সময়োপযোগী শিক্ষা ছাড়া বিপিও শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২২, ২২:০১
সময়োপযোগী শিক্ষা ছাড়া বিপিও শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কোডও বদলে যায়। তাই স্টুডেন্টদের সময়োপযোগী আপডেটেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখাতে হবে। কেননা সময়োপযোগী শিক্ষা ছাড়া বিপিও শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব না। কেননা বিপিও শিল্প পুরোটাই নির্ভর করে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষতার ওপর। তাই এ খাতের উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া সময়ের দাবি।


সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ফিফোটেকের কার্যালয়ে বিবার্তা২৪ডটকমের সাথে একান্ত আলাপে কথাগুলো বলেছেন ফিফোটেকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন।


দীর্ঘ আলাপে উঠে আসে বাংলাদেশে বিপিও শিল্পের সূচনা, বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, দেশীয়-আন্তর্জাতিক বাজার, জনশক্তি ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক। আলাপের চুম্বক অংশ বিবার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।



বিবার্তা: বিপিও খাতে বাংলাদেশের শুরুটা কেমন ছিল?


তৌহিদ হোসেন: বাংলাদেশে বিপিও খাতের শুরুর দিকে যদি তাকাই, তাহলে দেখব ২০০৯ সালে মাত্র ১২টি সদস্য কোম্পানির ৯০০ কর্মাচারী নিয়ে এই খাতের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এই খাতে ২২৫টির বেশি সদস্য কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানিতে ৬৫ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মাচারী কাজ করছেন। প্রথম দিকে আমরা যারা এই ব্যবসা শুরু করি; এই ব্যবসার ভবিষ্যৎ কী হবে, কীভাবে কাজ করব, কতটা সফল হতে পারব, সেটা নিয়ে অনেকটা সন্দিহান ছিলাম। কেননা, যেখানে ভারত ১৯৯৭-৯৮ সাল এবং ফিলিপাইন ২০০৩ সাল থেকে কাজ করছে, সেখানে আমরা ২০০৯ সালে শুরু করেছি। এই কাজ করতে গিয়ে দেখি, আমাদের টেকনোলজিকেল অনেক ঘাটতি আছে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার তেমন মানসম্পন্ন না। এই খাতে কল সেন্টার নিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে এক্সপার্ট রিসোর্স নেই। সেসাথে দক্ষ জনবলের বড় ঘাটতি। কল সেন্টার তো বিদেশি কোম্পানির আউটসোর্সিং কাজ করে। আমাদের ইংলিশ মিডিয়ামের স্টুডেন্টরা অনেকটা সাবলম্বী। তাই তারা রাত জেগে কাজ করতে চায় না। এভাবে রাত জেগে কল সেন্টারে কাজ করার চিন্তাটা তো তাদের মাথায় আসেনি। অন্যদিকে, যাদের চাকরির দরকার তারা আবার সেভাবে ইংলিশ জানে না। সব মিলিয়ে শুরু দিকে আমরা একটা অনেক বড় ধাক্কা খেয়েছি। ওই পরিস্থিতিতে যারা যুদ্ধ করে টিকে ছিল, তারাই এখন সেক্টরে কাজ করছে।


বিবার্তা: ২০০৯ থেকে ২০২২। বিপিও খাতে কতদূর এগিয়েছে বাংলাদেশ?


