ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, ৫শ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৯, ০৮:৫৪
ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, ৫শ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক নারী নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। শনিবার (২০ জুলাই) রাতে বাড্ডা থানায় নিহতের ভাগ্নে নাসির উদ্দিন মামলাটি করেন।


মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে- অতর্কিতে ওই নারীকে স্কুলের অভিভাবক, উৎসুক জনতাসহ অনেকে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত।


বাড্ডা থানার এসআই মাসুদ মামলার বিষয়টি গণামাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। মামলার বাদী নিহতের ভাগ্নে নাসির উদ্দিন। বাড্ডা থানার এসআই সোহরাব হোসেনকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।


শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মরদেহ শনাক্ত করেন তার ভাগ্নে ও বোন রেহানা। তারা জানান, নিহতের নাম তসলিমা বেগম রেনু। তারা ১১ বছরের এক ছেলে ও চার বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। আড়াই বছর আগে তসলিম উদ্দিনের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে ছেলেমেয়ে নিয়ে মহাখালী ওয়ারলেস এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন।


নিহতের ভাগ্নে নাসির উদ্দিন বলেন, রেনু মানসিক রোগে ভুগছিলেন। চার বছর বয়সী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য তিনি এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে ঘুরছিলেন। এ কারণেই হয়তো তিনি বাড্ডার ওই স্কুলটিতে যান।


বাড্ডা থানায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রেনু তার মেয়েকে ভর্তির জন্য স্কুলে যান। কিন্তু মানসিক অসুস্থতার কারণে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। এজন্য স্কুলের অনেকেই তাকে ছেলেধরা হিসেবে সন্দেহ করছিল। প্রধান শিক্ষক তার সাথে কথা বলার জন্য রুমে নিয়ে যান। কিন্তু স্কুল প্রাঙ্গণে তার অস্বাভাবিকতা দেখে অনেকেই বের করে মারধর করতে চাইছিলেন।


প্রধান শিক্ষক রেনুকে বাইরে বের না করলে স্কুলের কিছু অভিভাবক ও বাইরে থেকে আসা উৎসুক জনতা রুমের গেট ভেঙে তাকে 'ছেলেধরা' বলে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেকে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেনুকে মৃত ঘোষণা করেন।


এ বিষয়ে বাড্ডা থানার এডিসি আহমেদ হুমায়ুন বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষকের স্টেটমেন্ট নিয়েছি। তদন্ত চলছে।


শনিবার বিকেলে পুলিশ সদর দফতর থেকে এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গুজবে কান দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ। এছাড়া গণপিটুনি দিয়ে মানুষ মারা বড় ধরনের অপরাধ। এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।


পুলিশ সদর দফতর জানায়, পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে- একটি মহল এমন গুজব ছড়ানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন গণপিটুনিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।


এছাড়া ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি একটি ফৌজদারি অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলেন নেবেন না। গণপিটুনির ঘটনা তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। গত কয়েকদিন দেশে বিভিন্ন স্থানে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।


বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com