শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলা, সাতজনের আত্মসমর্পণ
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ১৮:১৫
শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলা, সাতজনের আত্মসমর্পণ
পাবনা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি এবংবোমা হামলা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি আত্মসমর্পণ করেছেন।


রবিবার (১৪ জুলাই) পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলীর আদালতে তারা আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।


এ মামলায় ৫২আসামির মধ্যে নয়জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নয়জন ও ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন পলাতক ছিলেন।


এর মধ্যে সাতজন আত্মসমর্পণ করলেন। তারা হলেন- যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ঈশ্বরদীর পশ্চিমটেংরী পিয়ারাখালী গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিন, পশ্চিমটেংরী ব্লাকপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মো. রবি, ব্লাকপাড়া পিয়ারাখালী এলাকার জালাল গার্ডের ছেলে মামুন ও যুক্তিতলা গ্রামের মৃত জয়েন উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম এবং ১০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চরমিরকামারী গ্রামের মৃত জামাত আলী সরকারের ছেলে চাঁদ আলী, পশ্চিমটেংরী বাবুপাড়া এলাকার মহসিন রিয়াজীর ছেলে রনো রিয়াজি ও চরসাহাপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান সরদারের ছেলে হুমায়ুন কবির ওরফে দুলাল।


পিপি আক্তারুজ্জামান মুক্তা বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন আত্মসমর্পণ করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা রায়ের সার্টিফাই নকল কপি তুলে নির্ধারিত এক মাসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।


আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খন্দকার বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আসামিদের পক্ষ থেকে শিগগিরই উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।


১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে নীলফামারীর সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন শেখ হাসিনা। ট্রেনটি পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ঢোকার সময় ট্রেনবহনে অতর্কিতে হামলা চালান বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ট্রেনে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাদের ওপরও বোমা হামলা চালানো হয়।


এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি (রেলওয়ে পুলিশ) থানার তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (স্থগিত কমিটি) জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন।


মামলার পরের বছর পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দেয়। ওই সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে অধিক তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে পাঠান।


১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলাটির পুনরায় তদন্ত হয়। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল পুলিশ ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনের নামে আদালতে আবারও অভিযোগপত্র জমা দেয়।


৩ জুলাই এ মামলার রায়ে নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।


বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com