তৌহিদ হোসেন: গত ১৩ বছরে বাংলাদেশে বিপিও খাত অনেক দূর এগিয়েছে। মূলত, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নেয়া পদক্ষেপ এই শিল্পখাতের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। দেখুন, ‍শুরুতে মাত্র ১২টা সদস্য কোম্পানির ৯০০ জন লোকবল নিয়ে এই খাতের যাত্রা শুরু হয়। ১৩ বছর পর এখন এই খাতে ২২৫টির বেশি সদস্য কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানিতে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ কাজ করছেন।


শুরুটা হয়েছিল কল সেন্টার দিয়ে। আজ এই খাত আর সেখানে দাঁড়িয়ে নেই। বরং সেবায় বৈচিত্র এসেছে। প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নানা ধরণের আউটসোর্সিংয়ের কাজ। দেশে যেমন বাজার বিস্তার ঘটছে, তেমন আন্তর্জাতিক বাজারও বাড়ছে। বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশ বিপিওর আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে। এই খাত আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিয়ে ক্রমেই উপরের দিকে উঠে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী।


আশার কথা হলো, দেশের মানুষ এখন বিপিও ব্যবসার ব্যাপারটা বোঝে। বিপিও খাতে তরুণদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তারা বিদেশি কাজগুলো আনার চেষ্টা করছে। ২০০৯ সালে স্টুডেন্টরা এই বিষয়টা তেমন ভাবে জানত না। তারা টিউশনি করত। এখন ওই স্টুডেন্টরা বিপিও সেন্টারে পার্টটাইম জব করার সুযোগ পাচ্ছে।



বিবার্তা: বিপিও খাতে উপযুক্ত অবকাঠামো তৈরি হয়েছে কী?


তৌহিদ হোসেন: বিপিও খাতের অবকাঠামোর বিষয়ে বলতে গেলে চলে আসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক, কানেকটিভিটি, লজিস্টিকস আর স্পেস। এই খাতের মূল কাজটাই করা হয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ২০০৯ সালে এক এমবিপিএস ইন্টারনেট কিনতে হত ৮০-৮৫ হাজার টাকা দিয়ে। এখন সেটির দাম ৯৯.৯৯% কমে গেছে। এখন ৩০০-৪০০ টাকা দিয়ে এক এমবিপিএস ইন্টারনেট কিনতে পারছি। এটা সম্ভব হয়েছে শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-এর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্বে। উনি এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়াও এখন সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সাশ্রয়ী ও সুলভ মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। সেসাথে বিদ্যুৎ সরবারহ ব্যবস্থাও অনেক উন্নত হয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। সেখানে জেনারেটর ও আইপিএস-এর মাধ্যমে ব্যাকআপ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ইকুপমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। তবে একটু বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এবারের বাজেটে ল্যাপটপ, ডেস্কটপপণ্য আমদানীতে ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হবে। এটা হলে প্রযুক্তিপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। অন্যদিকে, বিপিও খাতের জন্য প্রফেশনাল আইটি এক্সপার্ট তৈরিতে সরকারি ভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেটি বাস্তবায়নের ফলে এই খাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে এক্সপার্ট তৈরি হয়েছে। প্রশিক্ষণের জন্য কল সেন্টার তৈরি হয়েছে। ‍টেকনোলজির দিক থেকেও অনেক এগিয়েছে। সব মিলিয়ে এ খাতে কাজ করার মতো একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


বিবার্তা: এ খাতের বিকাশে কী কী বাধা রয়েছে?


তৌহিদ হোসেন: সব খাতেই কিছু না কিছু বাধা থাকে। বিপিও খাতেও কিছু বাধা রয়েছে। যেমন এবারের বাজেটে বলা হয়েছে, ল্যাপটপ আমদানীতে ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হবে। আবার দেশীয় পণ্যের উপর এই ভ্যাট থাকবে না। প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশীয় ল্যাপটপ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো কি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ল্যাপটপ দিতে কী প্রস্তুত আছে? ক্লায়েন্ট যখন কাজ দিবে তখন তো সার্ভিস দেয়ার জন্য চাইবে ডেল, আসুসস, এইচপি, এসআর-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিসম্পন্ন ল্যাপটপ। তখন আমরা তো আর ক্লায়েন্টকে সে সার্ভিসটা দিতে পারবো না। আমাদের জন্য এই জায়গাটাতেই এখন সবচেয়ে বড় বাধা বা চ্যালেঞ্জ। এটাকে মোকাবেলা করতে হবে।


বিবার্তা: এ খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো কী কী?


