হয় না।


৭) একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে অনেকক্ষণ ধরে স্নান করার ফলে স্ট্রেস এবং টেনশন কমে যায়।


৮) কোল্ড শাওয়ার দেহে টেস্টোস্টেরোনের ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে। অনেক সময় দীর্ঘদিন গরম জলে স্নানের ফলে মেল ইনফার্টিলিটি হতে দেখা যায়।


৯) রাত্রে স্নান করলে পর্যাপ্ত ঘুম হয়। ইনসমনিয়ার সমস্যায় রাত্রে শোবার আগে স্নান করা খুবই উপকারী।


১০) যারা বেশি মাত্রায় বডি স্প্রে, পাউডার এবং পারফিউম ব্যবহার করে তাদের নিয়মিত স্নান করা খুবই জরুরি।


১১) যাদের অতিরিক্ত ঘাম বের হয় তারা অবশ্যই নিয়মিত স্নান করবেন। তা না হলে শুধুমাত্র দামি সুগন্ধীর ব্যবহার গায়ের দুর্গন্ধ এড়াতে পারবে না।


১২) স্নান ত্বকের দ্বারা নিঃসৃত টক্সিনকে দূর করে।


১৩) শাওয়ারে স্নান করলে ফুসফুসের রিফ্লেক্স অ্যাকশন বাড়ে। যার ফলে ফুসফুসে বিশুদ্ধ বায়ু সহজে প্রবেশ করে।


১৪) মাথা ধরা ও মাথা ব্যথার সমস্যায় স্নান উপকারী।


১৫) স্নান ত্বকের আদ্রতা, কোমলতা বজায় রাখে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ করে।


১৬) ওবেসিটির সমস্যায় নিয়মিত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হট বাথ উপকারী। এতে ওজন কমে। স্নান এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।


বিবার্তা/এসএ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com