সাক্ষাতকার
‘বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারকে পর্যটকবান্ধব করতে হবে'
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৩৫
‘বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারকে পর্যটকবান্ধব করতে হবে'
তৌফিক রহমান। পর্যটনই যার ধ্যান-জ্ঞান
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের নিয়ে প্রায় ২৮ বছর ধরে কাজ করছেন তৌফিক রহমান। তিনি বেসরকারি ট্যুর অপারেটর কোম্পানি ‘জার্নি প্লাসে’র কর্ণধার ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি একজন সুলেখক ও পর্যটনশিল্পের সামনের সারির সক্রিয় যোদ্ধা। পর্যটনশিল্পের উপর তিনি ৫টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।


নাট্যাঙ্গন থেকে উঠে আসা এই পর্যটনপ্রেমী পর্যটন বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন বেলজিয়াম, আমেরিকা, শ্রীলংকা ও হংকং থেকে। দুই যুগ ধরে তিনি শিক্ষার বাস্তবিক প্রয়োগ ঘটাচ্ছেন এদেশের পর্যটনশিল্প খাতে। দেশি ট্যুর অপারেটরদের শীর্ঘ সংগঠন ট্যুর অপারেটস অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াব) ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব। সেসাথে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে অতিথি প্রশিক্ষক হিসেবেও পাঠদান করেন। এছাড়াও দেশের পর্যটনশিল্পের বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।


সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান-১ নিকেতনে জার্নি প্লাসের প্রধান কার্যালয়ে বিবার্তার সাথে কথা বলেন তৌফিক রহমান। আলাপে উঠে এসেছে করোনার পর দেশের পর্যটনশিল্পের হালচালসহ নানান বিষয়। দীর্ঘ আলাপের চুম্বক অংশ বিবার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।


বিবার্তা: করোনা মহামারির পর দেশের ট্যুর অপারেটর ব্যবসায়ীরা কেমন আছেন?


তৌফিক রহমান: দেখুন, মহামারি করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে খাত, সেটি হলো পর্যটনশিল্প। করোনার কারণে পর্যটনশিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে সেটি পূরণ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ সময় লাগবে। তার কারণ হলো, এই খাতের সাথে জড়িয়ে আছে অনেকগুলি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। যেমন এয়ারলাইন্সসহ সকল পরিবহন, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ইত্যাদি। এই প্রত্যেকটি খাত আগে সম্পূর্ণভাবে ঠিক হতে হবে। তারপর আবার ট্যুর অপারেটরদের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।



বাঙালি ভ্রমণ পছন্দ করে। নদীমাতৃক বাংলাদেশজুড়ে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয়, নৈসর্গিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থান। বছরের বিভিন্ন সময় সুযোগ পেলেই মানুষ শহুরে ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে একটু বিনোদন ও আনন্দের খোঁজে ছুটে যান পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। শহুরে মানুষেরা মনের প্রশান্তির জন্য ছুটে যান পাহাড়, সমুদ্র, নদ-নদী ও নির্জন প্রকৃতির কাছে। মহামারি করোনার কারণে দুই বছর মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। সে কারণে ট্যুর অপারেটর ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসা করতে পারেননি। যাদের সামর্থ্য ছিল তারা ভর্তুকি দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নিয়েছেন। যারা পারেননি তারা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ অন্য পেশাকেও বেছে নিয়েছেন। ধীরে ধীরে দেশের সব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ট্যুর অপারেটর ব্যবসায়ীরাও আস্তে আস্তে নিজের ব্যবসাকে চালু করার চেষ্টা করছেন।


বিবার্তা: আপনার দৃষ্টিতে দেশের পর্যটনশিল্প খাতের বর্তমান অবস্থা কেমন?


তৌফিক রহমান: পর্যটনশিল্প খাতের তিনটি বিশেষ দিক রয়েছে। সেগুলি হলো, ইনবাউন্ড ট্যুরিজম, আউটবাউন্ড ট্যুরিজম ও ডমেস্টিক ট্যুরিজম। ইনবাউন্ড ট্যুরিজম হচ্ছে বিদেশি পর্যটকদের দেশে আনা। আউটবাউন্ড ট্যুরিজম হচ্ছে দেশের মানুষকে বিদেশে নেয়া আর ডমেস্টিক ট্যুরিজম হচ্ছে দেশের মানুষকে দেশ দেখানো। যান্ত্রিক নগরজীবন থেকে একটু সময়ের জন্য মুক্তি নিয়ে কর্ম ব্যস্ত মানুষেরা দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে যায়। অন্যদিকে দেশের বাইরে থেকে বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। পর্যটন আমাদের দেশের জন্য অপার সম্ভাবনাময় খাত। অভ্যন্তরীণ পর্যটনে বাংলাদেশ ভালো উন্নতি করেছে। বছরে অন্ততপক্ষে এখন ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়ায়। শুধু কক্সবাজারেই যায় প্রায় ২০ লাখ ভ্রমণপিপাসু মানুষ। অপরদিকে বিদেশি পর্যটক সে হারে বাড়ছে না। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে বাংলাদেশের কার্যক্রম খুবই কম। বিদেশিদের কাছে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোকে সঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। একইসঙ্গে বাংলাদেশে আসা বিদেশি পর্যটকদের দিক নির্দেশনা দেওয়ার মত দক্ষ জনবলেরও অভাব রয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলেও পর্যটনে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। তারপরও বাংলাদেশে পর্যটনে যা অর্জন তা মূলত বেসরকারি উদ্যোগেই হয়েছে।


বিবার্তা: পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের পথে প্রধান সমস্যাসমূহ কী কী?


তৌফিক রহমান: নানা প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনশিল্প খাত। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশের মানুষের বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। তবে একই সময়ে নানা প্রতিকূলতায় বিদেশ থেকে দেশে আসা পর্যটকের সংখ্যা সে হারে বাড়েনি। যদিও অনেক আগেই পর্যটনকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার দুই যুগ পেরিয়েছে। এ সময়ে এসে দেশে প্রতিবছর কতজন বিদেশি পর্যটক আসছে, কতজন দেশ থেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাচ্ছে, সে পরিসংখ্যান সুনির্দিষ্ট ভাবে কারো কাছে নেই। ইমিগ্রেশন বিভাগসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট কেউই এ তথ্য দিতে পারবে কি-না সন্দেহ আছে।