তৌহিদ হোসেন: বাংলাদেশের বিপিও সেক্টরে অনেকগুলি সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) এর একটা অংশ কন্ট্রাক সেন্টার। এ কারণে সম্প্রতি আমরা বাক্কোর নামে কিছুটা পরিবর্তন এনেছি। বাক্কোর নাম দিয়েছি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)। কন্টাক্ট সেন্টার হচ্ছে যেখানে কল করা হবে, মেসেজ পাঠানো হবে, চ্যাটিং করে মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে সার্ভিস দিবে। সবকিছু মিলে একটা প্যাকেজ সার্ভিস হিসেবে দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ডাটাএন্ট্রি, ইমেজ প্রসেসিং, নলেজ প্রসেসিং, ফাইনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং আউটসোর্সিং, মেডিকেল আউটসোর্সিং- এ ধরনের অসংখ্য কাজ রয়েছে যেগুলি বিপিওর অংশ।


বর্তমানে বিশ্বের উদীয়মান বিপিও দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে ব্যয় সাশ্রয়ী। এই খাতের চালিকাশক্তি তরুণ প্রজন্ম। বাংলাদেশে এখন তরুণদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। সরকার এই শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। টাইম জোনের দিক থেকে বাংলাদেশ ভৌগলিক অবস্থানভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। যেভাবে পরিকল্পনা করে খাতটি এগিয়ে যাচ্ছে, আশা করছি আগামীতে আন্তর্জতিক বিপিও বাজারে বাংলাদেশ একটা ভাল অবস্থান করে নিতে পারবে।



বিবার্তা: বিপিও শিল্পের উন্নয়নের নেপথ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো বিশেষ ভূমিকা রয়েছে কী?


তৌহিদ হোসেন: অবশ্যই রয়েছে। সময়োপযোগী শিক্ষা ছাড়া তো কোন শিল্পেরই উন্নয়ন সম্ভব না। আর বিপিও শিল্প তো পুরোটাই নির্ভর করে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষতার উপর। আমরা যদি ফিলিপাইনের দিকে তাকালে দেখি, সেখানে প্রথম বর্ষ থেকে স্টুডেন্টদেরকে আইটি, বিপিও কোর্স করানো হয়। তারা যখন চতুর্থ বর্ষ শেষ করে বের হয়, তখন তারা বিপিও সেক্টরে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। আমাদের দেশে চিত্র ভিন্ন। আমরা শিক্ষার জন্য যে কারিকুলাম পাই, সেটা থাকে পাঁচ বছরের আগের কারিকুলাম। পুরাতন কারিকুলাম পড়ে বর্তমান বাজারে আইটি সেক্টরে কাজ করা সম্ভব না। যেমন, ২০২২ সালে স্টুডেন্টকে যে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজটা শেখানো হচ্ছে সেটার কোডটা বানানো হয়েছে ২০১৭ বা ২০১৮ সালে। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের কোড চেঞ্জ হয়ে গেছে। ফলে ওই স্টুডেন্টকে কলেজের পাঠ শেষ করে সময়োপযোগী আপডেটেড প্রোগ্রামিং শিখে পরে কাজে নামতে হচ্ছে। আইটি খাতটা প্রতিনিয়তই আপডেটেড। ছয় মাস পর যদি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ চেঞ্জ হয়ে যায়, তাহলে সব আপেডেটেড হয়ে যায়। তাই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় একই কারিকুলাম টানা দুই বা তিন বছর রাখা ঠিক না।


বিবার্তা: আপনার দৃষ্টিতে বিপিও শিল্পের দেশীয় বাজারের অবস্থা কেমন?


