সাক্ষাতকার
ইভিএম একটা চুরির বাক্স: আবদুস সালাম আজাদ
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২২, ১৬:২৩
ইভিএম একটা চুরির বাক্স: আবদুস সালাম আজাদ
কিরণ শেখ
প্রিন্ট অ-অ+

আবদুস সালাম আজাদ। এক সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক ছিলেন। পরে ১৯৭৩ সালে আদর্শিক মতবিরোধের কারণে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠালগ্নে এই দলের সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে জগন্নাথ কলেজের ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় যুবদলের দফতর সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদে থেকে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন।


২০১৫ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যুর পরে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তে যুবদল থেকে আবদুস সালাম আজাদ দলটির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির (ঢাকা বিভাগ) সাংগঠনিক সম্পাদক।


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আন্দোলন, জাতীয় সরকারসহ নানা বিষয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে কথা হয় আবদুস সালাম আজাদের। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক কিরণ শেখ।


বিবার্তা: কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আপনি মনোনীত হয়েছেন, নতুন এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে দলকে কিভাবে সহযোগিতা করতে চান?


আবদুস সালাম আজাদ: বিএনপির নেতৃত্বে আগামী দিনে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম হোক, এই লক্ষ্যে আমার সবকিছু বিসর্জন দিয়ে হলেও দলের জন্য কাজ করে যাবো। আর বিএনপির নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক শাসন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করব। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সুখী সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করব।


বিবার্তা: আন্দোলন নিয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্ম-পরিকল্পনা কি?


আবদুস সালাম আজাদ: আন্দোলন নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্ম-পরিকল্পনা আছে। সেটা আমরা রাজপথে প্রমাণ করব। আর ওই আন্দোলন খুব শিগগির আপনারা দেখতে পাবেন। কিন্তু বিএনপিকে ভেঙে দেয়ার জন্য দেশে-বিদেশি অনেক চক্রান্ত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। কারণ বিএনপি থাকলে দেশে গণতন্ত্র থাকবে, এই দল থাকলে দেশের সার্বভৌমত্ব থাকবে। তাই আগামী দিনে জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বেই দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মাঝে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।


বিবার্তা: বিএনপি আন্দোলনের কথা বলছে, এই কর্মসূচির জন্য কি আপনারা চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত?


আবদুস সালাম আজাদ: একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য বিএনপি চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত আছে। শুধু বিএনপি না, এখন যে পরিবেশ লক্ষ্য করছি-সবাই একটা পরিবর্তন চায়। এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটা দল চায়। সেই হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বিকল্প কোন দল এদেশে নেই। কারণ শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিকল্প এখন বাংলাদেশে নাই। আর তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।


বিবার্তা: রাজপথের আন্দোলনে বিএনপি বারবার ব্যর্থ হয়েছে, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই কি এ ব্যর্থতা?


আবদুস সালাম আজাদ: বিএনপি ব্যর্থ হয়নি। আর দেশের মানুষ এখন একটা পরিবর্তন চায়। বিএনপি বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে সেই পরিবর্তনের আশা করছে। এই স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা পরিবর্তন ঘটাতে পারব। এটা আমরা বিশ্বাস করি।


বিবার্তা: ইভিএমে ভোট পদ্ধতি নিয়ে আপনার মতামত কি?


আবদুস সালাম আজাদ: ইভিএম তো একটা ভোট চুরির বাক্স। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বৃহৎ আকারে কারচুপি করতেই এই বাক্স তৈরি করা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে এদেশে কোন নির্বাচন হবে না। ইভিএমে নির্বাচন তো প্রশ্নই ওঠে না।


বিবার্তা: শেষ পর্যন্ত যদি ইভিএম পদ্ধতিতেই নির্বাচন হয়, বিএনপি কি সেই ভোটে যাবে?


আবদুস সালাম আজাদ: এই চুরির বাক্স দিয়ে শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছেন। কিন্তু এই চুরির বাক্স তো দূরের কথা শেখ হাসিনার অধীনেও বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।



বিবার্তা: আন্দোলনের বিষয়ে ডেডলাইন দিয়েও কর্মসূচিতে না যাওয়ার কোনো অভ্যন্তরীণ কারণ আছে?


আবদুস সালাম আজাদ: বিএনপি তো আন্দোলনে আছে। ক্ষমতাসীনরা বিএনপিকে নির্মূল করে দেয়ার চক্রান্ত করছে। কিন্তু সেটা হবে না। কারণ বিএনপি দিন দিন আরো বেশি শক্তিশালী হচ্ছে।


বিবার্তা: জাতীয় সরকারের রূপরেখা কি হবে? আওয়ামী লীগ বলছে, সময়মতো নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতা আছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?


আবদুস সালাম আজাদ: জনগণের ভাবনার মধ্যে তো আওয়ামী লীগ নাই। তারা চাচ্ছে, যেনতেনভাবে একটা নির্বাচন করার। সেই কারণে তারা বলছেন যে, আপনারা (বিএনপি) আসেন- আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন দেবো। কিন্তু তাদের কথা সঠিক নয়। কারণ গত নির্বাচনের আগেও শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমাদের উপর আস্থা রাখুন। ওনার সেই কথাগুলো কি সঠিক ছিল? সঠিক ছিল না। বরং উল্টো হয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার এবং শেখ হাসিনার অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।


বিবার্তা: কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?


আবদুস সালাম আজাদ: আগামীর বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠবে- এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য, মূল চেতনা এবং বিশ্বাস। আর আমরা আশা করি, বিএনপি এবং বাংলাদেশের জনগণ গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এই স্বৈরাচার সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জাতীয় সরকারের মধ্যে দিয়ে একটা সুন্দর রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম হবে।


বিবার্তা/কিরণ/রোমেল/এসএফ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com