হজমশক্তি বাড়াতে করণীয়
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৩:৪৬
হজমশক্তি বাড়াতে করণীয়
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

যেকোনো উৎসবকে ঘিরে খাওয়ার আয়োজন বেশিই হয়ে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অপরিষ্কার পানি পান ইত্যাদি কারণে হতে পারে হজমে সমস্যা। বেশি ভারী ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে শুরু হতে পারে পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, ঢেকুর ওঠা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা। বেশি খাওয়ার কারণে এই সমস্যাগুলো বেশিরভাগই হজমে গণ্ডগোলের কারণে হয়ে থাকে।


হজমশক্তি ঠিক রাখা সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি। তাই অনেকে বুঝতে পারেন না এ সময় হজমশক্তি বাড়াতে কি করবেন। এ জন্য কিছু স্বাভাবিক কাজই একটু সতর্কভাবে করতে হবে।


আসুন জেনে নেই হজমশক্তি বাড়াতে কী করবেন?


শারীরিক অনুশীলন


শরীর সচল রাখলে হজমও সহজ হবে। এ কারণে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা অনুশীলনকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।


পর্যাপ্ত পানি


পানি পান করার কোনো বিকল্প নেই। প্রচুর পানি পান করলে পরিপাকতন্ত্রও সঠিকভাবে আর্দ্র থাকে এবং হজম সহজ হয়। তবে খাবারের সঙ্গে বেশি পানি পান করা যাবে না। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে পানি পান করতে হবে।


এনজাইমযুক্ত খাবার খান


যেসব খাবারে এনজাইম আছে, সেসব বেশি করে খেতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে দই, দানাদার খাবার ইত্যাদি। এ ছাড়া আদা কিংবা পুদিনা পাতাও হজম সহায়ক।


আঁশযুক্ত খাবার


খাবারের আঁশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ নেই, সেসব খাবার সীমিত খাওয়াই ভালো। শাক-সবজি ও ফলমূলে পর্যাপ্ত আঁশ থাকায় সেগুলো খেতে হবে।


নিয়মিত খাবার গ্রহণ


খাওয়ার সময়টি যেন প্রতিদিন একই থাকে। শরীর পরবর্তী খাবারের সময় অনুযায়ী অভ্যস্থ হয়ে ওঠে এবং সে অনুযায়ী পাচক রস নিঃসরণ করে। কিন্তু খাবারের সময় ঠিক না থাকলে এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, হজমে গণ্ডগোল হয়ে যায়।


চা-কফি সীমিত


কয়েক কাপ চা-কফি পান করতে বাধা নেই। বাড়তি ক্যাফেইন পেটে গেলে হজমশক্তি কমে যায়। এ ছাড়া খাবারের অন্তত এক ঘণ্টা পরে চা-কফি পান করতে হবে।


এমন কয়েকটি মশলার তালিকা দেয়া হলো যা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।


১. জিরা


গ্যাস ও অম্বলের মতো সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এই মশলাটির ব্যবহার অনেক পুরোনো। এতে আরো রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান যা পাকস্থলীর ব্যাথা এবং অস্বস্থিকর অনুভূতি দূর করে।


২. হলুদ


রান্নায় এর ব্যবহার না হলেই নয়। এটি শুধু তরকারির রঙ্গ সুন্দর করার জন্যই নয় বরং রোগ নিরাময়ের জন্যও ব্যবহার করা হয়। এটি একই সঙ্গে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নাশক। এছাড়া ক্যান্সার, জিনগত ত্রুটি এবং প্রদাহ প্রতিরোধও করে। হলুদ ত্বকেরও ঔজ্বল্য বাড়ায়।


৩. আদা


হজমে সহায়ক, ব্যাথা নাশক এবং রোগ প্রতিরোধী উপাদানে সমৃদ্ধ আদা। এটি কফ ও সর্দি ভালো করে। যে কারণে শীতকালীন তরকারি, ভাজা এবং চা-তে ব্যবহার করা হয়।


৪. মেথি বীজ


এটি আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা প্রাকৃতিক হজমে সহায়ক হিসেবে কাজ করে এবং দেহ থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়। আর এর পিচ্ছিলকারী উপাদান পাকস্থলী এবং নাড়িভুড়িকে মসৃণ করে তোলে।


৫. এলাচ


এর শক্তিশালী সুগন্ধি হজমে সহায়ক এনজাইম নিঃসরণে সহায়তা করে। বদহজম, গ্যাস এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পাকস্থলীর নানা সমস্যা দূর করতেও বেশ কার্যকর এটি। আর অন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাদ্যের চলাচল বাড়াতে সহায়ক রাসায়নিকও রয়েছে এতে।


৬. লবঙ্গ


এর ৬০-৯০ শতাংশই ইউজেনল অয়েল। এই তেল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিসেপটিক, অনুভূতিনাশক এবং রক্তক্ষরণরোধী উপাদানের সমৃদ্ধ। পাকস্থলীতে গ্যাস নির্গমণ ঠেকাতে বা গ্যাস বের করে দিতে বেশ কার্যকর এটি।


৭. দারুচিনি
হজম শক্তি বাড়ায় এবং পুষ্টিশোষণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। এটি ব্যাকটেরিয়া নাশক এবং পাকস্থলী ও অন্ত্রের সংক্রমণ রোধ করে।


৮. গোলমরিচ


হজম প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করে এবং হজমে সহায়ক এনজাইমের নিঃসরণ বাড়ায়। যা প্রোটিন হজমে সহায়তা করে।


এই মশলাগুলো হজম প্রক্রিয়ায় অগ্নির ভারসাম্য রক্ষা করা, বিষ বের করে দেয়া এবং বদহজম ও গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা দূর করতে সহায়ক। স্যুপ, সেদ্ধ খাবার, মাংস, ভাজা-ভাজি এবং তরকারিতে ব্যবহার করা যায়।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com