তৌহিদ হোসেন: বিপিও সেক্টরের সার্বিক দিক বিবেচনায় আনলে আমরা আগের থেকে অনেকটা সাবলম্বী। এখন দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোম্পানিগুলো তাদের কাজগুলো তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে করছে। যেমন, টেলিকম, আইসিটি, স্বাস্থ্য, ই-কমার্স, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতের কাজগুলো আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করানো হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয় জনসেবা দিতে কন্ট্রাক সেন্টার করেছে। যেমন, জাতীয় জরুরি সেবা (৯৯৯), স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩), নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল (১০৯ বা ১০৯২১), চাইল্ড হেল্প লাইন (১০৯৮) ইত্যাদি।


বিপিও সেবা গ্রহণের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে টেলিকমিউনিকেশন খাত। এছাড়া ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজম, মিডিয়া অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট, হেলথকেয়ার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনার্জি অ্যান্ড ইউলিটি, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার, ওয়েবপোর্টাল, সরকার, পরিবহন ইত্যাদি।


এসব খাতের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে, যাদেরকে বাক্কোর সদস্যরা সফলভাবে সেবা দিয়েছে। এই তালিকায় আছে এয়ারটেল, বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, রবি, টেলিটক, ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকো, ইউনিলিভার, নেসলে, কিউবি, বিকাশ, বিক্রয় ডটকম, স্যামসাং, ইউএনডিপি, আইএফসি, প্রাণ, বিমান বাংলাদেশ, ট্রান্সকম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, আবুল খায়ের গ্রুপ ও আকিজ গ্রুপ।


তবে এখনও পর্যন্ত ব্যাংক খাতটা তাদের কাজ দেয়ার ব্যাপারে তেমন উৎসাহী না। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বেসরকারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কোর ব্যাংকিংটা নিজেদের কাছে রেখে কাজ করতে স্বচ্ছন্দবোধ করে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে যাতে তাদের কাজগুলো তৃতীয়পক্ষকে দিয়ে করিয়ে নেয়।



বিবার্তা: বিপিও খাতের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)। এ খাতের উন্নয়নে সংগঠনটি কীভাবে ভূমিকা রাখছে?


তৌহিদ হোসেন: বিপিও খাতে উন্নয়নে বাক্কোর ভূমিকার কথা যদি বলেন, তাহলে আমি বলবো মাত্র ১২ জন সদস্য কোম্পানি নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ২২৫ জন। বাক্কোর সদস্যরা সবাই সাংগঠনিকভাবে চেষ্টা করছি অন্যান্য কাজগুলো নিয়ে আসার জন্য। বিপিও সেক্টর মানে শুধু কন্ট্রাক সেন্টার না। পুরো বিশ্বের বিপিও সেক্টরের কথা যদি চিন্তা করেন, তাহলে কন্ট্রাক সেন্টারের মাত্র ৭% কাজ আছে। বাকি ৯৩% কাজই ডাটাএন্ট্রি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ফিনান্সিয়াল আউটসোর্সিং, মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশনসহ অন্যান্য কাজগুলো আমরা সাধারণত দেশের মধ্যেই পাই। এছাড়াও এ কাজগুলো যেনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরো পাই, এর জন্য দেশভিত্তিক পরিকল্পনা করছি। সে পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করছি।


বিবার্তা: একটু ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন। আপনি ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?


তৌহিদ হোসেন: ভবিষ্যতে এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে কোনো তরুণ-তরুণী তাদের বাবা-মাকে গিয়ে বলবে না আমাকে হাত খরচ বা পড়াশোনার জন্য টাকা দাও। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি ইনকাম করবে, নিজের সব খরচ নিজে চালাবে। আর বাবা-মাকে বলবে, এই নাও টাকা। আমি পড়াশোনা করেও এই টাকা ইনকাম করেছি। এভাবে তারা যেনো পরিবারে আর্থিক সাপোর্ট দিতে পারে। দেশ যেনো শিক্ষিত বেকারমুক্ত হয়।


বিবার্তা/গমেজ/রোমেল/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com